ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

আসামে ঘরে ঢুকে ১২ মুসলিমকে হত্যা

Rate this item
(0 votes)

ভারতের আসামে বৃহস্পতিবার রাতে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট অব বোড়োল্যান্ডের জঙ্গিরা (এনডিএফবি) রাতভর বিভিন্ন মুসলিম বাড়িতে দরাজা ভেঙে প্রবেশ করে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে ১২ জন মুসলমান সংখ্যালঘুকে হত্যা করেছে।

বৃহস্পতিবার রাত ৮ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত মুসলমানদের উপর এই তাণ্ডব চালায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট অব বোড়োল্যান্ড (এনডিএফবি)।

প্রথম হামলার ঘটনাটি ঘটে বাক্সা জেলার আনন্দবাজারে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায়। সেখানকার কালাপানি নদীর পারে, নরসিংহবাড়ি গ্রামে সাইকেলে করে আসে চার জঙ্গি। জঙ্গিরা স্থানীয় সোনা মিয়ার ঘরে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে। তখন তারা রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। ঘটনাস্থলেই সোনা মিয়া, তাঁর স্ত্রী রুমিসা খাতুন ও আত্মীয় চম্পা নিহত হয়। সোনা মিয়ার দুই কন্যা রাসিদা খাতুন (১২) ও তসলিমা খাতুন (৩) গুলিবিদ্ধ হন। তাদের মৃত ভেবে চলে যায় জঙ্গিরা। পরে পুলিশ আহত দু’জনকে বরপেটা হাসপাতালে ভর্তি করে। এদের মধ্যে তসলিমার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

 

জঙ্গিদের গুলিতে আহত ফরিদ আলি জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিএসএফের বাহিনী এলাকায় টহল দিয়ে যায়। তার কিছুক্ষণ পরেই জঙ্গিরা গ্রামে প্রবেশ করে। মোট ৫টি মুসলিম পরিবারের দরজা ভেঙে ঢুকেছিল জঙ্গিরা। কিন্তু দুটি বাড়িতে লোক ছিল না। বাকি তিন বাড়িতে হামলা চালিয়ে ৫ জন মহিলা ও দুই শিশুকে হত্যা করে তারা।

এর পর রাত ১১টার দিকে আবারো হামলা চালায় জঙ্গিরা। তারা স্থানীয় মুসলিম পরিবার শেখ আলির বাড়িতে দরজা ভেঙে প্রবেশ করে। আলি জানান, জঙ্গিরা তাঁর বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে গুলি করতে থাকে। তিনি ভয়ে খাটের নিচে লুকিয়ে পরেন। কিন্তু তার স্ত্রী-কন্যাকে হত্যা করে জঙ্গিরা। ২০০৯ জঙ্গি সংগঠন এনডিএফবি রঞ্জন দৈমারির নেতৃত্বে ১২ জন নেপালি গ্রামবাসীকে হত্যা করেছিল।