ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

বসন্ত জাগুক ঘরে ঘরে

Rate this item
(0 votes)

আর মাত্র কিছুদিন বাকি, এর পরই প্রকৃতি সাজবে বসন্তের নবরূপে। বসন্তের ছোঁয়া থেকে আপনার ঘরই বা বাদ যাবে কেন? বরণের প্রস্তুতি নিন ঋতুরাজ আসার আগেই। বাসন্তী ফুলের সৌন্দর্য-সৌরভে ঘর ভরিয়ে দিতে কিন্তু ছোট একটি ফুলদানিই যথেষ্ট। ঘরের এক কোণে বা সেন্ট্রাল টেবিলে ছোট সে ফুলদানিতে রাখতে পারেন মন মাতানো সব বাসন্তী ফুল। তাজা ফুল ফুরিয়ে গেলে শখের ফুলদানিটি সাজাতে পারেন কৃত্রিম ফুলেও। ব্যস, তাতেই আপনার ঘরের চেহারা বদলে যাবে। আসবে ভিন্ন এক আভিজাত্য।
ঘর সাজানোর উপকরণ হিসেবে ফুলদানির ব্যবহার নতুন নয়। একটা সময় ছিল যখন

ঘরে ঘরে ফুলদানি শোভা পেত। ফুলদানি সাজতো একগুচ্ছ গোলাপ কিংবা রজনীগন্ধায়। কিন্তু দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের রুচিতেও এসেছে নতুনত্ব, ঘর সাজানোয় যুক্ত হয়েছে আরও নানা উপকরণ। তবে ফুলদানি হারিয়ে তো যায়ইনি বরং সেজেছে নতুন আঙ্গিকে। এখন নানা ধরনের নানা আকৃতির ফুলদানি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। নিজের রুচি ও পছন্দ ফুটিয়ে তুলতে ফুলদানি নির্বাচন এবং ফুল সাজানোয় একটু সচেতন হতে হবে। যেনতেনভাবে যেখানে-সেখানে ফুলদানি রাখবেন না। ঘরের যে জায়গায় রাখতে চান সেখানকার পরিবেশ বিবেচনা করেই ফুলদানি কিনতে হবে। তা ছাড়া কী ধরনের ফুল থাকছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ড্রেসিং টেবিল, বেডরুম, এমনকি খাবার টেবিলেও ফুলদানি রাখা যেতে পারে। আপনি যদি ফুলকে বেশি প্রাধান্য দিতে চান, তাহলে খুব সাধারণ ডিজাইনের ফুলদানি ব্যবহার করুন। ফুলদানির ডিজাইন যদি জমকালো হয়, তাহলে ফুল রাখুন খুব অল্প।
শুধু ঘর নয়, সিঁড়ির ধাপে ধাপে মাটির ফুলদানিতে গাছ বা পাতাবাহার রাখতে পারেন। এমন ফুলদানিতে ফুল রাখতে পারেন বাড়ির প্যাসেজ এমনকি বারান্দায়ও। প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম, যে ফুলই ব্যবহার করুন না কেন, ফুলদানিটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। প্রাকৃতিক ফুলের ক্ষেত্রে প্রতিদিন পানি পরিবর্তন করুন। কৃত্রিম ফুল মাসে একবার ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিষ্কার করুন।

