ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Thursday, 27 February 2014 20:28

যে খবর ছাপতে মানা

Rate this item
(0 votes)

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশ ইসরায়েলের সাম্রাজ্যবাদী পররাষ্ট্রনীতির বিপক্ষে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোকে অবস্থান নিতে দেখা যায় না। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য-ইস্যুতে এই দুটি দেশ যেসব সিদ্ধান্ত নেয় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন দিয়ে থাকে এসব গণমাধ্যম। শক্তিশালী লেখার মাধ্যমে গণমাধ্যমের এই একদেশদর্শী চরিত্র উন্মোচন করে আসছেন মার্কিন ভাষাতাত্ত্বিক ও বুদ্ধিজীবী নোয়াম চমস্কি। প্রতিষ্ঠানবিরোধী ভাবধারার অনলাইন ম্যাগাজিন জেড নেটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বিষয়টি আবারও তুলে ধরেছেন চমস্কি।


‘অল দ্য নিউজ দ্যাট’স নট ফিট টু প্রিন্ট’ শিরোনামের ওই নিবন্ধে চমস্কি বর্তমান সিরিয়া-সংকট নিয়ে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের একচোখা নীতি তুলে ধরেছেন।
নিবন্ধের শুরুতে চমস্কি বলেছেন, নিঃসন্দেহে ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে তথ্যবহুল পত্রিকা হিসেবে দাবি করতে পারে। কিন্তু কী কী বিষয় আমাদের বলা যাবে না বলে পত্রিকাটি আগেই ঠিক করে রেখেছে, সেদিকে দৃষ্টিপাত করাটা খুবই মজার।
চমস্কি লিখেছেন, পত্রিকাটি সত্য তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি কৌশলে সত্য তথ্য চেপে যায়। উদাহরণ দিতে গিয়ে চলতি মাসেরই ১২ তারিখে প্রকাশিত একটি মন্তব্য প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে। পত্রিকাটির ইসরায়েল সংবাদদাতা জোডি রুডোরেনের লেখা ওই প্রতিবেদনে তিনি লিখেছেন, ‘সিরিয়াকে রাসায়নিক অস্ত্রমুক্ত করতে পারাটা ইসরায়েলের জন্য হবে বিরাট অর্জন।’

বুদ্ধিজীবী চমস্কি লিখেছেন, রুডোরেনের কথা অবশ্যই ঠিক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও বলেছেন, সিরিয়াকে অবশ্যই কেমিক্যাল উইপোনস কনভেনশন (সিডব্লিউসি) মেনে চলতে হবে এবং সব রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করতে হবে।

 

চমস্কির কথায়, ইসরায়েলি সাংবাদিক রুডোরেনের সংবাদ বস্তুনিষ্ঠ হলেও অসম্পূর্ণ এবং একপেশে। সিডব্লিউসি রাসায়নিক অস্ত্রের ‘উত্পাদন, মজুত ও ব্যবহার’কে অবৈধ ঘোষণা করেছে। তথাপি যে দেশটি নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা মাড়িয়ে সিরিয়ার একটি অংশ দখল করে রেখেছে এবং রাসায়নিক অস্ত্রের রীতিমতো গুদাম নিয়ে বসে আছে, সে দেশের এই কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেননি রুডোরেন।

 

চমস্কি লিখেছেন, গণমাধ্যম আমাদের প্রায়ই স্মরণ করিয়ে দেয় সিরিয়াসহ পাঁচটি দেশ সিডব্লিউসিতে সই করেনি। এ কথা সত্য, কিন্তু অর্থহীন। মূলত পাঁচটি দেশ নয়, মোট সাতটি দেশ সিডব্লিউসিতে সই করেনি। যে পাঁচটি দেশের কথা বলা হয়, এসব দেশের সঙ্গে আরও দুটি দেশের নাম থাকা উচিত। এর একটি হলো মিয়ানমার, অপরটি ইসরায়েল। রাসায়নিক অস্ত্র-ইস্যুতে মিয়ানমার প্রাসঙ্গিক না হলেও ইসরায়েল নিঃসন্দেহে অতিপ্রাসঙ্গিক।

 

তিনি লিখেছেন, সিরিয়ার কাছে রাসায়নিক অস্ত্র রয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক ধারাভাষ্যকারেরা হইচই ফেলে দিয়েছেন। এর সুবাদে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার ওপর ‘সীমিত আকারে’ হামলা চালানোর ভয়ভীতিও দেখিয়েছে। এতে সিরিয়া এখন সিডব্লিউসিতে সই করতে রাজি হয়েছে। অথচ আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে সিরিয়ার ভূখণ্ড দখলকারী ইসরায়েলের হাতে পরমাণু বোমা থাকলেও ইসরায়েল তা স্বীকার পর্যন্ত করছে না। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের মাথাব্যথা নেই।

 

‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর আরেক সাংবাদিক ট্রিপ গ্যাব্রিয়েল সম্প্রতি পত্রিকাটিতে লিখেছেন, রিপাবলিকান দলের প্রভাবশালী নেতাদের বেশির ভাগই সিরিয়ায় হামলা চালানোর পক্ষে। এতে ইরানের মতো উদ্ধত প্রতিপক্ষগুলোর কাছে সতর্কতামূলক বার্তা পৌঁছে যাবে। এই নীতির সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ওবামা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ছাড়াও মার্কিন বিশ্লেষকদের বেশির ভাগই নীতিগতভাবে একমত। এই বিশ্লেষকেরা মনে করেন, উদ্ধত প্রতিপক্ষগুলোকে আদেশ পালনে বাধ্য করতে আগ্রাসী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

 

ফরেন অ্যাফেয়ার্স পত্রিকার সাবেক সম্পাদক জেমস চেসকে উদ্ধৃত করে বলেছেন, ‘স্থিতিশীলতা (যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য পূরণের অনুকূল পরিবেশ) সৃষ্টির জন্যই চিলিতে অস্থিতিশীলতা (নির্বাচিত সরকারকে উত্খাত করে একনায়ক সরকারকে বসানো) সৃষ্টির প্রয়োজন হয়েছিল।

 

  যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতিকে চমস্কি ‘মাফিয়া প্রিন্সিপাল (নীতি)’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই নীতি অনুযায়ী মাফিয়া ডনের মতোই যুক্তরাষ্ট্র ভয়ভীতির মাধ্যমে আগ্রাসী শাসন চারিয়ে যেতে চায়। আর এই নীতির আজ্ঞাবহ হয়ে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো কাজ করে যায়।

 

 

 

Last modified on Monday, 10 March 2014 00:25