ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Friday, 28 February 2014 18:22

জাতিসংঘ ওয়েবসাইটে বাংলার স্থান গৌরবের, দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা দূরে নয়

Rate this item
(0 votes)

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, গত বছর জাতিসংঘ তার ওয়েবসাইটে বিশ্বের অন্য ছয়টি ভাষার সঙ্গে বাংলাকেও স্থান দিয়ে বাংলাদেশকে গৌরবান্বিত করেছে। তিন বছর ধরে জাতিসংঘ শহীদ মিনারকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রতীক হিসেবে তাদের ওয়েবসাইটে প্রচার করছে। এটি ভাষাশহীদদের প্রতি বিরল সম্মানের সাক্ষ্য বহন করছে। আব্দুল মোমেন আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার প্রস্তাব দিয়েছেন গত দুটি সাধারণ অধিবেশনে। হয়তো সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন বাংলা জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদাও লাভ করবে।



গতকাল শুক্রবার নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আব্দুল মোমেন এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের গণতথ্য বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেবোরা সেওয়ার্ড মহাসচিব বান কি মুনের বাণী পড়ে শোনান।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেন, 'এই পৃথিবীকে আরো বাসযোগ্য করার, সবার জীবন ও সম্মানকে সমান উচ্চতায় তুলে ধরার যে প্রচেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি, তাতে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বহুভাষিক শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হাতিয়ার হতে পারে। আসুন, আমরা সবাই সেই অভিযাত্রায় শামিল হই।'

অনুষ্ঠানে রাশিয়ার স্থায়ী মিশনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি (প্রথম), ইউনেসকোর পরিচালক ভিবেক জেনসেন, জাপান মিশনের কর্মকর্তা মিজ এরিকো ইউমোরা একুশের ওপর বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা ছাড়াও অনুষ্ঠানে শিল্পীরা গান গেয়ে শোনান।

এর আগে স্থায়ী মিশন মিলনায়তনে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ মিনারের বেদিতে স্থায়ী প্রতিনিধি, পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক ছাড়াও কূটনীতিক ও বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে যথাযোগ্য মর্যাদায় অমর একুশে পালিত হচ্ছে। ফ্রান্সের প্যারিসে ইউনেসকো সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা এবং বাংলাদেশের আয়োজনে সংগীতানুষ্ঠান হয়।

ইউনেসকোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বলেন, 'কেবল স্থানীয় ভাষার স্বীকৃতির মধ্য দিয়েই উঠে আসতে পারে সব মানুষের বক্তব্য। আমাদের সামষ্টিক ভাগ্য নির্ধারণে তাদেরও অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। ঠিক এ কারণেই মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত সাত হাজার ভাষার ঐকতান অটুট রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইউনেসকো।'

ইরিনা বোকোভা বলেন, মানুষের নিজের ভাষা কিভাবে তার জ্ঞানার্জনের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারে, কিভাবে তা ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে সবার মাঝে- সে বিষয়টিই তুলে ধরা হয়েছে এবারের মাতৃভাষা দিবসের প্রতিপাদ্যে।