ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Friday, 28 February 2014 17:22

যুক্তরাষ্ট্রে শিল্পোৎপাদন বেড়েছে উল্টো চিত্র ইউরোপ ও এশিয়ায়

Rate this item
(0 votes)

বিশ্ব মন্দায় ঝিমিয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য সুখবর আসা শুরু হয়েছে। জুন মাসে দেশটির শিল্পোৎপাদন বিস্ময়করভাবে বেড়েছে। যদিও ইউরোপ ও এশিয়ায় ঠিক তার উল্টো চিত্র। শিল্পোৎপাদন কমেছে এই দুই মহাদেশের বড় অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর।
ইনস্টিটিউট ফর সাপ্লাই ম্যানেজমেন্টের (আইএসএম) সূচকে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় কারখানার কর্মকাণ্ড আগের মাসের ৫৩.৫ পয়েন্ট থেকে বেড়ে জুন মাসে ৫৫.৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধির খবরে সূচক বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও। দাওজোন্সে সপ্তাহ শেষে সূচক বেড়েছে ৫.৪ শতাংশ

। বারক্লেস ক্যাপিটালের প্রধান অর্থনীতিবিদ মিখাইল গেপেন বলেন, 'আমরা মনে করি এটা শিল্প খাতের ফিরে আসার প্রতিফলন।'
পারচেজিং ম্যানেজার ইনডেঙ্ বা পিএমআই সূচকে এশিয়া এবং ইউরোপের শিল্পোৎপাদন কমেছে। চীনে পিএমআই সূচক গত ২৮ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কমে দাঁড়িয়েছে ৫০.৯ পয়েন্ট। অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন, এ বছরের শেষ নাগাদ হয়তো চীন মুদ্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শিথিল করবে। একইভাবে ভারতের শিল্পোৎপাদন খাতও চাপের মুখে রয়েছে। এইচএসবিসি মার্কিটের পিএমআই সূচক গত ৯ মাসের মধ্যে ২ শতাংশ কমে গেছে। এ মাসে সূচক দাঁড়িয়েছে ৫৫.৩ যা ২০০৮ সালের নভেম্বরের পর থেকে মাসিক সবচেয়ে বড় পতন। মার্কেটের পিএমআই সূচকে ইউরোজোনের পয়েন্ট কমে গেছে। এতে দেখা যায়, গত মে মাসের ৫৪.৬ পয়েন্ট থেকে জুন মাসে সূচক কমে হয়েছে ৫২.০ পয়েন্ট। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে এটাই সবচেয়ে কম রিডিং।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপ-এশিয়ায় ঋণে সুদের হার বাড়ানোর কারণে শিল্পোৎপাদনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে ইউরোপেীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এপ্রিলে সুদের হার বাড়ানোর পর আগামী সপ্তাহে আবার বাড়ানোর চিন্তা করছে। অর্থনীতিবিদরা এশিয়া ও ইউরোপে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টা ঝিমিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে জাপানের ভূমিকম্প ও সুনামি, ইউরোপের ঋণসংকট এবং তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন।
এশিয়ার শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দুটি বৈরীপক্ষের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে। একদিকে দেশের ভেতরে কঠোর মুদ্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা অন্যদিকে দেশের বাইরে পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়া। এশিয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের ঋণে সুদের হার বাড়িয়ে দিয়েছে, এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। কয়েক মাসের শক্ত মুদ্রানীতি চীন ও ভারতের প্রবৃদ্ধি কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এর পাশাপাশি এ দেশগুলোর প্রধান মার্কেট যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের ক্রেতারা যে কেনাকাটায় অনেক সংযোমী হয়ে উঠেছে, তার নেতিবাচক প্রভাবও পড়েছে এশিয়ার এ দেশগুলোয়। অফিশিয়াল হিসাবে দেখা যায়, জুন মাসে চীনের রপ্তানি আদেশ কমে গেছে। একইভাবে ইউরো জোন উৎপাদিত পণ্যের নতুন আদেশ কমে গেছে।