ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

বিশ্বকাপ ইতিহাসে স্মরণীয় ৫ সেমিফাইনাল

Rate this item
(0 votes)

আগামীকাল শুরু হচ্ছে ২০তম ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পর্ব। প্রথম সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিল খেলবে জার্মানির বিপক্ষে। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বুধবার আর্জেন্টিনা খেলবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। ফুটবল ইতিহাসে ইতোমধ্যেই বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হিসেবে স্থান পাওয়া পাঁচ সেমিফাইনাল।

 ১৯৫৪: হাঙ্গেরি-৪, উরুগুয়ে-২ :

 বিশ্বকাপ ইতিহাসে সেরা ম্যাচগুলোর একটি হিসেবে স্থান পেয়েছে হাঙ্গেরি-উরুগুয়ের মধ্যকার ম্যাচটি।

সুইডেনে অনুষ্ঠিত এ আসরের গ্রুপ পর্যায়ে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিকে ৮-৩ গোলে পরাজিত করে হাঙ্গেরি। এরপর সেমিফাইনালে তৎকালীন চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে ফাইনালে যাওয়া বলতে গেলে নিশ্চিত করে। কিন্তু হঠাৎ করেই হুয়ান হলবার্গের দেয়া দুই গোলে ম্যাচে ফিরে আসে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ উরুগুয়ে। ফলে অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় ম্যাচটি। এ সময়ে স্যান্ডর ককসিস হেড থেকে দুই গোল করে হাঙ্গেরিকে ৪-২ গোলের জয় এনে দেয়। ম্যাচ শেষে হাঙ্গেরি তারকা হোসেক বসিক বলেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর, উৎকৃষ্ঠ ম্যাচ এটি।’

ফাইনালে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে জার্মানির কাছে ৩-২ গোলে পরাজিত হয় হাঙ্গেরি।

 

১৯৬৬ : ইংল্যান্ডে-২, পর্তুগাল-১ :

 

‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ ইউসেবিওর নৈপুণ্যে সেমিফাইনালে উন্নীত পর্তুগীজরা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামে। ববি চার্লটনের করা দুই গোলে ম্যাচ শেষ হওয়ার ১০ মিনিট আগ পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল স্বাগতিক ইংল্যান্ড। কিন্তু ইংল্যান্ড গোলরক্ষক গর্ডন ব্যাঙ্কস ভল ছাড়াই প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় ইউসেবিওকে লাথি মারলে ৮৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন তিনি। টুর্নামেন্টে প্রথম গোল হজম করতে হয় ইংলিশদের। তবে প্রচণ্ড চাপের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত জয় পায় স্বাগতিকরা। ম্যাচ শেষে ইংলিশ কোচ আলফ রামসে বলেন, ‘টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত এটাই আমার দলের সেরা পারফরমেন্স।’ তার প্রতিপক্ষ পর্তুগাল কোচ ওটো গ্লোরিয়ার ভবিষ্যদ্বানি ‘ইনালে জার্মানিকে ইংল্যান্ড হারাবে’ সত্যি হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘ফুটবল যেভাবে খেলা উচিৎ ইংল্যান্ড সেভাবেই খেলে। জার্মানি শক্তির ওপর নির্ভর করে।’

 

১৯৭০ : জার্মানি-৪ ইতালি-৩ :

 

‘বিংশ শতাব্দির খেলা’ হিসেবে বিবেচিত ম্যাচগুলোর একটি । ম্যাচের আট মিনিটেই রবার্তো বনিনসেগনার দেয়া গোলে এগিয়ে যায় ইতালি। এরপর তারা রক্ষণাত্মক খেলা শুরু করে। কিন্তু ম্যাচের শেষ মিনিটে উই সিলারের গোলে ম্যাচে সমতায় ফেরে জার্মানরা। স্বাগতিক মেক্সিকোর অসহ্য গরমে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ইতালি সমতা আনার পর ‘ডার বোম্বার’ গার্ড মুলার গোল করে জার্মানিকে এগিয়ে দেন এবং লুইগি রিভারের গোলে তারা আরো এগিয়ে যায়। মুলারের দ্বিতীয় গোলের পর জার্মানরা নিজেদের মধ্যে উদযাপন শুরু করে দেয়। কিন্তু পরক্ষণেই গিয়ান্নি রিভেরার গোলে আবারো সমতায় ফেরা চেষ্টা করে ইতালি। এভাবে চরম নাটকীয়তার মধ্যে শেষ পর্যন্ত ৪-৩ গোলে জয় পায় জার্মানি।

 

১৯৮২ : ওয়েস্ট জার্মানি-৩, ফ্রান্স-৩ (পেনাল্টি শটে ৫-৪ গোলে জয় পায় জার্মানি) :

 

চমৎকার ম্যাচগুলোর মধ্যে অন্যতম এ ম্যাচে ফ্রান্সের হেরাল্ড শুমাখার প্রতিপক্ষের প্যাট্রিক ব্যাটিস্টনকে ধাক্কা মারলে পেনাল্টি পেয়ে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। এরপর মিশেল প্লাতিনি পেনাল্টি থেকে গোল করে ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনেন। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়েও ৩-৩ গোলে সমতা থাকলে ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শটে। পেনাল্টিতে জার্মানি ৪ গোল করলেও ফ্রান্সের একটি শট ফিরিয়ে দেয় জার্মান গোলরক্ষেক।

 

১৯৯৮ : ফ্রান্স-২, ক্রোয়েশিয়া-১ :

 

শেষ চারে পৌছে সমালোচকদের মোক্ষম জবাব দেয় স্বাগতিক ফ্রান্স। যুগোস্লাভিয়া থেকে স্বাধীনতা লাভের পর দারুন সম্ভবনাময় একটি দল নিয়ে প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে আসা ক্রোয়েশিয়া দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ডেভর শুকারের গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এক মিনিট পরই নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করে ফ্রান্সকে সমতায় ফেরান লিলিয়ান থুরাম। হাফ ভলির মাধ্যমে দর্শনীয় আরো একটি গোল করেন থুরাম। এ ম্যাচে প্রতিপক্ষকে মাথা দিয়ে আঘাত করে জীবনে প্রথম লাল কার্ড পান লরেন্ত ব্লাঙ্ক। যে কারণে ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয় পাওয়া ম্যাচে খেরতে পারেননি ব্লাঙ্ক।