ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

লোকে তারে ডাকে চোখ ওঠা বলে

Rate this item
(0 votes)

এটি একটি সাধারণ সমস্যা। সারা বছরই চোখ ওঠার সমস্যা থাকে অনেকেরই। তবে শীতের শুরুতে বা গরমের শুরুতে অর্থাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে এর প্রকোপ বাড়ে। চোখ ওঠার চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় নাম হলো কনজাংটিভাইটিস। এটি চোখের কনজাংটিভা স্তরের প্রদাহ। তবে চোখ লাল হলেই চোখ উঠছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না। নানা কারণে চোখ লাল হতে পারে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)-এর চক্ষু বিভাগের অধ্যাপক জাফর খালেদ বলেন, ভাইরাসজনিত কনজাংটিভাইটিসের বা চোখ ওঠার তেমন কোনো

চিকিৎসা নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোনো চিকিৎসা ছাড়াই সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে, শিশুদের ক্ষেত্রে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই কনজাংটিভাইটিস ভালো হয়ে যায়।

কীভাবে বুঝবেন চোখ উঠেছে
 চোখ লাল হওয়া
 চোখ জ্বলা এবং চোখে অস্বস্তি হওয়া
 চোখ থেকে পানি বা শ্লেষ্মাজাতীয় পদার্থ বের হওয়া
 অতিরিক্ত পিচুটি বের হতে থাকা।

কেন চোখ ওঠে
ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, কোনো রাসায়নিক পদার্থ বা অ্যালার্জির কারণে চোখ উঠতে পারে । ভাইরাসজনিত কারণে হলে অনেক সময় এক চোখ আক্রান্ত হয় এবং তার সঙ্গে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণও থাকতে পারে। ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণে চোখ উঠলে কিছুটা হলদে রঙের পুঁজের মতো নিঃসরণ হবে চোখ থেকে।

চিকিৎসা
কনজাংটিভাইটিসে স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধ কখনোই ব্যবহার করা যাবে না। এতে চোখের ক্ষতি হতে পারে। এমনকি দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণে কনজাংটিভাইটিস হলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো নিতে হবে অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ। অ্যালার্জিজনিত কনজাংটিভাইটিসে লাগবে অ্যান্টিহিস্টামিন-জাতীয় ওষুধ। প্রাথমিকভাবে বাড়িতে পানিতে পরিষ্কার তুলা বা কাপড় ডুবিয়ে চোখে আলতোভাবে চেপে ধরতে পারেন। এ ছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির তোয়ালে, নিত্যদিনের ব্যবহার্য কাপড়ও অন্যদের ব্যবহার করা উচিত নয়। এগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পরিষ্কার করতে হবে।