ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Saturday, 26 April 2014 00:45

এক মোটরসাইকেলেই ১০ জন!

Rate this item
(0 votes)

এ রকম একটি মোটরসাইকেল আছে যেটিতে একসঙ্গে ১০জন মানুষ একসঙ্গে ভ্রমন করতে পারে। কথাটি শুনে আজব লাগলেও এটা সত্য। ফিলিপাইনের কিছু কিছু এলাকায় দুই চাকার এই রকম মোটরসাইকেলে মাল-বোঁচকাসহ ১০ যাত্রী চড়ে। মোটরসাইকেলে করে এমন যাত্রী পরিবহণ ব্যবস্থাকে স্থানীয়ভাবে হাবাল-হাবাল বা স্কাইল্যাব বলে।

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলের মিন্দানাও-এর অনেক জায়গায় হাবাল-হাবাল অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি যান। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার সংকীর্ণ রাস্তাগুলোতে। কৃষকরা হাবাল-হাবালে করে তাদের উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী বিকিকিনির জন্য হাটে নিয়ে যান।

প্রতিদিন ম্যানিলা শহরে আপনি মোটরসাইকেল দেখতে পাবেন। তবে তার যাত্রী সংখ্যা এক বা দুইজন। কিন্তু আপনি যখন মিন্দানাও যাবেন, সেখানকার রাস্তায় উল্টো দৃশ্য দেখতে পাবেন। ভিসায়াসের বেশিরভাগ অংশেও তাই।

যাত্রী ধারণ ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে হাবাল-হাবাল দু’চাকার মোটরসাইকেলের এক অনন্য উদ্ভাবন। যেসব অঞ্চলে রাস্তাঘাট সরু, উঁচু-নিচু, খানাখন্দে ভরা সেখানে সাধারণ জনগণের বাহন হিসেবে হাবাল-হাবাল ব্যবহার করা হয়। এতে কমপক্ষে ৬ জন যাত্রী বহন করা যায়। যদিও কিছু মানুষ বলেছেন, হাবাল-হাবালে ১০ জনের বেশি যাত্রীও বসানো যায়। শুধু তাই নয়, শাকসবজি’র বস্তা, মুদি মালামাল, হাঁস-মুরগির ডালাও বহন করা যায়।

ফিলিপাইনে যারা পার্বত্য এলাকায় বসবাস করেন, তাদের কাছে এটা বন্ধুত্বপূর্ণ বাহন। কারণ, এখানকার বেশিরভাগ রাস্তায় চার চাকার গাড়ি চলে না। হাবাল-হাবালে যাত্রী বহন করার আশ্চর্য দিক হলো, প্রতি পদক্ষেপে যাত্রীদের ওজনের ভারসাম্য রেখে গাড়ি চালনা করা। চালকের দুই পাশে ছাড়াও সামনে-পিছনে আরো ৩-৪ জন যাত্রী থাকেন।

অধিক সংখ্যক যাত্রী বহন করার জন্য মোটরসাইকেলের সিটের দু’পাশে কাঠের তক্তা বাঁধা আছে। এজন্য অনেক মানুষ একে স্কাইল্যাব বলেন। হাবাল-হাবাল এখন অদল-বদল করে ‘ইস্কাইল্যাব’ নামেও ডাকা হয়। সবাই বিশ্বাস করে, ১৯৭৯ সালে মহাকাশে যাত্রাকালে ধ্বংস হওয়া মার্কিন নভোযান ‘স্কাইল্যাব’ থেকে এই নাম নেয়া হয়েছে। তবে এটা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। যেমন অন্য একজন বলেছেন, এটা এসেছে ‘সাকাই না, ল্যাব’ থেকে; যার মানে হলো উঠে পড়ুন, ভালোবাসুন! মোটরসাইকেলের পিছনের সিটের সাথে আটকানো তক্তা মূল অংশ পার করে চলে, যা মোটরসাইকেলের অতিরিক্ত সিট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আর এটা দেখতে অনেকটা স্কাইল্যাবের মতো। দেখে মনে হয় যেন কোনো স্যাটেলাইটের ডানা।

ম্যানিলা শহরে অনেক অ্যাম্বুলেন্স ব্যক্তিগত কাজে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ হাসপাতালে যায় হাবাল-হাবালে করে।

এতো জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও হাবাল-হাবাল জন পরিবহনের জন্য নিষিদ্ধ মাধ্যম। মিন্দানাওয়ের একজন সংসদ সদস্য সম্প্রতি হাবাল-হাবালকে আইনগতভাবে চালানোর অনুমতি দেয়ার জন্য প্রস্তাব করেছেন।