ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Friday, 28 February 2014 17:59

লাতিন আমেরিকায় কড়া নাড়ছে পুঁজিবাদ

Rate this item
(0 votes)

চিলির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত ধনকুবের সেবাস্তিয়ান পিনেরার জয় লাতিন আমেরিকায় পুঁজিবাদের দরজা খুলে দিতে পারে। নতুন প্রেসিডেন্ট যা করতে চেয়েছেন, সে পথে এগুলে ভেনিজুয়েলার হুগো শাভেজের সমাজবাদী তত্ত্বের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


পিনেরার রাজনৈতিক পূর্বসূরি অগুস্তে পিনোশের শাসনামলের (১৯৭৩ থেকে ১৯৮৯) নৃশংসতা ও ভয়াবহতার স্মৃতি মানুষের মধ্যে এখনো আতঙ্ক জাগায়। যদিও ওই সময়ের মুক্ত অর্থনীতির শক্তিশালী ধারার কথাও মানুষ ভোলেনি। সরাসরি জড়িত না থাকলেও পিনোশের সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল রক্ষণশীল ব্যবসায়ী পিনোরার। তার সমর্থকদের মধ্যে এখনো অনেকে আছেন যাঁরা পিনোশের প্রশাসনে সরাসরি জড়িত ছিলেন। পিনোরা অবশ্য স্বৈরশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে তাঁর মন্ত্রিসভায় স্থান দেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক চাপের মুখে এই সিদ্ধান্তে অটল থাকা তাঁর পক্ষে কতটা সম্ভব হবে তা সময়ই বলে দেবে।
গত রবিবার অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা ভোট গ্রহণে তিনি ৫২% জনসমর্থন পান। পিনোরার ক্ষমতায় আসার মধ্য দিয়ে ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর ক্ষমতায় ফিরল রক্ষণশীলরা। এর মাঝে অবশ্য রক্ষণশীলরা পিনোশের স্বৈরশাসনকে সমর্থন করেছিল।
পিনোরার জয়ের মধ্য দিয়ে চিলিকে বামপন্থীদের ২০ বছরের শাসনামলের অবসান ঘটল। বামপন্থী জোটের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাসেলেত ব্যক্তিগতভাবে খুব জনপ্রিয় (জনসমর্থন ৮০%) হলেও তা দলীয় পর্যায়ে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জন্য তিনি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। যদিও ১৭ বছরের স্বৈরশাসনের পর তাঁর 'গণতন্ত্রের পক্ষে দলের জোট' (সিপিডি) চিলির সার্বিক উন্নয়নের গতিকে জোরাল করেছে বলেই মনে করা হয়।
লাতিন আমেরিকার ঐতিহাসিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে চিলির সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক রেকর্ড ভালো। ২০০০ সাল থেকে তাদের বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৪ শতাংশ। ২০০৮-২০০৯ সালের মন্দা সফলভাবে মোকাবিলা করেছে দেশটি। কপার রফতানি থেকেও তারা প্রায় দু'হাজার কোটি ডলার আয় করে। তবে পিনোশের শেষদিকের বছরগুলোর তুলনায় এই হার এখনো বেশ কম। পিনেরা কর ছাড়, শ্রমবাজার সংস্কার ও উন্নত শিক্ষার মাধ্যমে জিডিপির প্রবৃদ্ধিকে ৬%-এ নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি ১০ লাখ নতুন চাকরির সুযোগ তৈরির কথাও বলেছেন তিনি।
গত কয়েক বছর ধরে লাটিন আমেরিকার রাজনীতি শুধু শাভেজ নন, আর্জেন্টিনার ক্রিস্টিনা কির্চনার, ব্রাজিলের লুই ইনাশিও লুলা দ্য সিলভার হাত ধরে চলেছে। এরা সবাই বামপন্থী নেতা। ওই অঞ্চলে শুধু মেক্সিকোতেই ডানপন্থী নেতৃত্ব দেখা যায়। অর্থনৈতিকভাবে যাদের প্রচেষ্টা মোটেই ফলপ্রসূ হয়নি।
ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও সাবেক সিনেটর পিনেরা চিলির ৪৮তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে আগামী ১১ মার্চ ক্ষমতা গ্রহণ করবেন। তিনি দুর্নীতি কমানোর পাশাপাশি পিনোশের আমলের কর্তৃত্বপরায়ণতাও এড়িয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারলে চিলি লাটিন আমেরিকায় সফল মুক্তবাজার অর্থনীতির একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারবে।