ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Friday, 28 February 2014 18:23

ঐকমত্য উৎসাহিত করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব

Rate this item
(0 votes)

গঠনমূলক সংলাপের মধ্য দিয়ে ঐকমত্যের মধ্য দিয়ে অবাধ ও সংঘাতমুক্ত নির্বাচনকে উৎসাহিত করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। সম্প্রতি তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে চিঠি পাঠিয়ে ওই উৎসাহ দেন। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আবদুল মোমেন গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানান। তিনি আরো বলেন, চিঠিতে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে ঢাকায় পাঠানোর কথাও জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। আগামী শুক্রবার তারানকোর ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।


জাতিসংঘ মহাসচিবের চিঠিতে কী আছে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও সংঘাতহীন নির্বাচন যাতে হয় সে জন্য তিনি উৎসাহিত করেছেন। ম্যাডাম জিয়াকে (বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া) তিনি বলেছেন, আমি আপনাকে অবাধ, সুষ্ঠু ও সংঘাতমুক্ত নির্বাচনের বিষয়ে পারস্পরিক ঐকমত্যের জন্য সংলাপে উৎসাহিত করছি।’
এ কে আবদুল মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠির প্রথম দিকে তিনি (বান কি মুন) তাঁর (শেখ হাসিনার) খুব প্রশংসা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের যে অঙ্গীকার করেছেন বান কি মুন এর প্রশংসা করেছেন।
বান কি মুন প্রধানমন্ত্রীকে লিখেছেন, ‘আপনি সর্বদলীয় সরকার (মন্ত্রিসভা) করেছেন। এটি একটি ভালো লক্ষণ। নির্বাচন নিয়ে ঐকমত্যের বিষয়টি বিবেচনার জন্য আমি (বান কি মুন) আপনাকে (শেখ হাসিনা) অনুরোধ জানাব।’
ড. মোমেন বলেন, ‘জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশকে অনেক পছন্দ করেন। তিনি বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন। তিনি বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা করেছেন।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে লেখা চিঠিতে জাতিসংঘ মহাসচিব গঠনমূলক ও অর্থবহ সংলাপের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বলেও ড. মোমেন জানান।
অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে ঢাকায় পাঠানোর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বান কি মুন চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে লিখেছেন, তিনি (শেখ হাসিনা) যদি তারানকোকে সাক্ষাৎ দেন তাহলে বান কি মুন কৃতজ্ঞ থাকবেন।
ড. মোমেন বলেন, ‘তারানকোর সফরের ব্যাপারে প্রথমে আমাদের (জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন) অনুমতি চাওয়া হয়েছে। আমরা অনুমতি দিয়েছি। আমাদের লুকানোর কিছু নেই। আমরা বলেছি, ইউ ক্যান কাম অ্যান্ড ট্রাই ইউর লাক (আপনি আসতে পারেন এবং নিজের ভাগ্য যাচাই করতে পারেন।)
ড. মোমেন আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লেখার আগেও জাতিসংঘ মহাসচিবের কার্যালয় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনকে জানিয়েছে। ওরা জানতে চেয়েছে, চিঠি পাঠানো ঠিক হবে কি না। আমরা বলেছি, পাঠান।’
এরপর প্রধানমন্ত্রীকে লেখা বান কি মুনের চিঠি পাওয়ার পর নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন তা বাংলাদেশে পাঠায়। এরপর বাংলাদেশে জাতিসংঘের কার্যালয় থেকেও পাঠানো হয়।
বিরোধীদলীয় নেতার কাছে লেখা জাতিসংঘ মহাসচিবের চিঠি কিভাবে এসেছে জানতে চাইলে ড. মোমেন বলেন, সেটি বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আসেনি। বাংলাদেশে জাতিসংঘের কার্যালয় তা পৌঁছে দিয়েছে।