ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Thursday, 27 February 2014 21:19

পারমাণবিক কর্মসূচি আরও এগিয়ে নেবে পাকিস্তান

Rate this item
(0 votes)

পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচি আরও এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় কমান্ড কর্তৃপক্ষ (এনসিএ)। দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি দেখভাল করে সরকারের এই উচ্চক্ষমতা-সম্পন্ন কর্তৃপক্ষটি। বাইরের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘পূর্ণমাত্রার নিরোধক’ গড়ে তুলতে বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এনসিএ হচ্ছে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গবেষণা, উন্নয়ন, পারমাণবিক সামগ্রী তৈরি, ব্যবহার এবং সেগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় পাকিস্তানের মূল নীতি নির্ধারণী সংস্থা। গত বৃহস্পতিবার সংস্থাটি এক বৈঠকে মিলিত হয়। এর প্রাথমিক খবরে বলা হয়েছিল, বৈঠকের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র ভান্ডার নিরাপদে রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন।
বর্তমানে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও পারমাণবিক কর্মসূচি উন্নয়নের এ পদক্ষেপের ঘোষণা দিল পাকিস্তান।
গত জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর পারমাণবিক নীতি বিষয়ে কোনো বৈঠকে নওয়াজ শরিফের এটাই ছিল প্রথম অংশগ্রহণ। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নওয়াজের দ্বিতীয় মেয়াদেই ১৯৯৮ সালে সব ধরনের আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছিল পাকিস্তান। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতি-বেশী ভারতের পারমাণবিক পরীক্ষার জবাবে ওই পরীক্ষা চালানো হয়।


পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করতে চাওয়ার পেছনে বিশৃঙ্খল আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক পারমাণবিক অস্ত্রবিস্তার রোধ ব্যবস্থাপনার ‘বৈষম্যমূলক নীতিকে’ বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এনসিএর বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির মুখে পাকিস্তান নিস্পৃহ থাকতে পারে না। সব ধরনের আগ্রাসন প্রতিরোধ করতে তারা পূর্ণমাত্রার নিরোধক সক্ষমতা গড়ে তুলবে।’ বিবৃতিতে এই পারমাণবিক কর্মসূচিকে দেশের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
পারমাণবিক কর্মসূচির আরও উন্নয়ন ঘটানো মানে, বর্তমানে এ ধরনের কর্মসূচির যেসব ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করা হয়, সেগুলো পূরণ করা হবে। পাকিস্তান এরই মধ্যে সেদিকে অগ্রসর হয়েছে। ভারতের কোল্ড স্ট্রাট তত্ত্ব (পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর তৈরি মতবাদ) জবাবে পাকিস্তান স্বল্পপাল্লা ও নিম্নস্তরের কৌশলগত বিভিন্ন অস্ত্র তৈরি করেছে। পাকিস্তান যে ক্রমবর্ধমানভাবে পারমাণবিক কর্মসূচির উন্নয়নে মনোযোগী হচ্ছে দেশটির স্বল্পপাল্লার এনএএসআর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রচলন এবং ক্ষুদ্র সংস্করণের ওয়্যারহেড তৈরির কর্মসূচিগুলো থেকে তার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
‘পারমাণবিক নিরাপত্তার গুরুত্ব বোঝে পাকিস্তান’: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, পারমাণবিক নিরাপত্তার গুরুত্ব পরিপূর্ণভাবে বোঝে, এমন দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ নিরাপত্তা বাহিনী পাকিস্তানের রয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় প্রচারিত ওই বিবৃতিতে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জেন পিসাকি নিরস্ত্রীকরণ ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে পাকিস্তান তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করায় দেশটিকে ধন্যবাদও দিয়েছেন।