ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Rate this item
(0 votes)

অতি পরিচিত সবজি মুলা। প্রায় সারা দেশে চাষ হয়। কতভাবেই না খাওয়া যায় মুলা। এই সবজির এত যে কদর, তা তো শুধু স্বাদের গুণে না, পুষ্টিগুণেও অনন্য। বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টি ও পথ্যবিদ শামছুন্নাহার নাহিদ জানালেন, মুলা শুধু পুষ্টি পূরণ করে না, শরীরে রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। তবে জেনে রাখা ভালো, যাঁরা উচ্চমাত্রায় গ্যাস্ট্রিক সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা মুলা খাওয়ার পরিমাণটা কমিয়ে দিতে পারেন। আর যাঁরা হইপো থাইরয়েডিজমে আক্রান্ত, তাঁদের মুলা এড়িয়ে চলাই ভালো। এবার জেনে নেওয়া যাক মুলার গুণাগুণ সম্পর্কে।জন্ডিস প্রতিরোধে: জন্ডিসের

চিকিৎসায় মুলা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। এর শক্তিশালী উপাদানগুলো পাকস্থলী ও যকৃতের ক্ষতিকারক উপাদানগুলো শরীর থেকে বের করে দেয়। এ ছাড়া মুলা বিলিরুবিনের মাত্রা কমিয়ে আনতেও সাহায্য করে। এ ছাড়া রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।
প্রস্রাবের সমস্যায়: প্রস্রাবের সমস্যায় সাধারণত চিকিৎসকেরা ডাউরেটিক-ধরনের ওষুধ দিয়ে থাকেন। আর মুলাকে বলা হয় প্রাকৃতিক ডাউরেটিক। মুলা প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া কমিয়ে দিতে সক্ষম। সেই সঙ্গে প্রস্রাবে যেকোনো ধরনের সংক্রমণও রোধ করতে পারে মুলা।
ওজন কমাতে: মুলায় খুব কম ক্যালরি থাকায় বেশি খেয়ে ফেললেও শরীরে চর্বি জমার আশঙ্কা থাকে না একেবারেই। আর এই সবজিতে আছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ; যেটি বিপাকীয় কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া মুলা মেটাবলিজমের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে ওজন কমাতে উল্লেখযোগ্য সাহায্য করে।
ক্যানসার প্রতিরোধে: মুলার উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন-সি, অ্যানথোসায়ানিন, ফলিক অ্যাসিড রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক কার্যকরী। এ ছাড়া মুলার ডিটক্সিফায়িং সক্ষমতা থাকায় ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়ার আছে এক অন্যতম ক্ষমতা। বিশেষ করে মুখ, পাকস্থলী, অন্ত্র, কিডনি এবং কোলন ক্যানসারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী।
পাইলস চিকিৎসায়: পাইলস হওয়ার প্রধান কারণ সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য। আর এই রোগটির বিরুদ্ধে লড়তে মুলার জুড়ি নেই। এ ছাড়া শরীরের পানিশূন্যতা রোধ করে। সেই সঙ্গে হজমেও সাহায্য করে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত মুলা খেলে পাইলস হওয়ার প্রবণতা কমে যায় অনেকটা।
ত্বকের সমস্যা: এতে থাকা ভিটামিন-বি, জিংক, ফসফরাস এবং ভিটামিন-সি ত্বক সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। মুলায় থাকা পানি ত্বকের আর্দ্রতা ঠিক রাখে। এ ছাড়া রুক্ষ ত্বকের সুরক্ষায়ও উপকারী।
জ্বরের ওষুধ: যাঁরা জ্বরে ভুগছেন, তাঁদের জন্য সুখবর। মুলা খেলে আপনা থেকেই শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়।