ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

লন্ডনে খালেদা-তারেক আবেগময় মিলন

Rate this item
(0 votes)

যুক্তরাজ্য সফররত খালেদা জিয়া আড়াই বছর পর বড় ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন। লন্ডনের একটি হোটেলে তাদের এ মিলন ছিলো আবেগময়।

যুক্তরাজ্য সফররত খালেদা জিয়া আড়াই বছর পর বড় ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন। লন্ডনের একটি হোটেলে তাদের এ মিলন ছিলো আবেগময়।

শনিবার সকালে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে লন্ডন সময় সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্যে পৌঁছান বিএনপি চেয়ারপারসন। হিথরো

বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলো লন্ডন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তবে তারেক সেখানে ছিলেন না।

স্ত্রী জোবাইদা রহমানকে নিয়ে তারেক মায়ের অপেক্ষায় ছিলেন লন্ডনের পার্ক লেনের অভিজাত হোটেল গ্রোভনোর হাউসে। রাত ১০টায় খালেদার গাড়ি সেখানে পৌঁছলে হোটেল থেকে লাঠি ভর দিয়ে বেরিয়ে আসেন তারেক, সঙ্গে স্ত্রীও।

গাড়ির দরজা খুলে শ্বাশুড়িকে স্বাগত জানান জোবাইদা। পূত্রবধূকে জড়িয়ে ধরেন খালেদা। এরপর মা ও ছেলে দুজনেই একে অন্যকে জড়িয়ে ধরেন, বেশ কিছুক্ষণের জন্য।

সাংবাদিক শফিক রেহমান, ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা-কর্মী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন সেখানে।

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জামিনে ছাড়া পেয়ে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সপরিবারে লন্ডন যান তিনি। মায়ের সঙ্গে তার শেষ দেখা হয়েছিলো সেদিনই। এক ডজনের বেশি মামলা মাথায় নিয়ে এরপর থেকে তারেক লন্ডনেই রয়েছেন।

গত নির্বাচনের পর খালেদা এই প্রথম যুক্তরাজ্য গেলেন। সন্ধ্যা ৮টায় হিথরো বিমানবন্দরে নামার পর লাউঞ্জে প্রবাসী বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি।

বিমানবন্দরের ভেতরে খালেদা শুভেচ্ছাসিক্ত হলেও বাইরে বিক্ষোভ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। তাদের হাতে ছিলো কালো পতাকা।

খালেদার গাড়ি বিমানবন্দর ছাড়ার পর বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষও বেঁধে যায়। সেখান থেকে যুবদলের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

দলীয় চেয়ারপাসনকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে ছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিয়া মনিরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম ও সাবেক রাষ্ট্রদূত সাবিহ উদ্দিন আহমদ।

বিমানবন্দরে সংঘাতের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে যুক্তরাজ্য বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তৈমুছ আলী "নবদেশ"কে বলেন, "এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাই প্রমাণ করে, তারা বিএনপির জনপ্রিয়তায় ভীত।"

অন্যদিকে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফারুক সংঘাতের জন্য বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকেই দায়ী করেন।

তিনি বলেন, "বিএনপি যুক্তরাজ্য শাখাতে কয়েকটি গ্র"প রয়েছে। তাদের গ্র"পিংয়ের কারণেই এয়ারপোর্টে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।"

বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা ২১ মে পর্যন্ত লন্ডন অবস্থান করবেন। রোববার বিকাল ৪টায় তিনি গ্রোভনোর হাউসেই বিএনপির এক কর্মীসভায় উপস্থিত থাকবেন।

যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালেন ডানকান এবং পার্লামেন্টে লেবার পার্টির নেতা এড মিলিব্যান্ডের সঙ্গে তার দেখা করার কথা রয়েছে।

এছাড়া ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্র"পের চেয়ারপারসন অ্যান মেইন এবং টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র লুতফুর রহমানের দেওয়া দুটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।

যুক্তরাজ্যের পর যুক্তরাষ্ট্র যাবেন খালেদা। সেখান থেকে ২৭ মে রওনা হয়ে ২৯ মে খালেদার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।