ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Thursday, 27 February 2014 21:20

তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় পাকিস্তানের সহায়তা কামনা

Rate this item
(0 votes)

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই তাঁর সরকারের সঙ্গে তালেবানের শান্তি আলোচনার আয়োজনে সহায়তা করতে পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

কারজাই গতকাল সোমবার পাকিস্তান সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করে এই সহায়তা কামনা করেন। একই সঙ্গে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের সঙ্গে যৌথ অভিযানে অংশ নিতে ইসলামাবাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নওয়াজের সঙ্গে বৈঠকের পর কারজাই ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের বলেন, আফগানিস্তান আশা করে, তালেবানের সঙ্গে আফগান হাই কাউন্সিলের শান্তি আলোচনার সুযোগ বা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিতে সহায়তা করবে পাকিস্তান। কারজাই বলেন, ‘আশা করি, এটাই আমাদের প্রধান আলোচ্যসূচি হবে। যার মাধ্যমে আমরা উভয় দেশকে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।’

আফগান প্রেসিডেন্ট বলেন, এই মুহূর্তে সন্ত্রাসবাদই পাকিস্তানের জনগণের জন্য প্রথম উদ্বেগের বিষয়। গত এক দশকে সন্ত্রাসী হামলায় পাকিস্তানে অনেক মানুষ হতাহত হয়েছে। আফগানিস্তানের পরিস্থিতিও পাকিস্তানের মতোই। এখন প্রাথমিকভাবে দুই সরকারের মনোযোগের মূল কেন্দ্র এটাই হওয়া উচিত।

 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ আফগানিস্তানকে সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ মীমাংসায় পাকিস্তান সর্বাত্মক ও আন্তরিক সহায়তা দিয়ে যাবে।’

 

২০১৪ সালে আফগানিস্তান থেকে সব বিদেশি সেনা প্রত্যাহার হওয়ার কথা। তার আগে তালেবানের সঙ্গে কারজাইয়ের শান্তি আলোচনায় বসার এই আগ্রহকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

গত জুনে কাতারে তালেবান আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের কার্যালয় স্থাপন করলে ক্ষুব্ধ হন কারজাই। এর কঠোর সমালোচনাও করেন তিনি। আর এখন সেই তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পাকিস্তানের সহায়তা চাইছেন কারজাই। তালেবান আগেই ঘোষণা দিয়েছে, তারা আফগান সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করবে না। তারা প্রেসিডেন্ট কারজাইকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পুতুল’ বলেও আখ্যা দেয়।

 

কারজাই গতকাল সকাল ১০টার দিকে ইসলামাবাদের অদূরে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে অবতরণ করেন। সেখানে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ তাঁকে স্বাগত জানান।

অভিযোগ রয়েছে, পাকিস্তান তালেবানকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে থাকে। অবশ্য আফগানিস্তানে সহিংসতা বন্ধ করতে পাকিস্তান সব সময় সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আসছে।