ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

পাক প্রধানমন্ত্রীর আহবান আফগান সীমান্ত বন্ধ করে দিতে কারজাইয়ের প্রতি

Rate this item
(0 votes)

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে টেলিফোন সাক্ষাতে সশস্ত্র ব্যক্তিদের আফগানিস্তানে পালিয়ে যাওয়া রোধ করার আহবান জানিয়েছেন। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী যখন উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় উগ্র তালেবান গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যাপক সেনা অভিযান চালাচ্ছে তখন দেশটির প্রধানমন্ত্রী এ আহবান জানালেন।

কারজাইয়ের সঙ্গে টেলিফোন সাক্ষাতে পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ আরো বলেছেন, আফগানিস্তান সরকার উত্তর ওয়াজিরিস্তানসহ উপজাতি অধ্যুষিত এলাকা সংলগ্ন দীর্ঘ সীমান্ত বন্ধ করে দিয়ে পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসীদেরকে আফগানিস্তানে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ঠেকাতে পারে। একই সঙ্গে তিনি পাকিস্তানে হামলাকারী তালেবানদের অবস্থানের ওপর হামলা চালানোর জন্য আফগান কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানান।

 

পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ এমন সময় আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই’র সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করলেন এবং আফগান সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার অনুরোধ জানালেন যখন গত কয়েক মাস ধরে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আফগানিস্তান পাকিস্তান ভূখণ্ড থেকে দেশটির কুনার প্রদেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ করে আসছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকারও তাদের উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় সীমান্তবর্তী সামরিক চেক পোষ্টে আফগান সেনাদের হামলার অভিযোগ করে আসছে। এসব পাল্টাপাল্টি অভিযোগে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ সন্ত্রাসীদের আফগানিস্তানে পালিয়ে যাওয়া ঠেকানোর জন্য যৌথ সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য প্রেসিডেন্ট কারজাইয়ের প্রতি যে আহবান জানিয়েছেন তার উদ্দেশ্য হচ্ছে, উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় চলমান তালেবান বিরোধী অভিযানে অর্জিত সাফল্য ধরে রাখা।

 

পাকিস্তান সরকার মনে করে দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা যদি বন্ধ করা না যায় তাহলে তালেবানদের বিরুদ্ধে যত বড় সামরিক অভিযানই চালানো হোক না কেন তাতে কোনো লাভ হবে না। পাকিস্তান সরকার বর্তমানে তালেবানের বিরুদ্ধে সফল অভিযান চালিয়ে সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে তাদেরকে বাধ্য করার চেষ্টা চালাচ্ছে। গত কয়েক মাস ধরে চলা তালেবানের সঙ্গে সরকারের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর তালেবানকে দুর্বল করার জন্য সামরিক হামলা চালাচ্ছে। সরকার যদি এ পদক্ষেপ না নেয় তালেবানরাও আলোচনার গুরুত্ব উপলব্ধি করবে না বলে সরকার মনে করছে।

 

তাই পাকিস্তানে সহিংসতার অবসান ঘটানোর জন্য আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া পাকিস্তান সরকারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পাকিস্তান সেনাবাহিনী যেভাবে তালেবানদেরকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে তাতে তারা যদি আফগানিস্তানে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ না পায় তাহলে তালেবানদেরকে হয় আলোচনা অথবা মৃত্যু এ দু’টির যে কোনো একটি পথ বেছে নিতে হবে।

 

অবরুদ্ধ হয়ে পড়া তালেবানদের মধ্যেও মতবিরোধ চলছে এবং এর ফলে অনেকটা নরম সুরে সরকারের সঙ্গে তারা শান্তি আলোচনায় বসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ আফগানিস্তানের  সঙ্গে উত্তেজনা  সৃষ্টি হলেও সীমান্ত বন্ধ করে দিয়ে ইসলামাবাদকে সহযোগিতা করার জন্য প্রেসিডেন্ট কারজাইয়ের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।