ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

পৃথিবীর যে গ্রামে কোন রাস্তা নেই!!!

Rate this item
(0 votes)

পৃথিবীতে এমন একটি গ্রাম আছে যেখানে কোন রাস্তা নেই। এই গ্রামটি প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১২৩০ সালে, তখন এই গ্রামের নাম ছিল ‘গিথেনহর্ন’(Geytenhorn) কিন্তু কালের বিবর্তনে এই গ্রামের বর্তমান নাম ‘গির্থন’ (Giethoorn)। এটি নেদারল্যান্ডে অবস্থিত।

এটা নামে গ্রাম হলেও শহরে জীবনের বা প্রযুক্তির সব সুবিধাই আছে এখানে, শুধু একটাই সমস্যা তা হল এখানে কেউ গাড়ি চালায় না। রাস্তাই নাই গাড়ি চালাবে কিভাবে।

এই গ্রামটি নেদারল্যান্ডের ‘ষ্টিমওয়েক’ শহর থেকে ৫ কিঃমিঃ দক্ষিন পশ্চিম দিকে অবস্থিত। প্রথম দিকে এই গ্রামটি সকলের কাছে এতটা পরিচিত ছিল না যতটা বর্তমানে। ১৯৫৮ সালে এই গ্রামে নির্মিত “Fanfare’’  সিনেমায় প্রথম এই গ্রাম সকলের নজর কাড়ে । এক কথায় অপূর্ব সুন্দর এই গ্রাম যা এক কথায় আপানার সব ক্লান্তি দূর করে দেবে।

এই গ্রামের মূল যোগাযোগ ব্যাবস্থা ৭.৫ কিঃমিঃ দীর্ঘ জলপথ, এছাড়াও আছে ৫০টি কাঠের তৈরি সাঁকো। এই জলপথ গুলি সর্বোচ্চ ১ কিঃমিঃ পর্যন্ত গভীর হয়।

এখানে বেশ কয়েক ধরনের নৌকা দেখা যায়। যার মধ্যে সব থেকে জনপ্রিয় নৌকার নাম পেন্টারস(Pnters) । এই নৌকা গুলি চলে ইলেক্ট্রিক মটরের সাহায্যে তাই কোন শব্দ হয়না বললেই চলে, এর ফলে গ্রামের শান্তির পরিবেশ বজায় থাকে।

১৯২০ সাল দ্বীপের তৎকালীন মালিক সুইজারল্যান্ডের হ্যানস ব্রাউন। হটাৎ একদিন হ্যানসকে পাওয়া গেল মৃত অবস্থায়।তার দেহ ছিল কার্পেট দিয়ে মোড়ানো।মৃত্যুর কারণ অজানা। মাত্র কয়েক মাস পরেই হ্যানসের স্ত্রী ও সাগরের পানিতে ডুবে মারা যান।সেই থেকে শুরু।

দ্বীপের পরবর্তী মালিকানা লাভ করেন একজন জার্মান ব্যক্তি, যার নাম অটো গ্রানব্যাক। তিনি নিজের ভিলাতেই আকস্মিকভাবে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। কাহিনী আরও আছে, দ্বীপটির পরবর্তী মালিক মরিস ভেজ স্যান্ডোজ একটি মানসিক হাসপাতালে আত্মহত্যা করেন।

এরপর দ্বীপের মালিক হন জার্মানির ইস্পাত শিল্পের কর্নাধার ব্যারন কার্ল পল ল্যাঙ্গহেইম। তিনি তার বেহিসেবী আচরণের কারণে খুব শীঘ্রই দেউলিয়া হয়ে যান, ধনকুবের থেকে পরিণত হন পথের ফকিরে। এরপরের মালিক পল গ্যাটিকের নাতিকে অপহরণ করে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা, যার খোঁজ আর পাওয়া যায় নি। দ্বীপটির সর্বশেষ মালিক জীয়ান প্যাসকেল গ্র্যাপোনকে পুলিশ আটক করে।

এই গ্রামের জনসংখ্যা ২৬২০ জন মাত্র। এই গ্রামের বাড়ি গুলি তৈরি করা হয়েছে ছোট ছোট দ্বীপের মধ্যে যার চারিপাশ দিয়ে বয়ে চলেছে পানি। বেসিরভাগ বাড়ি তৈরি করা হয় কাঠ দিয়ে।

এখনে নেই যান্ত্রিক জীবনের কোন শোরগোল। চারিদিকে সবুজের ছড়াছড়ি।আমদের দেশেও আছে এমন অপূর্ব সুন্দর কিছু গ্রাম, আগামিতে আপানদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবো তাদের।