ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Friday, 28 February 2014 17:57

নতুন বছরে সুসংবাদ নেই লাতিন অর্থনীতিতে

Rate this item
(0 votes)

বিশ্বের অনেক দেশ অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব কাটিয়ে ওঠা শুরু করলেও লাতিন আমেরিকার জন্য সুসংবাদ বয়ে আনেনি নতুন বছর। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাতিন আমেরিকায় অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী ছয়টি দেশের প্রবৃদ্ধি অনুমানের চেয়েও তিন থেকে চার শতাংশ কমে গেছে। সেই সঙ্গে পড়ে গেছে ভোক্তার আত্দবিশ্বাসের সূচকও।


গত বছর বেশির ভাগ লাতিন দেশেই ২০০৮ সালের তুলনায় শিল্প কারখানার উৎপাদন কমেছে। আর্জেন্টিনায় উৎপাদন কমেছে ১৫ দশমিক ১ শতাংশ, ব্রাজিলে ৬ দশমিক ২ শতাংশ, চিলিতে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ এবং মেক্সিকোতে ২ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০০৮ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে চলতি বছরের শুরু পর্যন্ত সময়ে এসব দেশে ভোক্তাদের পণ্যের দাম ও মান নিয়ে ভোক্তার সন্তুষ্টি কমেছে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। সব কিছু মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকেও লাতিন অঞ্চলের প্রবৃদ্ধির হার নিম্নমুখী।
আইএমএফ বলছে, এ বছর লাতিন আমেরিকার দেশগুলো সামগ্রিকভাবে ১ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। ২০০৮ সালে এ হার ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা ও ভেনিজুয়েলার প্রবৃদ্ধির হার এ বছর শূন্য থেকে ঋণাত্নক পর্যন্ত হতে পারে। ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও চিলির ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির হার হতে পারে ২ শতাংশের কাছাকাছি। একমাত্র পেরুই এর মধ্যে ব্যতিক্রম। দেশটির প্রবৃদ্ধির হার এ বছরও ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও চিলির গত বছরের প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ শতাংশ।
অবশ্য এ প্রবৃদ্ধি ও পূর্বাভাস অনেক নিয়ামকের ওপর নির্ভরশীল। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় নিয়ামক হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর প্রধান রপ্তানি পণ্য হলো কাঁচামাল। আর এর প্রায় অর্ধেকই যায় যুক্তরাষ্ট্রে। বিশেষ করে মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা ও আন্দিজের অর্থনীতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটাই সম্পর্কযুক্ত। এ ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসব দেশে নগদ মূলধনের প্রবাহ।
অবশ্য আইএমএফের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি যদি ১ থেকে ২ শতাংশ কমে যায়, কিংবা ভোক্তা সন্তুষ্টির সূচক ৫০ শতাংশও পড়ে যায়, তার পরও লাতিন অর্থনীতি এগিয়ে যাবে। কারণ, লাতিন দেশগুলো এরই মধ্যে নগদ মূলধনের প্রবাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। বিকল্প হিসেবে অভ্যন্তরীণ বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে লাতিন সরকারগুলো। নগদ অর্থের চাহিদা মেটাতে মেক্সিকো ১০ বছর মেয়াদে ২০০ কোটি ডলারের এবং ব্রাজিল ও কলম্বিয়া ১০০ কোটি ডলারের বন্ড ছেড়েছে। কাজেই আপাতত মন্দার মধ্য দিয়ে এগোতে হলেও লাতিন আমেরিকার দেশগুলো অল্প দিনের মধ্যেই ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ।