ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

রহস্যময় নাজাকা!!!

Rate this item
(0 votes)

আমাদের বিশাল পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এমন সব নিদর্শন আছে যা আমাদের এলিয়েন বা ভিনগ্রহের প্রাণীদের অস্তিত্ব বিশ্বাস করতে বাধ্য করে। ইউএফও র ব্যাপারটি ছাড়াও পেরুর প্রাচীন নাজকা লাইন ভিন গ্রহবাসির অস্তিত্ব আমাদের নতুন করে চিন্তা করতে বাধ্য করবে। এই নাজকা লাইন হলো পেরুর প্রাচীন ইনকা সভ্যতার নিদর্শন।

পেরুর নাজকা উচ্চভূমির বিরান মাটিতে নিখুঁত কৌশলে ফুটিয়ে তোলা বিভিন্ন  প্রানির ছবি আছে। ব্যাপার হল এই ছবি গুলো দেখা যায় শুধু মাত্র আকাশ থেকে। এই রেখাচিত্র মোটামুটি মহাকাশ থেকেও বোঝা যায়।

কথা হল এই বিশাল এলাকা জুড়ে আঁকা এসব রেখাচিত্র কি সেই প্রাচীন মানুষের পক্ষে এঁকে রাখা সম্ভব ছিল?? কে বা কারা কি কারনে এই রেখাচিত্র  তৈরি করলো  সে তথ্য আজও অজানা। খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ থেকে ৬০০০খ্রিস্টাব্দের মাঝে কোন এক সময়ে এই রেখাচিত্র তৈরি করা হয়। ।৪৪০ বর্গমাইল মরু এলাকা জুড়ে রয়েছে তিন শতাধিক রেখাচিত্র আছে নাজকা এবং পালপা  নগরীর মাঝে। এতে ব্যবহৃত হয়েছে  সরলরেখা এবং বিভিন্ন জ্যামিতিক আকৃতি যা মাটি থেকে বোঝা না গেলেও আকাশ থেকে স্পষ্ট দেখা যায়।প্রথম ১৯২০ সালে পেরুর মরুভূমির ওপর দিয়ে বিমান চলাচল শুরু হলে এসব রেখাচিত্র মানুষের চোখে পড়ে। কিন্তু এই বিশাল চিত্র আঁকার মত জ্ঞান তারা কোথা থেকে পেল ভাবার বিষয়।

নাজকা লাইন এর রেখা গুল পেন্সিলের রেখার মতো  স্পষ্ট এসব রেখাচিত্রে আঁকা আছে বিভিন্ন প্রাণী, ফুল-গাছপালা, বস্তু এমনকি একটি রহস্যময় ছবি যা দেখে মনে হয় একজন মানুষ মহাকাশচারীর পোশাক পরে  আকাশের দিকে হাত নাড়ছে। এমন একটি ছবি আছে যা দেখে মনে হয় একটি প্রাণীর দুইটি হাত আছে, যার একটি হাত সাধারণ কিন্তু অপরটিতে রয়েছে চারটি আঙ্গুল। মানুষের ব্যবহার্য তাঁত, উল এবং বালা জাতীয় অলংকারের ছবিও রয়েছে। অনেকগুলো রেখাচিত্র থেকে দেখা যায় বিস্ময়কর রকমের নিখুঁত জ্যামিতিক আকৃতি। মনে হয় তারা দিক নির্দেশ করছে। এলিয়েনদের মহাকাশযানের ল্যান্ডিং স্ট্রিপ তো মনে হয়  কয়েকটাকে।

কোড ম্যাট্রিক্স সিস্টেমে স্থাপিত এই রেখাচিত্রগুলোর পেছনে ভিনগ্রহের প্রাণীদের  হাত রয়েছে এটা ভাবার আর একটি কারন  হলো জেমাট্রিয়া নামের একটি প্রাচীন সংখ্যাতত্বের ওপর ভিত্তি করে এই রেখাচিত্রগুলোর অবস্থান ঠিক করা হয়। মজার ব্যাপার হলো শুধু ইনকা সভ্যতাই নয়, গ্রিক, মিশরীয়, পারস্য, ব্যাবিলনিয় এবং রোমান সভ্যতায় এই সংখ্যাতত্ব ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। প্রাচীন বাইবেলেও আছে সংখ্যাতত্বের ব্যাবহার।

১৯৬৮ সালে এরিক ফোন দানিকেন তার বই  “চ্যৈরির রিয়ট অফ দ্যা গডস” এ দাবি করেন, “এসব রেখাচিত্র হলো প্রাচীন মহাকাশচারীদের তৈরি এলিয়েনদের ল্যান্ডিং স্ট্রিপ। কিন্তু মরুভূমির এই মাটি ল্যান্ডিং এর জন্য যথেষ্ট উপযুক্ত ছিলো না। এলিয়েনরা চলে যায় এবং আর ফিরে আসে না। তাদেরকে ফিরিয়ে আনার জন্য মাটিতে বিভিন্ন রকমের আকৃতি আকে মানুষেরা, যাতে মহাকাশ থেকে সেগুলো দেখতে পায় এলিয়েনরা এবং ফিরে আসে”।

এখন পর্যন্ত মানব সভ্যতার অনেক কিছুই আমাদের অজানা,  যার মধ্যে অন্যতম রহস্য নাজকা লাইন। আসা করি ভবিষ্যতে আমরা নাজকা লাইনের তৈরির সঠিক ইতিহাস জানতে পারবো।