ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Friday, 28 February 2014 17:37

আফ্রিকা থেকে তুলা আমদানি ২৫ শতাংশ বেড়েছে

Rate this item
(0 votes)

 

 

 

তুলা আমদানিতে ভারত-পাকিস্তানের বিকল্প উৎস হিসেবে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের দিকে ঝুঁকছেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা। গত বছরের মে থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত আগের একই সময়ের তুলনায় পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি বেড়েছে ২৫ শতাংশেরও বেশি। এ সময় চার লাখ ২৫ হাজার বেল তুলা আমদানি করা হয়েছে আফ্রিকা থেকে। আগের বছর এর পরিমাণ ছিল তিন লাখ দুই হাজার বেল।


উদ্যোক্তাদের মতে, পোশাক উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রধান কাঁচামাল তুলার প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর। দর ওঠা নামার খেলা ছাড়াও প্রতিবছরই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তুলা সংগ্রহে এক ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে তারা। বিশেষ করে প্রধান আমদানি উৎস ভারত বিভিন্ন সময়ে তুলা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এতে ক্রেতাদের সময়মতো পণ্য সরবরাহ দিতে বিপাকে পড়েন উদ্যোক্তারা। এ কারণে বিকল্প আমদানি উৎস হিসেবে আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন দেশ থেকে তুলা আমদানিতে ঝুঁকছেন তাঁরা।
জানা গেছে, আফ্রিকা থেকে তুলা আমদানি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কয়েক মাস আগে বাংলাদেশের বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তাদের একটি প্রতিনিধিদল আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ সফরে যায়। সফরে তুলার উৎপাদন, দর ও মান সরেজমিনে দেখে আসেন তাঁরা। এরপর ফিরতি সফরে সম্প্রতি আফ্রিকান কটন অ্যাসোসিয়েশনের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফরে এসেছে। ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের (আইটিসি) সহযোগিতায় প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশে বাজার সম্প্রসারণ করতে চায়। এ জন্য আফ্রিকা থেকে তুলা আমদানিতে লিড টাইম কমিয়ে আনা এবং উদ্যোক্তাদের তুলা আমদানিতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলেছেন তাঁরা।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশ বছরে যে ৪০ লাখ বেল তুলা আমদানি করে তার ১০ শতাংশ আসে আফ্রিকা থেকে। এর পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ভারত, পাকিস্তান এবং সিআইএস দেশ থেকে প্রধানত তুলা আমদানি করে বাংলাদেশ। এর মধ্যে তুলা উৎপাদনে ও রপ্তানিতে বিশ্বের দ্বিতীয় প্রধান দেশ ভারত থেকে আসে ৩৫-৪০ শতাংশ।
জানতে চাইলে বিটিএমএ পরিচালক আশরাফ হোসেন বাউল বলেন, 'আফ্রিকার তুলা মানের দিক থেকে অনেক উন্নত। আমাদের এখানে এ ধরনের তুলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে আফ্রিকা থেকে আমদানিতে প্রধান সমস্যা হচ্ছে দূরত্ব। রপ্তানি আদেশ দেওয়ার পর তুলা বুঝে পেতে অন্তত চার থেকে পাঁচ মাস সময় লেগে যায়। এ কারণে আফ্রিকান তুলার সম্ভাবনা এখানে পুরোপুরি কাজ লাগানো যায়নি। তবে সময় কমিয়ে আনার বিষয়ে আফ্রিকান কটন অ্যাসোসিয়েশন কাজ করছে।
তুলা আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে আফ্রিকা সফরে যাওয়া এএইচবি কটন টেক্সাইলের এমডি ফরহাদ হোসেন খান বলেন, 'ভারত হঠাৎ কোনো নোটিশ ছাড়াই কয়েকবার তুলা রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। তখন আমরা বেশি দামে অন্য দেশ থেকে তুলা আমদানি করেছি। এসব অভিজ্ঞতার কারণে বিকল্প উৎস থেকে তুলা আমদানির ব্যবস্থা করছেন উদ্যেক্তারা।' তিনি জানান, জিম্বাবুয়ে, সুদান, মালি, আইভরিকোস্ট, উগান্ডা, জাম্বিয়াসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশ তুলা আমদানি করে থাকে।
বিটিএমএ সূত্র থেকে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দরের উঠানামা, উৎপাদন কম-বেশিসহ বিভিন্ন কারণে প্রায় প্রতিবছরই ভারত তুলা রপ্তানি বন্ধ রাখে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বছরে ১৫ লাখ বেল তুলা আমদানির কোটা বরাদ্দ রাখার অনুরোধ জানিয়ে চুক্তির প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ। কিন্তু তুলা দিতে রাজি হলেও একাধিক শর্ত দিয়েছে দেশটি। ভারতের এসব শর্ত মেনে তুলা আমদানি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি বাংলাদেশ।

 

 

 

Last modified on Sunday, 09 March 2014 23:53