ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Friday, 28 February 2014 18:18

১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ডকে 'চরম উদ্বেগজনক' বলেছে জাতিসংঘ

Rate this item
(0 votes)

১৫২ জন বিডিআর জওয়ানকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়ার ঘটনাকে 'চরম উদ্বেগজনক' বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার নাভি পিল্লাই। বার্তা সংস্থা এএফপি গতকাল বুধবার এ কথা জানায়। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ঢাকার পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের সময় হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে আদালত গত মঙ্গলবার ১৫২ জন বিডিআর জওয়ানকে মৃতু্যদণ্ডাদেশ দেন।

 

এএফপি জানায়, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের রায়ের পর জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার নাভি পিল্লাই জেনেভায় এক বিবৃতি দিয়েছেন। এতে তিনি বিডিআর বিদ্রোহের সময় সংঘটিত অপরাধকে 'জঘন্য' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আরো বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার যথার্থ মান অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়ে থাকলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে না।

'অবিচার' বলেছে অ্যামনেস্টি : পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের হত্যামামলায় ১৫২ জনের মৃতু্যদণ্ডের রায়কে একটি অবিচার বলে সমালোচনা করেছে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এই বিচারকে একটি নিষ্ঠুর প্রতিহিংসা উল্লেখ করে সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, বিচারকালে আসামিদের সময়মতো আইনজীবীর সহায়তা না পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে এবং এবং তাঁদের ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন চালানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার সংস্থাটি ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতিতে এই সমালোচনা তুলে ধরে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপপরিচালক পলি ট্রাস্কট বলেন, 'আজকের (মঙ্গলবারের) রায়টির মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিফলিত হয়নি। এ রায় যদি কার্যকর করা হয়, তাহলে এর ফলাফল হবে এর মধ্য দিয়ে আরো ১৫২টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটবে।'

পিলখানায় ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) বিদ্রোহের সময় জঘন্য হত্যাযজ্ঞের নিন্দা পুনর্বযক্ত করে ট্রাস্কট বলেন, 'এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই যে ২০০৯ সালে অনেকগুলো বর্বর ঘটনার মধ্য দিয়ে বিদ্রোহটি সংঘটিত হয়েছিল। এতে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছিল এবং এই খবরে পুরো জাতি হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিল। এতে বোঝা যায়, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ এর বিচারের মাধ্যমে ঘটনাটির একটি সমাপনী রেখা টানতে চায়।  কিন্তু এর বিচার করতে গিয়ে যদি মৃতু্যদণ্ডের মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়, তাহলে কেবল দুর্ভোগই বাড়বে।'

অ্যামনেস্টির উপপরিচালক ট্রাস্কট আরো বলেন, 'এই দণ্ডের মধ্য দিয়ে বেসামরিক আদালতের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মানুষের আস্থা তৈরিতে আরেকটি সুযোগ হারাবে বাংলাদেশ। কিন্তু এই বিচারের মাধ্যমে কেবল প্রতিশোধের নিষ্ঠুর তৃপ্তিই পাওয়া যাবে।