ফুলদানি বাছাই ও ফুল সাজানো
ফুলদানি বাছাই ও ফুল সাজানোর ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে, সে সম্পর্কে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন ফারজানা’স ব্লিসের ইনটেরিয়র ডিজাইনার ফারজানা গাজী। তাঁর পরামর্শগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. ঘরের পরিবেশের সঙ্গে মিল রেখে ফুলদানি নির্বাচন করুন। ফুলদানি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ঘরের আসবাবের কথাও মাথায় রাখতে হবে।
৩. ফুলদানি রাখতে ঘরের কোণগুলো ব্যবহার করতে পারেন। সেন্ট্রাল টেবিল বা সাইড টেবিল, যেখানেই ফুলদানি রাখুন না কেন, টেবিলের আকৃতির সঙ্গে ফুলদানির আকৃতি সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
৪. কী ধরনের ফুল রাখবেন, সেসবের রং চিন্তা করে ফুলদানি নির্বাচন করুন। হরেক রঙের বাহারি ফুলের জন্য একরঙা ফুলদানি ব্যবহার করতে পারেন।
৫. ফুলের পরিবর্তে ফুলদানিতে গাছও রাখা যায়। এতে আপনার ঘরে এক ধরনের সবুজ ভাব আসবে।
৭. প্রাকৃতিক ফুলের জন্য স্ফটিক কিংবা মাটির ফুলদানিও ব্যবহার করতে পারেন। কৃত্রিম ফুলের জন্য যে ফুলদানিই নির্বাচন করুন না কেন, তা যেন স্বচ্ছ না হয়। স্বচ্ছ হলে ছোট ছোট মার্বেল, ঝিনুক ব্যবহার করুন, যাতে একটি প্রাকৃতিক ভাব আসে।
৮. প্রাকৃতিক ফুলে অনেক সময় অ্যালার্জি হতে পারে, তাই বাচ্চাদের ঘরে তা না রাখাই ভালো। খাবার ঘর বা খাবার টেবিলে প্রাকৃতিক ফুল বা পাতা রাখতে পারেন। এতে খাবার টেবিলের সৌন্দর্য বাড়বে।
৯. প্রাকৃতিক ফুল বেশিদিন টিকিয়ে রাখার জন্য প্রতিদিন একটু একটু করে ফুলের ডাঁটা কেটে দিন। পানির মধ্যে অল্প একটু লবণ মিশিয়ে দিন। এ ছাড়া অবশ্যই প্রতিদিন পানি পরিবর্তন করুন।
১০. ছোট-বড় নানা আকৃতির ফুলদানি দিয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন আপনার বসার ঘর। বসার ঘরের সোফা যদি কাঠের হয়, তাহলে যেকোনো ফুলদানিই মানিয়ে যাবে। কিন্তু চামড়ার কভার দেওয়া সোফার সঙ্গে ক্রিস্টাল, চীনামাটি বা কাচের ফুলদানি ব্যবহার করুন।
১১. শোকেসেও সাজিয়ে রাখতে পারেন ফুলদানি। এক্ষেত্রে এলোমেলোভাবে না রেখে ছোট থেকে বড় বা বড় থেকে ছোট এভাবে সাজানো যেতে পারে।

কোথা থেকে কী কিনবেন
ফ্যাশন হাউস আড়ংয়ে মাটি ও সিরামিকের তৈরি নানা আকৃতি ও ডিজাইনের ফুলদানি পাবেন। দাম পড়বে ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা। অটবিতে কাচ ও সিরামিকের পাশাপাশি কাঠের তৈরি বিভিন্ন ডিজাইনের ফুলদানি পাওয়া যাবে। ৩০০ থেকে দুই হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে ফুলদানি কিনতে পারবেন এখান থেকে।
নিউমার্কেট ঘুরে কিনতে পারেন মেটাল, প্লাস্টিক-ফাইবার, কাচ, সিরামিক, বাঁশ ও বেতের তৈরি নানা ধরনের ফুলদানি। কাচের ফুলদানির দাম পড়বে ১৫০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। সিরামিক ৫০০ টাকার মধ্যে। মেটাল, প্লাস্টিক ইত্যাদি ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে হাজার খানেকের মধ্যে।
এ ছাড়া মাটির তৈরি বিভিন্ন ফুলদানির পসরা রয়েছে দোয়েল চত্বর ও এলিফ্যান্ট রোডে। রাজধানীর বিভিন্ন শপিং মলেও পাওয়া যাবে বড়-ছোট হরেক রকম ও নকশার ফুলদানি। এসব দোকানে ফুলদানির সঙ্গে পাবেন কৃত্রিম ফুলও।