ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Friday, 28 February 2014 18:31

কাবুলে জঙ্গি হামলায় জাতিসংঘ কর্মকর্তাসহ ২১ জন নিহত

Rate this item
(0 votes)

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি রেস্তোরাঁয় গত শুক্রবার রাতে আত্মঘাতী হামলায় জাতিসংঘ ও আইএমএফের কর্মকর্তাসহ অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ জন বিদেশি ও আটজন আফগান নাগরিক। হামলায় আহত হয়েছে অন্তত পাঁচজন। তালেবানের পক্ষ থেকে এ হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন ব্রিটিশ, দুজন  কানাডীয়, দুজন লেবাননি নাগরিক রয়েছেন। রাশিয়ার নাগরিক রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেলেও পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে পাঁচজন নারী, চারজন জাতিসংঘের কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আফগানিস্তান অফিসের প্রধানও রয়েছেন। নিহত জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের জাতীয় পরিচয় জানা যায়নি।


শুক্রবার রাতে কাবুলের অভিজাত ওয়াজির আকবর খান এলাকায় লেবাননি নাগরিকের মালিকানাধীন ‘তাবারনা দু লিবান’ নামের একটি রেস্তোরাঁয় এ হামলার ঘটনা ঘটে। রেস্তোরাঁটির প্রবেশপথে এসে প্রথমে একজন আত্মঘাতী হামলাকারী নিজের দেহে লুকিয়ে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এর পর দুজন বন্দুকধারী রেস্তোরাঁয় খেতে আসা লোকজনের ওপর গুলি ছুড়তে শুরু করে। এ সময় অনেক কাস্টমার টেবিলের নিচে শুয়ে পড়ে আত্মরক্ষা করেন।
কাবুলের অভিজাত এলাকাটিতে অনেক দূতাবাস ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে। ফলে সেখানে কর্মরত কূটনীতিক, বিদেশি পরামর্শক, সাহায্যকর্মীসহ বেশির ভাগ বিদেশি ব্যক্তিই খাওয়া-দাওয়া করতেন রেস্তোরাঁটিতে। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় বিদেশিরা রাতের খাবার খেতে রেস্তোরাঁটিতে জড়ো হওয়ার পর হামলাটি চালানো হয়। তাবারনার নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কঠোর। কমপক্ষে লোহার তৈরি দুটি বিশাল গেট পার হয়ে রেস্তোরাঁটির ভেতরে ঢুকতে হয়। তা সত্ত্বেও হামলা ঠেকাতে পারেনি নিরাপত্তা বাহিনী।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আইএমএফ কর্মকর্তার পরিচয় জানা গেছে। তিনি আফগানিস্তানে আইএমএফের প্রধান ছিলেন। জাতিসংঘের চার কর্মকর্তার পরিচয় জানা যায়নি। হামলায় রেস্তোরাঁটির লেবাননি মালিকও মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর নাম কামাল হামেদ।
হামলার পর অনেক সময় নিয়ে উদ্ধারকাজ চালায় পুলিশ। ওত পেতে থাকা জঙ্গিরা আবারও হামলা করতে পারে এই আশঙ্কায় ছিলেন পুলিশ সদস্যরা। মধ্যরাত পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চলে। গতকাল সকালে রেস্তোরাঁটিতে গিয়ে দেখা যায়, খাবারগুলো এখানে সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। ফটকটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
হামলার ঘটনায় বিভিন্ন দেশ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন একে ‘এক ভয়াবহ আক্রমণ’ বলে বর্ণনা করেছেন। জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক বলেছেন, ‘বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো এ ধরনের হামলা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন। এগুলো এখনই বন্ধ করতে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেন সাকি হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান। হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কোনো কর্মী নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।
আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ওমর দাউদজাই জানিয়েছেন, হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার কারণে স্থানীয় কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
আফগানিস্তানের তালেবানের এক মুখপাত্র নিহত ব্যক্তিদের জার্মান নাগরিক বলে দাবি করেছেন। কিন্তু বার্লিন থেকে জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তাদের কোনো নাগরিক আছে কি না তা তারা নিশ্চিত নয়।
তালেবানদের দায় স্বীকার : তাবারনা রেস্তোরাঁয় হামলার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে তালেবান জঙ্গিরা। তাদের মুখপাত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের পারওয়ান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার প্রতিশোধ নিতেই এ হামলা চালানো হয়েছে। আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই জানিয়েছিলেন, ওই হামলায় সাত শিশু ও এক নারীর মৃত্যু হয়। জাহিদ মুজাহিদ নামে তালেবানদের ওই মুখপাত্র গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, অনুপ্রবেশকারী শক্তির বোমা হামলায় অনেক বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছে। এর প্রতিশোধ নিতেই এই হামলা।