ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Friday, 28 February 2014 18:21

দক্ষিণ সুদানে শান্তিরক্ষী বাড়াবে জাতিসংঘ

Rate this item
(0 votes)

দক্ষিণ সুদানে শান্তিরক্ষীর সংখ্যা দ্বিগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। জাতিগত সংঘাত ঠেকাতে গত সোমবার নিরাপত্তা পরিষদের কাছে এ আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি দেশটিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্তেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সংঘাত নিরসনে দক্ষিণ সুদানের প্রেসিডেন্ট সালভা কির ও বিদ্রোহী নেতা রিয়েক মাশার সংঘাত নিরসনে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আলোচনার জন্য মাশার প্রথমে শর্ত বেঁধে দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেন।



স্বাধীনতার মাত্র দুই বছর পরই অস্থিতিশীলতার শিকার হয়েছে দক্ষিণ সুদান। গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে দেশটিতে সহিংসতা চলছে। পরিস্থিতি ক্রমেই ঘোলাটে হয়ে উঠছে। প্রেসিডেন্ট কিরের নৃতাত্তি্বক গোষ্ঠী দিনকা ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাশারের গোষ্ঠী নুয়েরের মধ্যে সংঘাতে হাজারেরও বেশি প্রাণহানির অভিযোগ উঠেছে।

জাতিসংঘ গতকাল মঙ্গলবার জানায়, দেশটির ১০টি প্রদেশের বেশির ভাগেই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। ৪৫ হাজার লোক জাতিসংঘের বিভিন্ন স্থাপনায় আশ্রয় নিয়েছে। দাতব্য সংস্থাগুলোর মতে, হাজার হাজার লোক ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বিচারে হামলা ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তারা অন্তত ২০০ লোককে হত্যা করেছে। দিনকা গোষ্ঠীর যোদ্ধারা সংখ্যালঘু নুয়েরদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বান কি মুন গত সোমবার নিরাপত্তা পরিষদকে দক্ষিণ সুদানের শান্তিরক্ষীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করার আহ্বান জানান। সেখানে এখন ছয় হাজার ৭০০ শান্তিরক্ষী সেনা ও ৬৭০ জন পুলিশ রয়েছেন। মুন নিরাপত্তা পরিষদের কাছে আরো সাড়ে পাঁচ হাজার শান্তিরক্ষী পাঠানোর আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্র আফ্রিকায় অবস্থানকারী মার্কিন সেনাদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। মুন বলেন, 'বিশ্ব দক্ষিণ সুদানের সব পক্ষের অবস্থানেই নজর রাখছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্ত করবে। এর জন্য দায়ীদের জবাবদিহি করা হবে এবং তাদের কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।'

মাশার রয়টার্সকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুজান রাইস ও জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি হিলডে জনসনের সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁর। তিনি সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি আছেন। তবে এ জন্য সরকারি বাহিনীর হাতে আটক তাঁর সমর্থকদের মুক্তি দাবি করেন তিনি। তথ্যমন্ত্রী মিখায়েল মাকুয়েই বলেন, 'মাশারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে চান প্রেসিডেন্ট। তবে সরকার তাঁর শর্ত মানতে পারবেন না। অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছে এমন কাউকে মুক্তি দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এই অপরাধীদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তাই মাশারকে নিঃশর্তভাবে আলোচনায় আসতে হবে।' পরে শর্ত প্রত্যাহার করে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত আছেন বলে জানান মাশার।