ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Friday, 28 February 2014 16:59

ইউরোপ-আমেরিকায়ও যায় যশোরের নকশি কাঁথা

Rate this item
(0 votes)

যশোরের লক্ষাধিক নারী সেলাই কাজের মাধ্যমে নিজেদের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করেছেন। নকশি কাঁথা, বিছানার চাঁদর, কুশন কভার, পাঞ্জাবি, শাড়ি, ফতুয়া, থ্রি পিসসহ নানা রকম পোশাক পরিচ্ছদ সেলাই করে তাঁরা হয়েছেন স্বাবলম্বী।


এসব নারীর তৈরি বিভিন্ন পণ্য ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ইতালি, হল্যান্ড, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জার্মানি, কানাডাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। বিদেশে এ সব পণ্য রপ্তানির জন্য রয়েছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। তারা প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নকশি কাঁথার মতো পণ্য সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠায়। তারপর এগুলো চলে যায় বিদেশে। সরেজমিন বেশ কিছু গ্রাম ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
নকশি সেলাই কাজের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সূত্রে জানা যায়, জেলার প্রায় ২০০ গ্রামের মহিলারা বর্তমানে সেলাই কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। মহিলাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে মহাজনরা ছয় বাই পাঁচ হাতের নকশি কাঁথা সেলাইয়ের জন্য পারিশ্রমিক দেয় এক হাজার ৪৫০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা, বিছানার চাঁদর ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা, কুশন কভার প্রতিটি ৮৫ টাকা, পাঞ্জাবি ১৩০ থেকে ৩৫০ টাকা, ফতুয়া ৭৫ থেকে ১৬০ টাকা, থ্রি পিস ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, শাড়ি ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা।
মনোহরপুর গ্রামের গৃহবধূ ফাতেমা বেগম জানান, স্বামীর আয়ে সংসার চলে না বলে তিনি সেলাই কাজের সঙ্গে যুক্ত হন। প্রতি মাসে তিনি এই কাজের মাধ্যমে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা আয় করেন।
যশোর শহরের মুজিব সড়কের 'কাশবন' বুটিক হাউসের মালিক সাইদুজ্জামান তুষারের বিভিন্ন গ্রামে ৭০ জন সেলাইকর্মী রয়েছে। তিনি জানান, সেলাই কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অনেক মহিলা নিজেদের আর্থিক উন্নতি ঘটিয়েছেন। এসব নারীর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে সেলাই কাজের মান আরো উন্নত করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তুষার জানান। একই এলাকার 'রঙ ফ্যাশন ব্যাংক'-এর নির্বাহী পরিচালক তনুজা এ প্রসঙ্গে জানান, তাঁদের বিভিন্ন পণ্য সেলাইয়ের সঙ্গে এখন যশোর অঞ্চলের কয়েক শ নারী যুক্ত রয়েছেন। যশোরের জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'যশোরের নকশি কাঁথার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এই ইতিহাস ধরে রাখার জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা ই-কমার্সের মাধ্যমে যশোরের উৎপাদিত নকশি কাঁথা দেশে বিদেশে বিক্রির জন্য সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা করছি।'