ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

সুবন্ধু সমীপেষু

Rate this item
(0 votes)

আমার বয়স ২৮ বছর। একটি বেসরকারি ব্যাংকে কাজ করছি। সাত বছর আগে একটি মেয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক হয়। একপর্যায়ে আমি তার পরিবারের সঙ্গে বিয়ে নিয়ে কথা বলি। কিন্তু মেয়েটি এবং তার পরিবার কয়েকবার বিয়ের তারিখ ঠিক করেও কথা রাখতে পারেনি। এ নিয়ে তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখাত।এরপর লেখাপড়া শেষ করে চাকরি শুরু করি এবং মেয়েটাকেও চাকরির ব্যবস্থা করে দিই। কিছুদিন আগে মেয়ের পরিবার বিয়ের কথা চূড়ান্ত করে। কিন্তু মেয়েটা হঠাৎ করে বিয়ে পিছিয়ে দেয়। আমি তাকে অনেক বিশ্বাস করতাম বলে এ কথাটাও মেনে

নিয়েছিলাম। কিন্তু সে হঠাৎ করেই অন্য এক ছেলেকে বিয়ে করে ফেলে। অথচ বিয়ের আগের দিন পর্যন্তও তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল। জানতে পারি, ওই ছেলের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিল। আমি যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে বলে আমি নাকি তাকে বিরক্ত করি। তার জন্য আমি আর্থিকসহ নানা রকম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। মানসিক যন্ত্রণা অসহ্য হয়ে উঠেছে। আমি এখন কী করতে পারি?
নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক

 সাত বছর সম্পর্কের পর মেয়েটা তোমাকে ছেড়ে চলে গেল। এটা তোমার জন্য অবশ্যই কষ্টকর। মেয়েটি তোমাদের সম্পর্কের ব্যাপারে শ্রদ্ধা রেখে তোমার কাছ থেকে বিদায় নেয়নি। তোমাদের বিচ্ছেদটা ঘটল অসততা দিয়ে, এটা খুবই দুঃখজনক।

আমি বলব, তুমি মেয়েটির সঙ্গে কিংবা তার পরিবারের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রেখো না। প্রথমে কষ্ট হবে। তবে অযথা হয়রানি আর অপমানের স্বীকার হওয়ার চেয়ে এই কষ্টটা সহ্য করা শ্রেয়।

