ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Friday, 28 February 2014 20:20

সাতষট্টির সীমান্তে ফিরলেই মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা

Rate this item
(0 votes)

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনায় কোনো সিদ্ধান্তে সম্মত হয়নি ফিলিস্তিন। তারা দাবি করেছে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের আগের সীমান্ত বহাল রাখার বিষয়ে নিশ্চয়তা পেলেই আলোচনা হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস দু'দফা বৈঠক করলেও কোনো সিদ্ধান্তে পেঁৗছানো সম্ভব হয়নি। গতকাল শুক্রবার জন কেরির সঙ্গে ফিলিস্তিনের প্রধান আলোচক সায়েব ইরাকাত সর্বশেষ বৈঠক করেন। বৈঠকে ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে প্রস্তাব রাখা হয়, ১৯৬৭ সালের সীমান্ত রেখায় ইসরায়েল সম্মত হলেই শান্তি আলোচনায় কোনো আপত্তি থাকবে না তাদের। তাছাড়া দখলকৃত ভূখণ্ড থেকে বসতি সরিয়ে নিতে হবে। বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হন জন কেরি। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফের ফিলিস্তিনের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে বৈঠকের আহ্বান জানান। গত

বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহুকে ফোন করে এ কথা বলেন ওবামা। হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, এ দুই নেতা নিয়মিতই ফোনালাপ করে থাকেন। এবারের আলাপে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল শান্তি আলোচনা প্রাধান্য পেয়েছে। খবর : বিবিসি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, এএফপি।
শুক্রবার আম্মানে জন কেরির সঙ্গে বৈঠকে সায়েব ইরাকাত প্রস্তাব রাখেন, সাধারণ সীমারেখা নির্ধারণের বিষয়ে ইসরায়েল সম্মত হলেই শান্তি আলোচনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ফিলিস্তিন। এদিকে এ ধরনের পূর্বশর্তে শান্তি আলোচনা শুরুর বিষয়ে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা ফের শুরু করার প্রচেষ্টা এবারও ব্যর্থ হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন মার্কিন কূটনীতিকরা। ইসরায়েলও তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। ইসরায়েলের আলোচকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফলপ্রসূ বৈঠকের নিশ্চয়তা পেলেই শান্তি আলোচনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসরায়েল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বোচ্চ সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নেতানিয়াহুকে বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে আলোচনা করে যতদ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করতে। অবিলম্বে শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানান ওবামা। ২০১০ সালে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের এই দু'দেশের শান্তি আলোচনা শুরু করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সে উদ্দেশ্যেই এক সপ্তাহের মধ্যপ্রাচ্য সফরে আসেন কেরি। কেরির প্রস্তাব খতিয়ে দেখে ইসরায়েল কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ফিলিস্তিন শর্ত প্রয়োগ করেছে যেটিতে ইসরায়েলের আপত্তি রয়েছে।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জন কেরির শান্তি আলোচনা প্রস্তাব খতিয়ে দেখেছেন। তবে দু'দফা কেরির সঙ্গে বৈঠকের পরও শান্তি আলোচনা শুরু বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি তিনি।
গত বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এক বৈঠকে ফিলিস্তিন-ইসরায়েলের শান্তি আলোচনা আবার শুরু করার জন্য মার্কিন প্রস্তাব উত্থাপন করেন দেশটির নেতাদের সামনে। পিএলও নেতাদের বৈঠকে বলা হয়েছে, কেরির শান্তি প্রস্তাব ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনার জন্য যথেষ্ট নয়।
কেরির সর্বশেষ বৈঠকেও কেরির কাছে ফিলিস্তিনের প্রধান আলোচক এরাকাত এই অসঙ্গতির বিষয়গুলো উত্থাপন করেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ফিলিস্তিনের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে ব্যর্থ হয়েই ফিরতে হচ্ছে জন কেরিকে।