ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

প্রশান্তিতে স্নিগ্ধতায়

Rate this item
(0 votes)

ক্লান্ত থাকলে সবার আগে মনে হয় ইস, বিছানায় যদি একটু শরীর এলিয়ে দিতে পারতাম। গৃহিণী বা কর্মজীবী—ব্যস্ত দিনশেষে শোবার ঘরটাই বেশি প্রিয় মনে হয়। ফলে শোবার ঘরটা পরিপাটি ছিমছাম না থাকলে মেজাজ যে বিগড়ে যাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।স্থপতি বা ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা তাই বাড়ির অন্যান্য ঘরের থেকে শোবার ঘরটাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। মন-মেজাজ ভালো থাকবে কি না, তা অনেকটা নির্ভর করে শোবার ঘরসজ্জার ওপর। মনে রাখতে হবে, শোবার ঘরে যতটা সম্ভব কম আসবাব রাখতে হবে। চারদিকে জায়গা থাকলে গুমোট মনে হবে না।সকালে

যাঁরা তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে পড়েন, তাঁরা হয়তো শোবার ঘরটা এলোমেলো করে বের হন। দিনশেষে যখন ফিরলেন বাসায়, দেখলেন এদিক-সেদিক সকালের ফেলে যাওয়া জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। তখন ক্লান্ত শরীরে ইচ্ছা করে না ঘরটা গোছানোর। তাই সকালে বের হওয়ার আগে যতটা সম্ভব যেখানকার জিনিস সেখানে রেখে যেতে হবে। গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোরশেদা বেগম বলেন, সকালের অপরিচ্ছন্ন কাপড়গুলো একটা ঝুড়িতে রেখে দিতে পারেন। তাহলে ঘরে ঢুকেই দেখতে হবে না ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কাপড়। এ ছাড়া আসবাবের বাহুল্য না থাকাই ভালো। সবচেয়ে বড় কথা পরিচ্ছন্ন পরিপাটি রাখতে হবে।

শোবার ঘরে দেয়ালের রং গাঢ় থাকলে বিছানার চাদর হবে হালকা রঙের।মেঝের টাইলসের রংটাও হালকা হতে হবে। হালকা রঙের বিছানার চাদর ব্যবহার করলে তাড়াতাড়ি ময়লা হয়ে যায়। এমনটা অনেকে ভাবেন। তাঁরা চাইলে ছোট ম্যাট বা শতরঞ্জি ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে বিছানার চাদর কম ময়লা হবে। তবে ম্যাট বা শতরঞ্জি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

ফর্ম থ্রি আর্কিটেক্টস-এর অ্যাসোসিয়েট স্থপতি আন্তা শরীফ বলেন, শোবার ঘর পুরোপুরি ব্যক্তিগত জায়গা। একেকজন একেকভাবে সাজাতে পারেন। শোবার ঘরের দেয়ালের রং হালকা হওয়া ভালো। বিশেষ করে হালকা রঙের বিছানার চাদর ব্যবহার করতে পারেন। এতে ঘরে স্নিগ্ধভাব থাকবে।

শোবার ঘরে আলো-আঁধারি পরিবেশ তৈরি করতে হলে ঘরের কোণে বড় কোনো ল্যাম্পশেড রাখতে পারেন। অনেকে বিছানার পাশের টেবিলে ল্যাম্পশেড রাখতে চান। সেটিও করতে পারেন। এ ছাড়া এই ঘরে মৃদু নরম আলো ব্যবহার করা ভালো। চোখে বিরক্তি লাগবে না।

শোবার ঘরের বিছানা সাধারণত একটু বড় আকারের হয়ে থাকে। ফলে আলমারি, ড্রেসিং টেবিল ও গান শোনার যন্ত্র রাখতে পারেন। কেউ কেউ টিভি রাখেন। আবার অনেকে টিভি রাখতে চান না।

শোবার ঘরের সঙ্গে কমবেশি সবারই বারান্দা থাকে। এই বারান্দায় ফুলের গাছ ও গাছগাছালি রাখলে মনটা ফুরফুরে ও সতেজ থাকবে। বাইরে থেকে ফিরে বারান্দার দরজা খুলে দিলে ফুলের গন্ধ ঘরে একধরনের প্রশান্তি এনে দেবে।