ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

ভালোবাসার বিয়ে, অতঃপর প্রতারণা!

Rate this item
(0 votes)

মেয়েটি ভালোবেসে বিয়ে করেছিল ছেলেটিকে। প্রায় দেড় বছরের ভালোবাসার সম্পর্ককে স্থায়ী রূপ দিতে বাবা-মাকে না জানিয়েই একদিন ঘর ছেড়েছিল মেয়েটি। ঢাকার একটি কাজি অফিসে ছেলের বন্ধুদের উপস্থিতিতে বিয়ে করার পর মেয়েটি গিয়ে ওঠে ছেলের ভাড়া করা বাড়িতে। বিয়ের প্রথম কয়েক মাস সুখেই কাটে। হঠাৎ মেয়েটি ছেলের এক বন্ধুর কাছ থেকে জানতে পারে ছেলেটি এর আগে বিয়ে করেছিল। আগের স্ত্রীকে ছেলেটি গ্রামের বাড়িতে তাঁর মা-বাবার সঙ্গে রেখেছে। মেয়েটি প্রথমে বিশ্বাস করতে চায়নি। ছেলেটিকে আগের স্ত্রীর কথা জিজ্ঞেস করলে প্রথমে অস্বীকার করলেও

পরে সব সত্য বের হয়ে আসে। মেয়েটি ভাবে, যে মানুষটিকে অন্ধের মতো ভালোবেসেছে, সে-ই তার সঙ্গে এমন প্রতারণা করতে পারল। মেয়েটি তার স্বামীর শাস্তি চায়। কিন্তু কীভাবে?
মেয়েটির মতো অনেকের সঙ্গেই এমন ঘটনা ঘটে থাকে। তখন চাইলে প্রতারণার জন্য প্রচলিত দণ্ডবিধি আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।

ভালোবাসার বিয়ে এবং বিয়ে-সংক্রান্ত অপরাধ
প্রচলিত আইনে বিয়ে নিয়ে যেকোনো অপরাধের জন্য কঠিন শাস্তির বিধান আছে। দণ্ডবিধির ৪৯৩ ধারা থেকে ৪৯৬ ধারা পর্যন্ত বিয়ে-সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের শাস্তির বিধান আছে, যার অধিকাংশ অপরাধই জামিন-অযোগ্য। আলোচ্য ঘটনাটির ক্ষেত্রে মেয়েটি দণ্ডবিধির ৪৯৫ ধারায় মামলা করতে পারে ছেলেটির বিরুদ্ধে।
৪৯৫ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি দ্বিতীয় বা পরবর্তী বিয়ে করার সময় প্রথম বা পূর্ববর্তী বিয়ের তথ্য গোপন রাখেন, তা যদি দ্বিতীয় বিবাহিত ব্যক্তি জানতে পারেন, তাহলে অপরাধী ১০ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ৪৯৪ ধারায় উল্লেখ আছে, যদি কোনো ব্যক্তি এক স্বামী বা এক স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও পুনরায় বিয়ে করেন, তাহলে দায়ী ব্যক্তি সাত বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। তবে যে সাবেক স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় বিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, বিয়ের সময় পর্যন্ত সে স্বামী বা স্ত্রী যদি সাত বছর পর্যন্ত নিখোঁজ থাকেন এবং এ ব্যক্তি বেঁচে আছেন বলে কোনো সংবাদ না পান, তাহলে এ ধারার আওতায় তিনি শাস্তিযোগ্য অপরাধী বলে গণ্য হবেন না। ধারা ৪৯৩ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো নারীকে প্রতারণামূলকভাবে আইনসম্মত বিবাহিত বলে বিশ্বাস করান, কিন্তু আদৌ ওই বিয়ে আইনসম্মতভাবে না হয় এবং ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন, তবে অপরাধী ১০ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। ৪৯৬ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি আইনসম্মত বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া প্রতারণামূলকভাবে বিয়ে সম্পন্ন করেন, তাহলে অপরাধী সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
এ ছাড়া কোনো মুসলমান ব্যক্তি প্রথম স্ত্রী থাকলে সালিসি পরিষদের অনুমতি ছাড়া এবং প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে করেন, তিনি ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৬(৫) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করবেন। অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হলে ব্যক্তিকে এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।