 আমি সবার সঙ্গে মিশতে খুব ভালোবাসি এবং অল্প সময়েই মিশে যেতে পারি। যেকোনো বিষয়ে আমার চিন্তাধারাগুলো খুবই ইতিবাচক। ফলে দেখা যায় যখন সবকিছু আমার ভাবনার মতো হয়ে ওঠে না তখন খুব কষ্ট পাই। আর এটা সামনের দিনগুলোতে আমাকে পোড়াবেই। আমার অতীতের ছোট-বড় যেকোনো ভুলই খুব খুব পীড়া দেয় আমাকে (প্রেমঘটিত কোনো ভুল নয়)।
সব সময় মেধাশূন্যতা অনুভব করি। এইমাত্র একটা জিনিস শুনলাম বা পড়লাম, একটু পরই আর মনে থাকে না। কারও সঙ্গে কোনো বিষয়ে নিয়ে কথা বলছি, দেখা যায় ওই বিষয়ে একটা কথা মাথায় এসেছে বলব, কিন্তু বলতে গিয়ে দেখি ওটা মাথায় আর নেই। আমিও আর গুছিয়ে বলতে পারলাম না। তখন নিজের প্রতি খুব অনীহা জন্মে, নিজেকে গুটিয়ে নিতে খুব ইচ্ছা হয়।
আবার দেখা যায় যখন অতীত আমাকে পীড়া দিচ্ছে, তখন কেউ যত গুরুত্বপূর্ণ কথাই বলুক না কেন আমার মাথায় কিছুই ঢুকছে না, আমি কিছুই শুনছি না। এ নিয়ে আমি অনেক দিন ধরে খুব চিন্তায় আছি।
নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক
 তুমি অত্যন্ত বেশি চিন্তা করছ নিজেকে নিয়ে এবং তোমার ভুলে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে। তুমি যত চিন্তা করছ, তত বেশি ওটা তোমাকে পেয়ে বসছে।
তুমি নিজেকে ঠিক রাখার জন্য অনেক ধরনের স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর অনুশীলন করতে পারো। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে এসব অনুশীলনী পাওয়া যায়। Lumosity বলে একটা প্রশিক্ষণ আছে, সেটা নিতে পারো। আবার নিয়মিতভাবে শব্দজট সমাধান করতে পারো। এ ধরনের কাজ স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। পাশাপাশি তুমি কোনো থেরাপি নিলে ভালো হয়। তোমার যে অতিরিক্ত চিন্তা হচ্ছে সাইকোথেরাপি বিশেষজ্ঞের চিকিৎসায় ভালো হবে বলে আমি আশা করছি।
 আমি স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ছি। প্রায় এক বছর আগে মুঠোফোনে একটি মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করি। একপর্যায়ে আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমি মাঝেমধ্যে তাকে ফোন দিলে একজন পুরুষ ধরতেন। মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করলে বলত ছোট ভাই। হঠাৎ একদিন মেয়েটিকে ফোন করলে সেই পুরুষকণ্ঠ বলেন, ‘আপনি যার সঙ্গে কথা বলেন, তিনি আমার ভাবি।’ আমি শুনে হতবাক হয়ে যাই।
এক দিন পর মেয়েটি আমাকে ফোন করে এবং দেখা করতে চায়। আমি রাজি হই। এরপর আমাদের মধ্যে বেশ কয়েকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। একদিন তার স্বামী আমার ফোন ধরে বলেন, ‘এই নম্বরে আর ফোন দেবেন না।’ এরপর মেয়েটি তার সব নম্বর বন্ধ করে দিয়েছে। আমি এখন কী করব বুঝতে পারছি না। আমি কি তার একজন ভালো বন্ধু হতে পারতাম না? কেন মেয়েটি আমাকে এড়িয়ে চলছে? আমার সন্দেহ যে, মেয়েটির দেবরের সঙ্গে তার সম্পর্ক থাকতে পারে। নাকি নতুন কোনো বন্ধু সে পেয়েছে? যে মেয়ে আমাকে না পেলে আত্মহত্যা করবে বলত, সে মেয়ে কেন এভাবে হাসতে হাসতে পালিয়ে যাবে?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
 মেয়েটি তোমার সঙ্গে মেলামেশা করেছিল কী কারণে সেটার বিশ্লেষণে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে এখন সম্পর্কটির সমাপ্তি টানা প্রয়োজন। এ রকম সম্পর্কের পর ঠিক ‘বন্ধু’ হয়ে থাকা যায় না। সেটা যদি হতো তাহলে অনেক মানুষ প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিতাড়িত হয়ে বন্ধু হয়ে থাকত।
তোমার বয়স অল্প, তোমার একটা ভবিষ্যৎ আছে, এ সম্পর্কের পেছনে ঘুরেফিরে বেড়ানোতে তোমার ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

 আমি উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছি। মাধ্যমিক শেষ হওয়ার পর পাশের বাড়ির এক মেয়ের সঙ্গে আমার প্রেম হয়। একপর্যায়ে সবার অজান্তে হিন্দুরীতি অনুযায়ী আমি তার সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দিই। উচ্চমাধ্যমিক পড়ার জন্য যখন আমি হোস্টেলে থাকি তখন তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করি। ভেবেছিলাম সবাই আমাদের প্রেমে বাধা দেবে—এ ভয়েই দূরে সরে যাই। কিন্তু এখন সব যখন আমি বুঝতে পারি তখন তাকে ভালোবাসতে প্রচণ্ড ইচ্ছা হয়। কিন্তু আমার এ মুখ নিয়ে তার সামনে দাঁড়াতে পারি না। ইতিমধ্যে সে অন্য এক ছেলের সঙ্গে নাকি সম্পর্ক করেছে। এখন আমি কী করতে পারি।
তন্ময়
টুটপাড়া, খুলনা।
 এ সম্পর্ককে তোমার ছেলেবেলার প্রেম বলা যেতে পারে। এই বয়সের প্রেম খুব বেশি দিন এমনিতেও টেকে না।
এখন মেয়েটি অন্য এক ছেলের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় তোমার এ সম্পর্ক থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াটাই শ্রেয়।