ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

১৩ বছর গৃহবন্দী চার সৌদি রাজকন্যা

Rate this item
(0 votes)

চার মেয়ে সাহার, মাহা, হালা, জাওয়াহেরসহ বাদশাহ আবদুল্লাহদীর্ঘ ১৩ বছর ধরে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে সৌদি বাদশা আবদুল্লাহর চার মেয়েকে। মূলত বাদশাহর নির্দেশেই নাকি তাদের বন্দী করে রাখা হয়েছে বলে ই-মেইল ও টেলিফোনে এ তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন রাজকন্যারাই।সোমবার ব্রিটেনের সানডে টাইমস, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও ডেইলি মেইলে এই খবর প্রকাশিত হয়।
ব্রিটিশ দৈনিকগুলোতে দেয়া সাক্ষাৎকারে বাদশাহ আব্দুল্লাহর প্রাক্তন স্ত্রী আলানুউদ আল ফায়েজ অভিযোগ করেছেন, তার কাছে ওই ই-মেইল পাঠান রাজকন্যারা। একইসঙ্গে টেলিফোনে সৌদি রাজকন্যা সাহার ও জাওয়াহের তাদের মাকে জানান, তাদের দুই বোন হালা ও মাহাসহ তাদেরকে দুটি আলাদা প্রাসাদে ১৩ বছর ধরে বন্দী করে রাখা হয়েছে। সৌদি আরবের মানুষের দারিদ্র্যতার কথা বলতে যাওয়াতেই তাদের বাবা বাদশাহ

আবদুল্লাহ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং গৃহবন্দী করতে নির্দেশ দেন।
বর্তমানে বন্দীদের ওপর নজর রাখে তাদের সৎ ভাই। তাদের মা আলানুউদ আল ফায়েজ এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কাছে একটি চিঠিও নাকি লিখেছেন।
সৌদি রাজার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের শিকার আলানুউদ আল ফায়েজ জানিয়েছেন, তার মেয়েরা এখনো বন্দী তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এবং তাদেরকে গোটা বাইরের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।  সৌদি আরবের শাসকরা নারীদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে নানা অধিকার থেকে বঞ্চিত রেখেছেন।
এরইমধ্যে চ্যানেল ফোর প্রথম আল ফায়েজের একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করেছে। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বাদশাহ আব্দুল্লাহর সঙ্গে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়। বিয়ের দিন থেকে তিনি কখনো বাদশাহর চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলেননি। তারপর একেএকে তার সাহার, মাহা, হালা, জাওয়াহের নামে চারটি মেয়ে হয়। ছোটবেলা থেকেই তাদের প্রাসের অভ্যন্তরে রাখা হতো। কিন্তু বাদশাহর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি অসহ্য হয়ে মেয়েদের রেখেই লন্ডন পালিয়ে যান।