ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Friday, 28 February 2014 19:54

বাড়ছে রাশিয়ার প্রভাব

Rate this item
(0 votes)

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপড়েনের ফলে রাশিয়ার জন্য হারানো প্রতিপত্তি পুনরুদ্ধারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে চলেছে। সবার আগে যে লাভটা একদম নগদ বলে মনে হচ্ছে, সেটা হলো মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে রাশিয়ার বাজার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা। সৌদি আরবের সঙ্গে মিত্রতাপাশে আবদ্ধ হয়ে নিজেদের শক্তি সুসংহত করার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল অস্ত্রবাজার কুক্ষিগত করেছিল সুপার পাওয়ার যুক্তরাষ্ট্র। তারাই ছিল এর একক নিয়ন্তা। তবে তাদের সে একচেটিয়া বাণিজ্যে এখন ভাগ বসাতে পারে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র যেমন প্রকাশ্যে বিভিন্ন পক্ষকে অস্ত্র সংবরণের উপদেশ-পরামর্শ দেয়, তেমনি মার্কিন অস্ত্র কেনার মন্ত্রণাও দিয়ে থাকে গোপনে। বিশ্ব শান্তিরক্ষীর ভেক ধরে অশান্তির আগুন জ্বেলে ব্যতিব্যস্ত রাখতে চায় সব পক্ষকে। এই অঞ্চলে তাদের স্বার্থরক্ষার সবচেয়ে বড় ও বিশ্বস্ত মিত্রের দায়িত্ব পালন করে আসছে

সৌদি রাজতন্ত্র। আঞ্চলিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের জন্য সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করেছে তারা। যুক্তরাষ্ট্র্র-সৌদি আরবের মন কষাকষিকে নিজেদের হারানো সম্মান ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছে রুশরা। একই সঙ্গে পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বীদের ক্ষমতার খর্বতা হিসেবেও বিবেচনা করছে ব্যাপারটাকে।

তবে এটাও ঠিক, শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা কমে গেছে এমনটাও কেউ ভাবছে না। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান, ইরানের পরমাণু বিতর্ক কিংবা অন্যান্য আঞ্চলিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র্রই এখনও প্রধান পুরোহিত। তার আসন ধরে টানাটানি করতে যাচ্ছে না রাশিয়া। তবে মানুষের মনে একটা জিনিস ধীরে ধীরে উপলব্ধি হতে যাচ্ছে, যে আগ্রহ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে একদিন যুক্তরাষ্ট্রের নাক গলানো শুরু হয়েছিল, সে আগ্রহে ধীরে ধীরে ভাটার টান শুরু হয়েছে। হতে পারে আমেরিকার এখন আর পুলিশগিরি করতে ভালো লাগছে না। তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের তেলটাও এখন আর আগের মতো নিজেদের জন্য জরুরি মনে হচ্ছে না। এর ফলে অবশ্য মধ্যপ্রাচ্যের আরব শাসকদের কাছে আমেরিকাকে আগের মতো নির্ভরযোগ্য মিত্র মনে হচ্ছে না। সেদিকে রাশিয়ার ওপরও তুষ্টও নন কিছু কিছু আরব শাসক। আসলে আরবরা এখন বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের ব্যাপারটা অনুভব করতে পারছে। ইরাক আর আফগানিস্তান থেকে আমেরিকার পশ্চাদপসরণকে তাদের ক্ষমতার হ্রাসপ্রবণতা বলেই প্রতিপন্ন হচ্ছে তাদের কাছে।
যেই সিরিয়াকে নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে ওবামা প্রশাসন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেই সিরিয়ান নেতৃত্বকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। রাশিয়ার এই সমর্থনকে এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে সমীহভরে দেখা হচ্ছে। এমনকি, ক্রেমলিনের অন্যান্য নীতির সঙ্গে যেসব কট্টর উপসাগরীয় শাসকদের মতের অমিল ছিল, তারাও নড়ে-চড়ে বসতে শুরু করেছে এখন। এখানেই রাশিয়ার জন্য একটা সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে ভাবছেন কূটনীতিকরা। ১৯৫০ থেকে ১৯৬০ সালের মধ্যবর্তী দশকে রাশিয়ার যে প্রভাব ছিল মধ্যপ্রাচ্যে, এখন তা পুনরুদ্ধারের সুযোগ চলে এসেছে তাদের সামনে। রাশিয়া নিশ্চয় এটাকে সুসংহত করার জন্য চেষ্টার ত্রুটি রাখবে না। শীতল যুদ্ধের যুগ শেষ হয়েছে আরও দুই দশক আগে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতা হারিয়েছে রাশিয়া তার সঙ্গে সঙ্গেই। ভ্লাদিমির পুতিন চান, সেই পুরনো দিনের পুনরাবৃত্তি। কুয়েত এয়ার ফোর্সের এক সাবেক কমান্ডার বলেন, বিভিন্ন দেশ এখন অস্ত্রচুক্তি নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা করছে। এটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সতর্ক সংকেতও বটে। পুতিন চাইছেন পুরনো সোভিয়েত সাম্রাজ্য ফিরিয়ে আনতে। আর আমেরিকার সামান্যতম ভুল পদক্ষেপ তাকে ইচ্ছা পূরণে এগিয়ে দেবে অনেক দূর।