ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Friday, 28 February 2014 17:32

বিনিয়োগ টানছে আফ্রিকা

Rate this item
(0 votes)

বিনিয়োগ গন্তব্যে সম্ভাবনাময় অঞ্চল এখন আফ্রিকা। তেল, গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ এ অঞ্চলে দ্রুত বাড়ছে বিদেশি বিনিয়োগ। গত সপ্তাহে ইউনাইটেড ন্যাশনস কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আঙ্কটাড) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর বিশ্বব্যাপী বিদেশি বিনিয়োগ ১৮ শতাংশ কমলেও আফ্রিকায় বেড়েছে। ২০১২ সালে এ অঞ্চলে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ৫.৫ শতাংশ বেড়ে হয় ৫০ বিলিয়ন ডলার।


তবে প্রতিবেদনে বলা হয়, এ প্রবৃদ্ধি আগের বছরের চেয়ে কম। ২০১১ সালে আফ্রিকায় বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছিল ৯ শতাংশ। এ ছাড়া আগের বছর বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ ১ দশমিক ৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার হলেও ২০১২ সালে তা কমে হয় ১ দশমিক ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০০৮ সালে বিশ্বে অর্থনৈতিক সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই বিনিয়োগ আস্থা কমছে।
আফ্রিকার প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে গত বছর প্রথমবারের মতো বিদেশি বিনিয়োগে উন্নত বিশ্বকে অতিক্রম করেছে উন্নয়নশীল দেশগুলো। ২০১২ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোয় বিশ্বের মোট বিদেশি বিনিয়োগের ৫২ শতাংশ হয়। বিশ্বের দ্রুত প্রবৃদ্ধিশীল দেশগুলোর মহাদেশ হয়ে উঠছে এখন আফ্রিকা।
২০১২ সালে উত্তর আফ্রিকায় তেলসমৃদ্ধ লিবিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। এর পাশাপাশি খনি খাতসমৃদ্ধ কঙ্গোকে ঘিরে সেন্ট্রাল আফ্রিকায় বিদেশি বিনিয়োগ হয় ১০ বিলিয়ন ডলারের। আগের বছরের চেয়ে বিনিয়োগ বেড়েছে ২৩ শতাংশ। অন্যদিকে উগান্ডা ও তাঞ্জানিয়ার তেল ও গ্যাস উন্নয়নকে কেন্দ্র করে ২০১২ সালে পূর্ব আফ্রিকায় বিনিয়োগ বেড়ে হয় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। আগের বছর বিনিয়োগ এসেছিল ৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। ঘানা ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের লেকচারার ফিলিপ কবিনা বলেন, এ প্রতিবেদনে আফ্রিকা এমন মহাদেশ, যেখানে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে। তবে আফ্রিকার সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ নাইজেরিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ২১ শতাংশ। এ ছাড়া আফ্রিকার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় গত বছর বিদেশি বিনিয়োগ হয় ৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছে, মোজাম্বিক ও নাইজেরিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের জোরাল প্রবৃদ্ধিতে ভর করে ২০১৩ সালে আফ্রিকা ৫.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। বলা হয়, সাফল্যে এগিয়ে থাকা ঘানাও তেল সম্পদকে কেন্দ্র করে এ বছর ৭.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।
মূলত আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদই টেনে আনছে বিনিয়োগকারীদের। এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মোট বিনিয়োগের ৭৫ শতাংশই জ্বালানি খাতে। এ ছাড়া কৃষি খাতেও দেশটির বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে। এ বাজার ধরতে প্রতিযোগিতা চলছে জাপান ও চীনের মাঝেও। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সিনজু আবে আগামী পাঁচ বছরে আফ্রিকাকে ১৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর পাশাপাশি আফ্রিকার অর্থনৈতিক বিকাশে ৩ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ করার কথাও জানান তিনি।
সম্ভাবনাময় এ বাজারে নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চায় জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো। এ সহযোগিতা সে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাবারই পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১১ সালে আফ্রিকায় জাপানের সরাসরি বিনিয়োগ ছিল ৪৬০ মিলিয়ন ডলার। এ সময়ে দেশটিতে চীনের বিনিয়োগ ছিল ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার।