ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

নবদেশ ডেস্ক

সিরিয়ায় যুদ্ধে যাওয়ার অভিযোগে দুজনকে আটক

ঢাকায় পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, বুধবার তারা ঢাকার সেগুনবাগিচা ও ইস্কাটন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. আসিফ আদনান এবং মো. ফজলে এলাহি তানজিল নামে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দু’জন কথিত সদস্যকে আটক করে।

আল-কায়দার বর্তমান প্রধান আইমান আল জাওয়াহিরি বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারে ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্প্রতি জিহাদ করার ঘোষণা করেছেন।

বাংলাদেশ শান্তিসূচকে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে

ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর- দা গ্লোবাল পিস ইনডেক্স বা বিশ্ব শান্তি সূচকের তালিকায় বাংলাদেশ ৯৮ স্থানে ওঠে এসেছে।সূচকের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকলেও প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও এগিয়ে রয়েছে দেশটি। ২২টি নির্দেশিকার ওপর ভিত্তি করে মঙ্গলবার ১৬২টি দেশের এই তালিকা প্রকাশ করেছে বিশ্ব শান্তি সূচক। গত আট বছর ধরে তারা নিয়মিত এই শান্তিপ্রিয় দেশের তালিকা প্রকাশ করে আসছে।

নাবিলার ঈদ ফ্যাশন শো

গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় নাবিলা বুটিকস-এর গুলশান আউটলেটে হয়ে গেল ‘হেইজ অ্যান্ড হায়ার ঈদ ফ্যাশন শো’। আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি এবং মিডিয়া জগতের পরিচিত মুখ।

নাবিলার ঈদ ফ্যাশন শো

ইউডা বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তাহব্যাপি বায়োইনফরমেটিক্স এবং পাইথন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এর উপরে সার্টিফিকেট -কোর্স শুরু করেছে।

ইউডা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মলিকুলার মেডিসিন অ্যান্ড বায়োইনফরমেটিক্স বিভাগদ্বয় ৬ সেপ্টেম্বর ,২০১৪ হতে ছয় সপ্তাহব্যাপি বায়োইনফরমেটিক্স এবং পাইথন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এর উপরে সার্টিফিকেট ¬কোর্স  শুরু করেছে। বিভাগদ্বয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের  সাথে সাথে দেশের অন্যান্য শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের বায়োইনফরমেটিক্সে দক্ষতা বৃদ্ধিই এই ¬কোর্স এর  মূল উদ্দেশ্য। -কোর্সটির পরিচালনার দায়িত্তে থাকবেন  Bio Bio 1 এবং উক্ত দুই বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকগন । এই ধরনের আয়জন ও উদ্বোগকে উদ্বুদ্ধ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর এমিরিটাস ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত হয়ে কর্মশালা উদবোধন করেন।  এতে আরও উপস্থিত ছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ইফাত চৌধুরী এবং বিভাগদ্বয়ের প্রধান অধ্যাপিকা ড.  রওনক জাহান।  

কর্মশালার বিষয়বস্তু ছিল পাইথন প্রোগ্রামিং ও বিভিন্ন সফটওয়ার ব্যাবহারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে বায়োইনফরমেটিক্সএর  উচ্চতর গবেষনায় আগ্রহি করে তোলা এবং হাতে কলমে প্রশিক্ষন প্রদান। আধুনিক জীববিজ্ঞানে বায়োইনফরমেটিক্স সবচাইতে আলোচিত ও দ্রুত অগ্রসরমান একটি বিষয়। কম্পিউটার সায়েন্স, জীববিজ্ঞান, গনিত  ও পরিসংখ্যানের সমন্বয়ে বায়োইনফরমেটিক্সের উদ্ভব হলেও এর প্রসার ঘটেছে সকল বিজ্ঞানবিষয়ক গবেনষনায়। বর্তমানে জীববিজ্ঞানের লক্ষ লক্ষ ডাটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পর্যালোচনার জন্য একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠেছে এই বিষয়।
কোর্সটির মূল পরিচালনায় আছে Bio Bio 1, যে দলটি গত ২০০৮ থেকে বাংলাদেশে বায়োইনফরমেটিক্স এর প্রসার ও প্রচার বৃদ্ধি করা  নিয়ে কাজ করছে ।
ইউডা ভবিষ্যতে বায়োইনফরমেটিক্সের আরও কোর্স চালূ করবে এমনটাই আশা করছে। সার্টিফিকেট প্রদানের মাধ্যমে আগামি  অক্টোবর ২০১৪ এর মধ্যে উক্ত কোর্স  সমাপ্ত হবে। 

যে ভুলগুলো আপনার জীবন থেকে কেড়ে নিচ্ছে সফলতার স্বাদ

জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি আনতে সকলেই নিজের কাজে সফলতা চান। কাজে সফলতা শুধুমাত্র জীবনে সুখ সমৃদ্ধই আনে না, পাশাপাশি আনে মানসিক প্রশান্তি। নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস জন্মায় কাজে সফলতা পেলে। একধরণের আত্মতৃপ্তি আসে মনে। কিন্তু সব সময়েই কি কাজে সফলতা আসে? না। সব সময় সব ক্ষেত্রে সফলতা আসে না। সব কাজেই সফল হওয়া যায় না।

কিন্তু একবার ভেবে দেখেছেন, আপনি কেন কাজে সফলতা পাচ্ছেন না? নিজের ভাগ্যের ওপর দোষ দিয়ে নাহয় মানসিক শান্তি খুঁজছেন, কিন্ত মনে করে দেখুন তো আপনার কোনো ভুলের জন্য আপনি কাজে বিফলতা পাচ্ছেন না তো? এমনটি হতেই পারে। আপনার কাজে কোনো ছোটোখাটো ভুল হলেও আপনার পুরো কাজটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কিন্তু কী হতে পারে সেই কারণ? চলুন তবে জেনে নেয়া যাক কাজে সফলতা না পাওয়ার সম্ভাব্য কিছু কারণ।


একেবারে প্রথম ধাপ থেকে কাজ শুরু না করা
অনেকেই আছেন যারা মনে করেন ‘একই ধরণের অনেক কাজ করে কাজটি সম্পর্কে সব জানা হয়ে গিয়েছে তাই নতুন করে আর জানার প্রয়োজন নেই’। কিন্তু এটি অনেক বড় একটি ভুল কাজ। কারণ হতে পারে আপনি একই ধরণের কাজ আগে করেছেন কিন্তু প্রত্যেকটি কাজই আলাদা হতে পারে ধরণের দিক থেকে। তাই কাজটি শুরু করার আগে কাজের খুঁটিনাটি সব জেনে নিন এবং একেবারে প্রথম থেকেই কাজ করা শুরু করুন।

ঠিকমতো চিন্তা ভাবনা না করেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলা
একটি কাজে সফলতা আনতে হলে সব কিছু ভেবে চিন্তে করতে হয়। হুট করে কোনো সিদ্ধান্তে চলে আসা সফলতার বিপরীতে কাজ করে। আপনি সব কিছু ভালো করে না জেনেই একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন কিন্তু তা কাজটির জন্য ভালো নাও হতে পারে। আগে আপনার সিদ্ধান্তের পরবর্তী সকল সম্ভাব্য ফলাফল সম্পর্কে বুঝে নিন তারপর সিদ্ধান্তটি গ্রহন করুন।

মনোযোগ না দেয়া
আমরা যখন একটি কাজ করতে বসি তখন স্বাভাবিকভাবেই সেই কাজের প্রতিই আমাদের মনোযোগ আটকে থাকে। এবং তাই উচিৎ। কিন্তু কাজটিতে বিফলতা আসার অন্যতম কারণ হচ্ছে প্রয়োজন অনুযায়ী মনোযোগ না দেয়া। দেখা গেল আপনার সামান্য মনোযোগের অভাবে খুব সামান্য একটি ভুল আপনার নজর এড়িয়ে গিয়েছে। এতে করে আপনার সম্পূর্ণ পরিশ্রম মাঠে মারা যাবে। তাই কাজে সঠিক মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করুন।


একবার ভুল হলে তা নিয়ে বিষণ্ণ হয়ে পরা
মানুষ একেবারে পারফেক্ট কখনোই হতে পারেন না, পারবেন না। কাজে ভুল হতেই পারে। একজন মানুষ মেশিন নয় যে তার সকল কাজ সঠিক হবে। কিন্তু সমস্যা হলো আমাদের কাজে যখন একবার ভুল হয় তা নিয়ে আমরা অনেক বিষণ্ণ হয়ে পড়ি। দ্বিতীয়বার সেই কাজটি করার উৎসাহ একেবারেই হারিয়ে ফেলি যা কাজটিতে সফলতা আসার পথে অন্যতম বাঁধা। তাই কাজে ভুল হলে বিষণ্ণ হয়ে না পরে কাজটি নিয়ে ভাবুন। এবং বারবার অনুশীলন করুন। এতে ভুলটি নজরে পড়ে যাবে।

এমন কাজ করা যেটাতে কোনো আগ্রহই নেই
কোনো কাজে আপনি তখনই বারবার বিফল হবেন যখন আপনি কাজটি মন থেকে উৎসাহ নিয়ে না করতে পারেন। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র বাধ্য হয়ে অপছন্দের কাজে নিয়োজিত থাকেন জীবনের তাগিদে। এতে কিন্তু জীবনে উন্নতির চাইতে অবনতিই বেশি হবে। কারণ আপনি নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাই করবেন না কেন তাতে নিজের ১০০% কর্মদক্ষতা দিতে পারবেন না। তাই এমন কাজ করুন যাতে আপনার আগ্রহ রয়েছে। যা আপনি করতে পছন্দ করেন।

 

একটি সুন্দর গোছানো জীবন পেতে গড়ে তুলুন ৬ টি সহজ অভ্যাস

আমাদের অনেকেরই এমন হয়, যতই চেষ্টা করি না কেন, কি করে যেন আশপাশের সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। কাজ আর কাজের ভীড়ে একটু খানি চিন্তাহীন অবসরের সুযোগটাও মেলে না। আর এভাবে দিনের পর দিন যেতে যেতে মেজাজটাই হয়ে পড়ে বেশ খিটখিটে। অথচ কে না চায় একটু গুছিয়ে চলতে, একটু পরিপাটি জীবন পেতে? এতে যেমন কাজের সময় প্রয়োজনীইয় জিনিসপত্র খুঁজে পেতে সময় লাগে না। আবার তেমনি, সময়ের কাজ সময়ে শেষ করে নির্মল চিন্তাহীন বিনোদনের সময়টুকুও বের করে নেয়া যায় সহজেই! খুব কঠিন কিছু কিন্তু নয়, এর জন্য গড়ে তোলা চাই সহজ কিছু অভ্যাস।

১। পরের দিন কি করবেন তার প্ল্যান আগের রাতেই করে রাখুনঃ
আপনি যদি আপনার কাজের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে না রাখেন , তবে কাজই আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করবে, জেনে রাখুন। ঘুমুবার আগে স্রেফ ১০ মিনিট বরাদ্দ রাখুন। কাজগজ কলম নিয়ে প্ল্যান করে ফেলুন, আগামীকাল সকাল থেকে রাত অব্দি কি কি করবেন। আর পরদিন চেষ্টা করুন এ কাজগুলো জমিয়ে না রেখে করে ফেলার। দেখবেন চাপ কমে আসছে মাথা থেকে।

২। শুধু একটি নোটবুক ব্যবহার করুনঃ
অনেককে দেখা যায় প্রতিদিনকার কাজের জন্য একাধিক নোটবুক ব্যাবহার করে একে কাজ একেকটিতে লিখে রাখার। এটা না করে, একটিই নোটবুক রাখুন। এতে সব তথ্য প্রয়োজনের সময় একসাথে পাবেন। বার বার একেকটিতে খোঁজার দরকার হবে না।

৩। ইমেইলে সময় দিন মাত্র ৩০ মিনিটঃ
কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাতে রাখুন আপনার ই মেইল চেক করার জন্যে। গুরুত্বপূর্ণ মেইলগুলোর পাশাপাশি পরিচিতদের কাজের মেইলের উত্তরেও ধন্যবাদ জানান। এটি তাদের কাছে আপনার ভালো ইম্প্রেশন তৈরী করবে, আর চেষ্টা করুন, অপ্রয়োজনীয় মেইলগুলো মুছে ফেলতে।বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আসা বিজ্ঞাপন জাতীয় মেইলগুলো থেকে নিজেকে আনসাবস্ক্রাইব করে ফেলুন। পরবর্তীতে সময় কম নষ্ট হবে।

৪। টেবিল পরিস্কার রাখুনঃ
শুধু টেবিল নয় ড্রয়ারও পরিস্কার রাখুন। অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র টেবিলে, ড্রয়ারে স্তুপ করে রাখবেন না। নোটিশ বোর্ড বা হোয়াইটবোর্ড যতটা সম্ভব পরিস্কার রাখুন।

৫। সকাল সন্ধ্যার খানিকটা সময় নিজের জন্যেঃ
গোছানো হওয়া মানেই যে কেবল কাজের ক্ষত্রে তা কিন্তু ঠিক নয়। গোছানো হতে হলে নিজেকেও খানিকটা স্বস্তি দিতে হবে। সকালে আরাম করে কফিতে এক চুমুক দেবার জন্যে ঘুম থেকে উঠুন ১৫ মিনিট আগেই। আবার সন্ধ্যায় অফিস থেকে বাসায় ফিরেই টিভি দেখতে বসা, ফেসবুকিং বা রান্নার আয়োজন শুরুর আগে একটু সময় নিয়ে গোসল করুন। রাতে ঘুমুবার আগে দু একটা কবিতা পড়া বা গান শুনুন। জীবন সুন্দর হয়ে উঠবে মানসিক স্বস্তিতে।

৬। কাপড় অগোছালো নয়, থালাবাসন সিঙ্কে নয়ঃ
জামাকাপড় অগোছালো করে কোন রকম রেখে দেয়া, আর সকালে ইস্ত্রি করে পরে ফেলা। সেই সাথে কোন জরুরী সময়ে দেখা, দরকারী কাপড়টি নোংরা হয়ে আছে, তাই এ ব্যাপারে একটু সচেতন হোন, শুক্রবার বা ব্রিহস্পতিবার রাতেই কাপড় ধোয়ার কাজটি করে ফেলুন, আর একটু গুছিয়ে রাখলে তো সব সময়েই সুবিধা। আর থালাবাসন পরে ধোয়ার চেয়ে একটু কষ্ট করে খাওয়ার পরেই ধুয়ে ফেলুন। সময় বাঁচবে।

এভাবেই একটু একটু করে গুছিয়ে ফেলুন নিজেকে। দেখবেন খুব সহজেই জীবন হয়ে উঠেছে আরো সহজ আর স্বাচ্ছন্দ্যময়! ভালো থাকুন।

এই বছরটি বাংলাদেশ ও জাপানের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে

বন্ধুত্ব এগিয়ে নেয়ার বার্তা দিয়ে দুই দিনের সফর শেষে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় আবে ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিশেষ বিমানটি হযরত শাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী আবেকে বিদায় জানান।

জাপানের কোনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এক যুগেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশ সফর করলেন শিনজো আবে।

শেখ হাসিনার টোকিও সফরের চার মাসের মধ্যে নিজের ঢাকা সফরের কথা তুলে ধরে আবে বলেছেন, এই বছরটি বাংলাদেশ ও জাপানের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক নতুন মাত্রায় উন্নীত হল।

অন্যদিকে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য পদে নির্বাচনে জাপানকে সমর্থন করে বাংলাদেশের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আবে। তার দেড়শ সফরসঙ্গীর মধ্যে জাপানের প্রথম সারির কোম্পানিগুলোর ২২ জন প্রধান নির্বাহী ছিলেন।

বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে আগামী ৪-৫ বছরে  প্রায় ৬০০ কোটি ডলার সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণেরও আশ্বাস দেন আবে।

শনিবার দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকের পর ১০ পৃষ্ঠার এক যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন হাসিনা ও আবে।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো দৃঢ়, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে পরস্পরের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, দুই দেশের নাগরিকদের যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই দেশের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এতে বাংলাদেশি কূটনীতিকদের জাপানে ভিসা ছাড়াই যাওয়ার সুযোগ পাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

গত মে মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে যে ‘সমন্বিত অংশীদারিত্বের’ সূচনা হয়েছিল তার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীদারিত্ব অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।

শনিবার দুপুরে ঢাকা পৌঁছানোর পর প্রায় ২২ ঘণ্টার সফরের প্রথম বক্তৃতায় জাপানকে এগিয়ে নিতে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন শিনজো আবে।
মন্দাক্রান্ত জাপানি অর্থনীতিকে চাঙা করতে আবে যে নীতি গ্রহণ করেছেন, তা ‘আবেনোমিকস’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

