ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Thursday, 27 February 2014 21:10

‘সম্পর্ক পর্যালোচনা করা হবে’

Rate this item
(0 votes)

 

 

 

ড্রোন হামলায় পাকিস্তান তালেবানের প্রধান হাকিমুল্লাহ মেহসুদের নিহত হওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্ককে নতুন করে চাপের মুখে ফেলেছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী খান গত শনিবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পর্যালোচনা করা হবে।


মেহসুদের ওপর শুক্রবারের হামলার ঘটনাকে ‘আঞ্চলিক শান্তির ওপর মার্কিন আক্রমণ’ বলে আখ্যায়িত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিসার। অন্যদিকে ড্রোন হামলায় টিটিপি নেতার মৃত্যু পাকিস্তান সরকার ও তালেবানের শান্তি আলোচনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে—এ আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এটা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।
ইসলামাবাদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিসার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পর্যালোচনা করার কথা বলেন। তিনি বলেন, এ বিষয়টি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে তোলা হবে। মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যরাষ্ট্রকেও বিষয়টি অবহিত করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নিসার জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও সম্পর্কের বিষয়টি পর্যালোচনা করতে জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এ বৈঠক হবে। বিষয়টি নির্ভর করছে যুক্তরাজ্য সফররত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দেশে ফেরার ওপর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিসার বলেন, ‘ড্রোন হামলায় কে বা কারা নিহত হয়েছেন, তা প্রাসঙ্গিক নয়। পাকিস্তান সরকার ড্রোন হামলাকে কোনো ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর হামলা বলে বিবেচনা করছে।’
চৌধুরী নিসার আলী খান বলেন, তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া শুরুর খুব কাছে চলে গিয়েছিল সরকার। ধর্মীয় নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের সরকারি প্রতিনিধিদল শনিবার সকালে তেহরিক-ই-তালেবানের (টিটিপি) সঙ্গে আলোচনার জন্য রওনা দেওয়ার কথা ছিল। হাকিমুল্লাহ মেহসুদও এ আলোচনার শুরুর বিষয়টি জানতেন।
নিসার প্রশ্ন তোলেন, ‘আলোচনা শুরুর এক দিন আগে ড্রোন হামলা চালানোকে কি শান্তি প্রক্রিয়ার উদ্যোগে সমর্থন জানানো বলা যায়?’
যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ মিত্র। পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী। তবে এ অভিযানের অংশ হিসেবেই জঙ্গি-অধ্যুষিত এলাকায় অব্যাহত ড্রোন হামলা, পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে গোপন অভিযানে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা ও মার্কিন হামলায় বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হওয়াসহ বিভিন্ন ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কে সাম্প্রতিক সময়ে তিক্ততার সৃষ্টি হয়।
মেহসুদ নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে ইসলামাবাদে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রিচার্ড ওলসানকে তলব করেছে পাকিস্তান। গত শনিবার পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করার কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শুক্রবারের ড্রোন হামলা পাকিস্তান ও এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রচেষ্টাকে ভন্ডুল করে দিয়েছে।’ বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতদের ওই দেশের সরকারের কাছে পাকিস্তানের উদ্বেগ তুলে ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিসার বলেন, ড্রোন হামলায় শান্তি প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এ বার্তা তুলে ধরে হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাতেই মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে।
‘রসদের পথ বন্ধ করলেই ড্রোন হামলা বন্ধ হবে না’: পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী পারভেজ রশিদ গতকাল বলেছেন, পাকিস্তান ন্যাটোর রসদ সরবরাহের পথ বন্ধ করে দিলেই মার্কিন ড্রোন হামলা বন্ধ হবে না। তাই ন্যাটোর রসদ সরবরাহের পথ বন্ধ করা হবে না বলে জানান তিনি। গতকাল লাহোরে এক হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
আফগানিস্তানে নিযুক্ত ন্যাটো বাহিনীর রসদ সরবরাহের জন্য পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করা হয়।
তালেবান-পাকিস্তান আলোচনা অভ্যন্তরীণ বিষয়: যুক্তরাষ্ট্র
পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে তালেবানের আলোচনার প্রক্রিয়াকে ইসলামাবাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান জঙ্গিবাদ দমন এবং স্থিতিশীল অঞ্চল গড়তে কাজ করে যাচ্ছে। তবে তালেবানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়।