ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Friday, 28 February 2014 20:14

ইরানের সঙ্গে চুক্তি হবে ঐতিহাসিক :কেরি

Rate this item
(0 votes)

মধ্যপ্রাচ্য সফরের মাঝপথে জেনেভায় ফিরে গেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈদেশিক নীতিনির্ধারণ বিভাগের প্রধান ক্যাথারিন অ্যাশটনের আমন্ত্রণে জেনেভায় ছয় পরাশক্তির সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিবিষয়ক বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য তিনি তার সফর সূচিতে এই পরিবর্তন আনেন। জেনেভায় তেহরান ও ছয় শক্তির প্রতিনিধিদের মধ্যে বৃহস্পতিবার আলোচনা শুরু হয়। এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে ইরানের সঙ্গে বিশ্বশক্তিগুলোর সম্পর্ক ও তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনায় ঐতিহাসিক

পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছেন জন কেরি। এদিকে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনাকে 'মারাত্মক ভুল' বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। খবর এএফপি, বিবিসি ও আলজাজিরার।
এদিকে সম্মেলনে সব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যোগ দিলেও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন না বলে জানিয়েছেন লাভরভের মুখপাত্র।
জেনেভায় এই বৈঠকের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে বিশ্বশক্তিগুলোর যে মতপার্থক্য চলে আসছিল, তার একটা সন্তোষজনক সুরাহা হতে যাচ্ছে বলে আশা করছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, শুক্রবার বৈঠকের দ্বিতীয় দিন একটি চুক্তি হতে পারে। বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন জন কেরি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য সফরের মাঝপথে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জেনেভায় চলে যাওয়াকে বেশ নাটকীয় বলেই মনে করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনায় ইতিবাচক ফল লাভের আভাস পেয়েই জন কেরি মধ্যপ্রাচ্য সফর স্থগিত রেখে ইউরোপে চলে গেছেন। সংবাদ সংস্থাগুলো মন্তব্য করেছে, বৈঠকে উভয়পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য কমে এসেছে এবং তারা একটি ইতিবাচক চুক্তি সম্পাদনের ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে উঠেছে। জেনেভায় ইরানের পারমাণবিক কমসূচি-সংক্রান্ত বৈঠকে ইরানের প্রতিপক্ষ দেশগুলো হচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে জার্মানি।
বৃহস্পতিবার সিএনএনের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ বলেছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি একেবারে বন্ধ করবে না। তারা মূলত এর নানা দিক নিয়ে আলোচনা এবং সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ঐকমত্যে পেঁৗছতে পারলে একটা চুক্তি করতে সম্মত হতে পারে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে শুরু থেকেই সন্দেহের চোখে দেখছে পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ দেশ যুক্তরাষ্ট্র। তাদের আশঙ্কা, ইরান ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্যেই তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা কাজটা অব্যাহত রেখেছে।
ইরনের সঙ্গে সফল চুক্তি সম্পাদনের বিনিময়ে তাদের বেশকিছু সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, আমরা তাদের বেশ কিছু ছাড় দেব। তবে পরিপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এখনই তুলে নেওয়া হবে না।
এদিকে জেনেভায় চুক্তি নিয়ে ইরান আর পরাশক্তিগুলো যতই উচ্ছ্বাস দেখাক না কেন, ইসরায়েল এই চুক্তি নিয়ে নিজের অসন্তোষ লুকাতে পারেনি। বরং প্রকাশ্য সমালোচনায় মুখর হয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার মতে, এটা খুব মারাত্মক ভুল হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ইরান খুব আনন্দের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। কারণ তারা জানে, তারা বেশ কিছু পেতে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের কিছুই দিতে হচ্ছে না। জেনেভা বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন কেরি।
নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত হতে যাওয়া চুক্তিকে ইরানের জন্য 'ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি' হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পেতে যাচ্ছে এমন একটা চুক্তি, যা তাদের জন্য খারাপ ফল বয়ে আনবে কেবল।