নিজের নীতির সফল প্রয়োগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারতের মধ্যবর্তী দেশ বাংলাদেশের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “জাপানের অর্থনীতিকে চাঙা করতে আমি আবেনোমিকসের প্রয়োগ ঘটাচ্ছি। এজন্য জাপানের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি আজ বাংলাদেশ সফর করছি।”

কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সহায়তা দিচ্ছে জাপান।

বঙ্গোপসাগরের তীরে বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা (বে অফ বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট-বিগ বি) প্রতিষ্ঠাই বাংলাদেশকে সহযোগিতার অগ্রাধিকারে রাখার প্রতিশ্রুতিও দেন আবে।
রোববার সকালে ঢাকা ছাড়ার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউট পরিদর্শন করেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী।

সফরে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।

তার স্ত্রী আকি আবে একটি মিশনারি স্কুল এবং ঢাকা নার্সিং কলেজ পরিদর্শন করেন।

প্রায় দুই যুগ পর জাপানি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রীলঙ্ক সফর করছেন শিনজো আবে।

স্ত্রী নির্যাতনে দক্ষিন এশিয়ায় বাংলাদেশ শীর্ষে

স্ত্রী নিপীড়নের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। বাংলাদেশে প্রতি ৫ জনের ১জন বিবাহিত নারী স্বামীর হাতে যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। আর বিশ্বে প্রতি ১০ জনে একজন মেয়ে ১৯ বছর বয়স পেরোনোর আগেই ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়।

গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত ‘হিডেন ইন প্লেইন সাইট’ (দৃষ্টির মধ্যেই সুপ্ত) শীর্ষক জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)-এর একটি রিপোর্ট থেকে এই তথ্য জানা যায়। ১৯০টি দেশ থেকে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে এই রিপোর্টটি তৈরি করা হয়।

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের পরে রয়েছে ভারত ও নেপালের অবস্থান। ৪২টি দেশের তথ্য নিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতি ১০ জনে ১ জন স্বামীর হাতে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। বাংলাদেশে স্বামীর হাতে স্ত্রীর যৌন নির্যাতনকে একটি স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বামী বা সঙ্গীর দ্বারা নির্যাতন
সারা বিশ্বে বিবাহিত কিশোরীদের (১৫ থেকে ১৯ বছর) মধ্যে শারীরিক, যৌন বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হয় প্রতি তিনজনে একজন। এই হার সবচেয়ে বেশি ইকুয়েটোরিয়াল গিনিতে, ৭৩ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম ইউক্রেনে, ২ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এই হার সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে, ৪৭ শতাংশ। ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এ ক্ষেত্রে ৭ নম্বরে। এরপর ভারত, পাকিস্তান ও নেপালে এই হার যথাক্রমে ৩৪, ২৮ ও ২৩ শতাংশ।

বিয়ের পর নির্যাতন
প্রতিবেদনে বলা হয়, কম বয়সে বিবাহিত মেয়েরা পরিবারের মধ্যে স্বামী বা অন্য সদস্যদের দ্বারা বেশি নির্যাতনের শিকার হন।

সহজে অনেকক্ষণ পড়া মনে রাখার ৫টি দারুণ কৌশল

ইদানিং ছাত্রছাত্রীরা প্রায়ই একটি সমস্যাতে ভুগে থাকেন। আর সেটা হলো কোনোভাবেই পড়া মনে রাখতে না পারা। সাধারণত অতিরিক্ত লেখাপড়ার চাপে তাদের এই সমস্যা হয়ে থাকে। দেখা যায় যে অনেক পরিশ্রম করে পড়া মুখস্ত করে পরীক্ষা দিতে গেলেন, কিন্তু পরীক্ষা হলে গিয়ে সব বেমালুম ভুলে বসেছেন। কেন পড়াটি তাদের বেশিক্ষণ মনে থাকে না? আর এই সমস্যাটি থেকে বাঁচার উপায়টাই বা কী? আসুন জেনে নিই সহজ কয়েকটি উপায়ে স্মৃতিশক্তি কীভাবে বাড়ানো যায়, কীভাবে পড়া অনেকক্ষণ মনে রাখা যায়।

মনোযোগ তৈরি করা :

