ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Rate this item
(0 votes)

বড়দের সম্মান করব। তাঁদের অভিজ্ঞতার ঝুলি ছোটদের থেকে বেশি—এসব কথা আমরা কম-বেশি সবাই জানি। অনেক সময় দেখা যায়, প্রজন্মের ব্যবধানের কারণে কর্মক্ষেত্রে মতপার্থক্য হয়। ভুল বোঝাবুঝি হয়। বয়োজ্যেষ্ঠ সহকর্মীরা শুধু দাপ্তরিক বিষয়েই নন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিষয়েও পরামর্শ দেন। তরুণ কর্মী হয়তো এ বিষয়টি সহজভাবে নিতে পারেন না। এই অযাচিত পরামর্শ তাঁর বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।এই বিষয়ে কথা হয় গ্রো এন এক্সেলের প্রধান নির্বাহী এম জুলফিকার হোসেনের সঙ্গে। তিনি মনে করেন, প্রজন্মের ব্যবধান থাকবেই প্রতিষ্ঠানে। সব বয়সের সব ধরনের

কর্মীর চেষ্টায় প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যায়। তবে দুই-তিন প্রজন্মের ব্যবধান থাকলে দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা হবে, এটি খুব স্বাভাবিক। এই বিষয়টি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে যেমন বুঝতে হবে, তেমনি নতুন তরুণ কর্মকর্তাকেও বুঝতে হবে। আর এখনকার তরুণদের আশা, আকাঙ্ক্ষা ও তাঁদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ভিন্ন। সেটি বুঝেই তাঁদের নিয়ে কাজ করতে হবে। এই যেমন তরুণেরা চান কাজের যথাযথ মূল্যায়ন, তাঁরা আনন্দদায়ক পরিবেশে কাজ করতে চান, নিজের কাজে স্বাধীনতা চান। তাঁরা মতামত প্রকাশ করেন নিজের মতো করে। তরুণদের এই ধরন বুঝেই ওদের কাজে যুক্ত করতে হবে। আবার কাজে ভুল করলে বা নতুন কিছু শেখানোর জন্য কখনো কখনো তাঁর সমালোচনাও করতে হবে।
তাহলে তাঁরা কাজটা শিখবেন। কিন্তু একই ভুলের কথা বারবার বলাও যাবে না। মূল কথা হলো, প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে বন্ধন সুদৃঢ় করা। তাঁদের পারস্পরিক বোঝাপড়া ভালো হলে এসব কোনো সমস্যা তৈরি করে না।
আসলে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন, তার ওপরও নির্ভর করে তিনি আপনার বিষয়ে ব্যক্তিগত কথা বলবেন কি না। সম্পর্ক যদি সহজ হয় বা তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত কথা শেয়ার করেন, সে ক্ষেত্রে তিনি বলতে পারেন।
আপনার ব্যক্তিগত বিষয়ে অন্যের হস্তক্ষেপ বা কথা বলা পছন্দ না করলে, শ্রদ্ধা ও বিনয়ের সঙ্গে সরাসরি বলা ভালো। তাহলে তিনি বুঝবেন। অনেকে মনে করেন, এর জন্য চাকরি ছেড়ে দেবেন। কিন্তু এটি কোনো সমাধানের পথ হতে পারে না। তার পরও যদি মনে করেন, এটি আপনার জীবনে মানসিক অবসাদ ডেকে আনছে, তাহলে অবশ্যই বিকল্প পথ খুঁজবেন।