ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Friday, 28 February 2014 17:32

দিস টাইম ফর আফ্রিকা

Rate this item
(0 votes)

তিউনিসিয়া কিংবা মিসর বিপ্লব তথা আরব বসন্তে বাতাস দিচ্ছে ফেইসবুক আর টুইটার। তথ্যপ্রযুক্তির এ সাফল্য চোখ খুলে দিয়েছে আফ্রিকার আর দশটা দেশের। এসব দেশও তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অন্য এক বিপ্লবের কথা ভাবছে। কাজও শুরু করে দিয়েছে। সব দেখে মনে হচ্ছে, ডিজিটাল বিপ্লবের ছোঁয়ায় শিগগিরই বদলে যাবে চিরচেনা রুগ্ণ বেশের আফ্রিকা। তারা নিজেরাই তৈরি করছে ফেইসবুক কিংবা টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগের সাইট। গণসচেতনতা বাড়াতে ব্যবহার করছে রেডিও আর মোবাইল ফোনের মতো প্রযুক্তি। 

 

 

নতুন সামাজিক যোগাযোগ
আমরাই ঘটাব আফ্রিকার সেরা বিপ্লবটি_এমন ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছে টম স্টিনবার্গ। আফ্রিকার জনপ্রিয় ওয়েবসাইট 'মাই সোসাইটি' ও 'ফঙ্ মাই স্টিট'-এর প্রতিষ্ঠাতা কেনিয়ার এই বাসিন্দা তাঁর নতুন সাইটের নাম দিয়েছেন 'দে ওয়ার্ক ফর ইউ'। মূলত এই ওয়েবসাইটটি একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হলেও ফেইসবুক কিংবা টুইটারের চেয়ে বেশ কিছু সুবিধা থাকছে এখানে। যেমন_একজন নাগরিক তাঁর অভাব-অভিযোগ কিংবা মতামত এই সাইটের মাধ্যমে সরাসরি জানাতে পারবেন সে দেশের সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রীদের। অভাব-অভিযোগগুলোকে তাঁরা কতটা আমলে নিলেন তার একটা জরিপও দেওয়া থাকবে। শুধু তা-ই নয়, একদল ব্যবহারকারী 'গ্রুপ' বানিয়ে স্বয়ং রাষ্ট্রপতিকেও আমন্ত্রণ জানাতে পারবে আলোচনার জন্য। তা ছাড়া এমন কিছু টুলস এই সাইটটিতে সংযুক্ত থাকবে, যা ব্যবহার করে একজন নাগরিক তাঁর অধিকার ও আইন সম্পর্কেও জানতে পারবেন।
'দে ওয়ার্ক ফর ইউ' সাইটটি ইতিমধ্যে উগান্ডা ও জিম্বাবুয়ের নির্বাচনে ব্যবহার করা হয়েছে। কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির নির্বাচনপূর্ব সহিংসতা রোধে সাধারণ জনগণের মতামতের জরিপের কাজটি এই সাইট ব্যবহারের মাধ্যমে সম্পন্ন করেছে 'সোডনেট' নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। সোডনেটের প্রধান নির্বাহী পিলিপা ইগো জানান, এটি সত্যিই আফ্রিকায় ডিজিটাল বিপ্লব আনতে যাচ্ছে। কারণ সেরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাইটটির কার্যপদ্ধতি অনেক সহজ ও সাবলীল করা হয়েছে। ফলে যেকোনো নাগরিক এটা সহজে ব্যবহার করতে পারবেন। সাইটটি আফ্রিকা মহাদেশের দেশগুলোর সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে।

রেডিও আড্ডা
কিছুটা পুরনো টেলিগ্রাফ ব্যবস্থাকেই নতুন আঙ্গিকে রেডিওতে আনতে যাচ্ছে আফ্রিকার বাসিন্দা ও বিশ্বজুড়ে ফ্রন্ট লাইন এসএমএসের প্রবক্তা কেন ব্যাংকন্স। নতুন এই পদ্ধতিকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে ইতিমধ্যে তিনি আফ্রিকার রেডিওগুলোকে এক ছাতার নিচে আনার কাজ শুরু করেছেন। একজন নাগরিক তাঁর মোবাইল ফোনে একটি সংক্ষিপ্ত তারবার্তার মাধ্যমে জানতে পারবেন যেকোনো দুর্যোগের সর্বশেষ অবস্থা। এই তারবার্তাটি প্রেরণ করা হবে রেডিও স্টেশন থেকে। মূলত মোবাইল ফোন আর রেডিওর সংকেতকে সমন্বয় সাধন করে নতুন পদ্ধতিটি চালু করতে যাচ্ছেন তিনি। এ পদ্ধতি ব্যবহার করে একজন শ্রোতা একই সময়ে অন্য শ্রোতাদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নিতে পারবেন। আরেক প্রতিষ্ঠান 'ইন্টার নিউজ'-এর প্রধান নির্বাহী আইডা জোস্টির তত্ত্বাবধানে দক্ষ একদল রেডিও জকি তৈরির কর্মশালাও ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। আফ্রিকার দুর্গম অঞ্চলের মানুষদের সঙ্গে রাষ্ট্রের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে রেডিও। তাই কেনের রেডিও আড্ডার এই নতুনত্ব আফ্রিকার ডিজিটাল বিপ্লবে যুগান্তকারী ঘটনা হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মুঠোফোনে তারুণ্যের বিপ্লব
মুঠোফোনে সংক্ষিপ্ত বার্তা দিয়ে সচেতন করা হবে যুবসমাজকে। আর এই উদ্যোগ নিয়েছেন 'কেনিয়া ইয়ুথ এজেন্ডা'-এর প্রধান নির্বাহী সুসান কারিওকি। ভয়াবহ মাদকের ছোবলে আফ্রিকা যখন ধ্বংসের প্রান্তে ঠিক তখনই সুসানের এই উদ্যোগ নতুনভাবে আশা জাগাচ্ছে জনমনে। শুধু তা-ই নয়, এ কাজের জন্য সরকার নতুন সিমও বাজারে আনতে যাচ্ছে। যে কেউ স্বাস্থ্য সুরক্ষাসংক্রান্ত মতামত সংক্ষিপ্ত বার্তার মাধ্যমে মুঠোফোন প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রেরণ করলে তা পেঁৗছে যাবে বাকি গ্রাহকদের কাছে। কিছু কিছু মুঠোফোন প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে এই সেবা চালু করেছে। গত এক বছরে এ পদ্ধতিতে প্রায় ৪০ হাজার সংক্ষিপ্ত তারবার্তাও সংগৃহীত হয়েছে গ্রাহকদের কাছ থেকে।

 

 

 

Last modified on Sunday, 09 March 2014 23:54