মানুষের সমস্ত ক্রিয়াই নিয়ন্ত্রণ করে মন। আর মনটিকেই প্রথমত বুঝিয়ে নিতে হবে যে এখন আমি এই কাজটি করব এবং এই কাজটি আমাকে মনে রাখতে হবে। তাই পড়ার বিষয়ে আগে মনোযোগ বসিয়ে নিতে হবে। যে পড়াটি পড়বেন সেই পড়াটিতে মনোযোগ স্থাপন করতে হবে।

মেডিটেশন করে নিন :
পড়াশোনায় মনোযোগ পুরোপুরি বসাতে চাইলে ব্রেন থেকে যাবতীয় যত চিন্তা তা মুক্ত করতে হবে। অর্থাৎ ব্রেনটিকে রিফ্রেশ করতে হবে। এর জন্য মেডিটেশন সবচেয়ে উপযোগী। মেডিটেশন ব্রেনকে সতেজ ও চিন্তামুক্ত করে তোলে এবং এর কাজ করার ক্ষমতাকে হাজার গুল বাড়িয়ে দেয়। এর জন্য স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে তুলতে মেডিটেশন করে নিতে পারেন।

জটিল টপিকগুলো বারবার পড়ুন :
মনে রাখার জন্য ছোটবেলা থেকেই বারবার পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে বলেন বাবা মায়েরা। একটি বিষয়ে অনেক জটিল টপিক থাকতে পারে। এই জটিল টপিকগুলো একবার পড়ে মনে রাখা সম্ভব না। তাই এই ধরনের জটিল টপিকগুলো বারবার পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রয়োজনে অবসর সময়ে তা আওড়াতে পারেন। এতে বিষয়টি মনে থাকবে বেশি।

বাস্তবের সাথে মিলিয়ে পড়ুন :
কোনো কিছু মনে রাখার জন্য তা যদি বাস্তব কোনো বিষয়ের সাথে মিলিয়ে পড়া যায় তাহলে তা অনেক বেশি মনে থাকে। এজন্য যতটা সম্ভব বাস্তব কোনো বিষয়কে উদাহরণ হিসেবে ধওে পড়াটি মুখস্ত করুন।

পড়াটি কাউকে বোঝান :
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে বা পড়াটি মনে রাখতে সবচেয়ে উপযোগী মাধ্যম হল যে পড়াটি আপনি পড়েছেন তা অন্যকে যদি বুঝিয়ে বলা। এমন অবস্থাতে আপনি যদি কাউকে কোনো জটিল বিষয় বুঝিয়ে বলেন যেমনটা টিচাররা স্টুডেন্টদের বুঝিয়ে থাকেন তাহলে বিষয়টি আপনার ব্রেনে এমনভাবে গেঁথে যাবে যা কখনই আপনি ভুলবেন না।

রাষ্ট্রের দায় যৌনকর্মীরা কেন নেবেন?

গত কয়েক দশক ধরে দেখছি, দেদারসে চলছে যৌনপল্লী উচ্ছেদ। ‘যৌনতা তো এমনিতেই অন্ধকারাচ্ছন্ন ঘটনা, তাই উচ্ছেদে কি আসে যায়’- এই ধারণা থেকেই মনে হয় সমাজের বিভিন্ন স্তরে এই উচ্ছেদ এবং নিগ্রহ নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য নেই। সরকার তো চোখ বুজেই রয়েছে, বুদ্ধিজীবীরা তেমন করে কিছু বলছেনও না, মিডিয়ার চোখ নেই, বিভিন্ন ফোরামের কর্তাব্যক্তিরাও কোনমতে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন। যেন কিছুই হয়নি, কিংবা হলেও অত গুরুত্বপূর্ণ কিছু না। তোবা গার্মেন্টসের কর্মীরা অনশন করেছেন, তাদের পাশে ছিল বামসংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন। এরকম বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম-অবিচারের সময় একমতের মানুষরা, মানবিক মানুষরা পাশে এসে দাঁড়ান। নানান সংকটপূর্ণ অবস্থায় বুদ্ধিজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কলামিস্ট, লেখকরা নানান কথা লেখেন, দিকনির্দেশনা দেন। যৌনকর্মীদের জন্য তারা কি সময় করে উঠতে পারছেন না, নাকি যৌনতা এবং যৌনকর্মীদের অসহায় জীবনযাপন সর্ম্পকে তারা অপরিচিত কিংবা এ বিষয়ে কথা বলতে লজ্জাবোধ করছেন, তা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না।