ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Friday, 28 February 2014 17:23

যুক্তরাষ্ট্রকে 'অপকর্মে' মদদ দিয়েছে ইউরোপ

Rate this item
(0 votes)

৯/১১ হামলার পর থেকে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের নামে যুক্তরাষ্ট্র যেসব অপরাধ-নির্যাতন চালিয়েছে, ব্রিটেনসহ ইউরোপের প্রায় সব দেশই এতে সাহায্য করেছে। যুক্তরাষ্ট্রকে এ রকম 'অসংখ্য' অপরাধে সাহায্য করেছে তারা। ইউরোপের দেশগুলোর মানবাধিকার নজরদারিবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা কাউন্সিল অব ইউরোপ (সিওই) এ অভিযোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া সঠিক ছিল কি না তা মূল্যায়ন করতে গিয়েই এ অভিযোগ করেছে সংস্থাটি। নিউ ইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলার ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তারা এ মূল্যায়ন করে।


সিওই-এর মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনার থমাস হ্যামারবার্গ গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, গত ১০ বছরে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের নামে যুক্তরাষ্ট্র যে 'অবৈধ তৎপরতা' চালিয়েছে, তার সঙ্গে ইউরোপের সরকারগুলোর 'ঘনিষ্ঠ সংশ্লিষ্টতা' আছে। তিনি বলেন, 'সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধ করতে অসংখ্য অপরাধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে অনেক সময়ই সচেতন ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ কাজ করা হয়েছে।'
সিওই-এর সদস্য ও সুইজারল্যান্ডের এমপি ডিক মার্টি ২০০৭ সালে এক প্রতিবেদনে ব্রিটেনসহ ইউরোপের ১৪টি দেশকে অপরাধে সহযোগিতার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেন। তিনি জানান, ২০০২ সাল থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে নিজের দেশে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর গোপন আটক কেন্দ্র, সেগুলোতে নির্যাতন ও সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের অবৈধভাবে অপহরণের ব্যাপারে এসব দেশের সরকারগুলো অনুমতি দিয়েছে। ওয়াশিংটনের মর্জিমাফিক ইউরোপীয় দেশগুলো এ-সংক্রান্ত তদন্তের পথে বাধা তৈরি করে বলে অভিযোগ করেন হ্যামারবার্গ।
যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করার সময় খালেদ এল-মাসরি নামের জার্মান এক গাড়ি ব্যবসায়ীর উদাহরণ টানে কাউন্সিল অব ইউরোপ। মাসরিকে আফগানিস্তান ও আলবেনিয়া থেকে দুবার অপহরণ করা হয়। পরে প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় ফেলে যাওয়া হয় তাঁকে। মার্কিন কর্মকর্তারা অনেক পর মাসরির ঘটনায় 'ভুল' হয়েছে বলে স্বীকার করেন। সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের অপহরণ ও তাদের স্থানান্তর করতে মার্কিন কম্পানিগুলোর যে গোপন নেটওয়ার্ক রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমান কম্পানির মধ্যে আইনি লড়াইয়ের একপর্যায়ে সেই তথ্যও বের হয়ে আসে। মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জন্য কোনো কোনো কম্পানি ফল ও মদের চালান সরবরাহ করার পাশাপাশি বিলাসবহুল বিমানেরও ব্যবস্থা করে থাকে। হ্যামারবার্গ বলেন, 'যারা যুক্তরাষ্ট্রের এসব অপরাধে যুক্ত থাকে, ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের ক্ষমা করে দেয়। এ ধরনের অবিচার ও সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের অন্যায় ব্যবহার রোধে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।'