ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Friday, 28 February 2014 17:40

বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে লাতিন আমেরিকা সম্ভাবনাময়

Rate this item
(0 votes)

লাতিন আমেরিকার দেশগুলো বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের জন্য বেশ সম্ভাবনাময়। বিশেষ করে ওই মহাদেশের ব্রাজিল, কলম্বিয়া, পানামা, আর্জেন্টিনা ও চিলিতে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাতদ্রব্য রপ্তানির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে সরকার ওই দেশগুলোয় দূতাবাস খোলার পরিকল্পনা করছে। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের অংশ হিসেবে লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ সফর শেষে গতকাল শনিবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব মোহাম্মদ মিজারুল কায়েস এ কথা বলেন। পররাষ্ট্রসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গত ২৮ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ সফর করে।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় শ্রমবাজার স্থিতিশীল নাও হতে পারে। ফলে সরকার এ সমস্যায় পড়ার আগেই দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার মতো সম্ভাবনাময় দেশগুলোয় সুযোগ সৃষ্টি করতে চাইছে। এ লক্ষ্যে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন ব্রাজিল, কলম্বিয়া চিলিসহ লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ সফর করেছে। এ সময় প্রতিনিধিদল দেশগুলোর সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনার পাশাপাশি খাত অনুসন্ধান চালিয়েছে। ওই দেশগুলোয় বাংলাদেশের দূতাবাস না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ব্যাপক কফি চাষ হয় এবং তারা কফির প্যাকেটে পাটজাতদ্রব্য ব্যবহার করে। কিন্তু ওই দেশগুলোর পাট তেমন মানসম্মত নয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের পাটের বিশ্বব্যাপী সুনাম থাকায় এবং এ দেশে পাটের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় ওই সব দেশে যদি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মানসম্মত পাট চাষ করা যায়, তাহলে ব্যাপক লাভবান হওয়া যাবে।
পররাষ্ট্রসচিব বলেন, লাতিন আমেরিকার দেশগুলো শুধু পাট নয়, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, সিরামিকেরও বড় বাজার হতে পারে। এরই মধ্যে চিলির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে দুই দেশের কর্মকর্তাদের ভিসা অব্যাহতির বিষয়ে চুক্তি হয়েছে এবং ওই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও একই লক্ষ্যে কাজ চলছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ধস, সন্ত্রাসবাদ, যুতসই অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে আগামী বছরের জুন মাসে অনুষ্ঠেয় 'রিও পাস ২০ আর্থ সামিট' এ বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করেছে ব্রাজিল।
সংবাদ সম্মেলনে তাঁর কাছে ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, এরই মধ্যে ছিটমহলগুলোয় জনগণনা শেষ হয়েছে। তবে আগামী বছরের জুন মাসের আগে ছিটমহলগুলো জরিপসহ হস্তান্তর উপযোগী করা সম্ভব হবে না। তিনি জানান, সীমান্ত মানচিত্রগুলো স্বাক্ষর হওয়ার পরই অপদখলীয় ভূমি, সাড়ে ছয় কিলোমিটার অচিহ্নিত সীমানা নির্ধারণ ও ছিটমহলগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। তালপট্টি দ্বীপ সম্পর্কে বলেন, যেহেতু তালপট্টির অস্তিত্ব এখন পাওয়া যাচ্ছে না, তাই এই মানচিত্রে তা স্থান পাচ্ছে না। এ ছাড়া মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রেখা আগেই নির্ধারিত হয়েছে বলে তিনি জানান।