ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Friday, 28 February 2014 17:10

জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে টেক্কা দিতে চাইছে পিছিয়ে পড়া ইউরোপ

Rate this item
(0 votes)

জ্ঞানই শক্তি। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এই প্রবাদ সত্য প্রমাণিত হয়েছে। তাই শক্তির পাল্লা ভারী করতে পৃথিবীর প্রায় সব প্রান্তেই জ্ঞান অর্জনের ব্যাপারে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে। নিজের প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চমাত্রায় নিয়ে যেতে তাই যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীনের মতো অন্য উদীয়মান শক্তিগুলো প্রযুক্তিগত খাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর ব্যাপারে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা

ওইসিডি (অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির বিষয়ে একটি বৈশ্বিক সম্মেলনের আয়োজন করে চলতি মাসে। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত হয় সম্মেলনটি। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কারণে চাকরির বাজারে কী কী পরিবর্তন এসেছে_পরিসংখ্যানের মাধ্যমে সেখানে বিষয়টি পরিষ্কার করে ওইসিডি। শিক্ষিত লোকের সংখ্যার ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের শক্তির তারতম্যও দেখানো হয়। ওইসিডি জানায়, বিশ্বের মোট স্নাতকধারীদের প্রায় ২৬ শতাংশই অন্যমত পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের। ভবিষ্যৎ বিশ্বনেতা বলে বিবেচিত চীনে বিশ্বের প্রায় ১২ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী রয়েছেন। যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের যৌথ সংখ্যার চেয়েও চীন এ ক্ষেত্রে এগিয়ে। স্নাতকধারীর এ তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে আছে দক্ষিণ কোরিয়া। এ দেশটিও ফ্রান্স ও ইতালিকে পেছনে ফেলেছে। এর মানে হচ্ছে, এশিয়ার উদীয়মান শক্তিগুলোকে টেক্কা দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অন্য দেশগুলোকে দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণাকাজে এখনো ব্যাপক হারে তহবিল জোগানো হচ্ছে। বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রকাশের দিক থেকে শীর্ষে থাকা ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টিই যুক্তরাষ্ট্রের। বোস্টনের দুটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এমআইটির দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায় দুই হাজার ৭০০ কোটি পাউন্ড পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গবেষণা, উদ্ভাবন ও বিজ্ঞানবিষয়ক ইউরোপীয় কমিশনার মেয়ার জিওগহেগান কুইন মনে করেন, শিক্ষা বা জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ না করা এখন 'অকল্পনীয়' বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তিনি জানান_স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও ডিজিটাল অর্থনীতির ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে পাল্লা দিতে গবেষণা-সংক্রান্ত প্রায় ১০ লাখ নতুন পদ তৈরি করছে ইউরোপ। প্রায় ১৬ হাজার বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা দল ও এ-সংক্রান্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগামী বছর প্রায় ৬০০ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগ করবে তারা। 'ইউরোপ উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে জরুরি অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে' বলে মন্তব্য করেন কুইন।
কুইন বলেন, 'চীনে শিশুরা সকাল সাড়ে ৬টায় স্কুলে যায় আর রাত ৮টা বা ৯টায় ফেরে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গণিতে জোর দেয় তারা। কিন্তু ইউরোপে এমনটা হয় কি? এটাই হচ্ছে প্রতিযোগিতা।' আর ওইসিডির মহাসচিব হোসে আনহেল গুরিয়া বলেন, 'উদ্ভাবন, শিক্ষা ও দক্ষতা_এ তিন বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো দিয়েই সমস্যা ও সমাধান বিশ্লেষণ করা যায়। বিশ্বে এখন নিষ্ঠুর প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। আমরা অনেক সম্পদ খুইয়েছি। অনেক কিছু রপ্তানির সুযোগ হারিয়েছি, সামর্থ্য ও চাকরির ক্ষেত্র হারিয়েছি। তাই অপেক্ষাকৃত বুদ্ধিবৃত্তিক ধরনের প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিকে আবার চাঙ্গা করতে হবে।'