ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

ব্রাজিল দুর্ভাগ্য অতিক্রম করে 'সুপার-৮' এ

Rate this item
(0 votes)

অবশেষে দুর্ভাগ্যের ঘনঘটা কাটিয়ে বিশ্বকাপ আসরের ‘সুপার-৮’ এ উঠেছে স্বাগতিক ব্রাজিল।

টাইব্রেকারের মাধ্যমে ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে তাদের। বিশতম ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম খেলায় চিলির বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে জয় পেয়েছে ব্রাজিল।

এই দিন স্বাগতিক গোলরক্ষক জুলিও সেজার যেন অতিমানব হয়ে আভির্ভূত হন।

টাইব্রেকারে দুটি দুর্দান্ত সেভ করে ‘হেক্সা’ জয়ের লক্ষে টিকিয়ে রাখেন ব্রাজিলকে।

শনিবারের এই ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতা হলে অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় খেলা। অতিরিক্ত সময়েও গোল করতে ব্যর্থ হয় উভয় দল। ফলে টাইব্রেকারে নিস্পত্তি হয় দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম ম্যাচটি। ট্রাইব্রেকারে ব্রাজিলের হয়ে ডেভিদ লুইজ, মার্সেলো ও নেইমার গোল করলেও গোল করতে ব্যর্থ হন হাল্ক ও উইলিয়ান। হাল্কের শটটি দুর্দান্ত দক্ষতায় চিলির গোলরক্ষক ব্রাভো ফিরিয়ে দেয় এবং সাইড বারের বাহির দিয়ে শট নেওয়ায় গোল বঞ্চিত হন উইলিয়ান।

 

অপরদিকে চিলির হয়ে গোল করেন আরানগেস ও মার্সেলো দিয়াস। এবং আলেক্সিস সানচেজ ও পিনিইয়ার শট অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক জুলিও সেজার। আর গনসালো হারার সর্বশেষ নেওয়া শটটি বারে লেগে ফিরে আসলে জয় নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের।

 

এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম ম্যাচে চিলির বিপক্ষে খেলতে নামে স্বাগতিক ব্রাজিল। ব্রাজিলের বেলো হরিজেন্তে এস্তাদিও মিনেইরাওতে অনুষ্ঠিত হয় ম্যাচটি। খেলার শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে ব্রাজিল। শুরুর দিকে কিছু সুযোগ তৈরী করলেও গোল তুলে নিতে পারেনি স্কলারির শিষ্যরা।

 

ম্যাচের ১৪ মিনিটে নেইমারের নেওয়া ফ্রি-কিকে দারুণ দক্ষতায় লুপে নেন চিলির গোলরক্ষক। এরপর খেলার ১৯ মিনিটে ডেভিদ লুইজের হাত ধরে দলের একমত্র গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। নেইমারের নেওয়া কর্নার কিক থেকে সতীর্থ খেলোয়াড় হেড করলে তাতে পাঁ লাগিয়ে গোল করেন লুইজ।  

 

এরপর গোল সংখ্যা বাড়াতে আরও আক্রমণ করতে থাকে ব্রাজিল। তবে ডিফেন্সের ভুলে ম্যাচের ৩২ মিনিটে হঠাৎ গোল খেয়ে বসে ব্রাজিল। মার্সেলোর ভুলে ডি-বক্সের ভিতরে বল পেয়ে যায় সানচেজ। সহজ সুযোগটি কাজে লাগাতে ভুল করেননি বার্সা ফরোয়ার্ড।  ডি-বক্সের ভিতর থেকে নেওয়া শটে সহজেই পরাস্ত করেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক জুলিও সিজারকে।

 

এরপর ব্রাজিলিয়ানরা গোলের জন্য আরো ক্ষুরধার আক্রমণ করে। নেইমারের নেতৃত্বে বেশ কিছু সুযোগও সৃষ্টি করেও কাঙ্কিত গোল তুলে নিতে ব্যর্থ হয় স্কলারির শিষ্যরা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ফ্রেদ সহজ দুটি সুযোগ নষ্ট করলে ১-১ গোলের সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় ব্রাজিল।

 

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণে জমে উঠে ম্যাচ। ম্যাচের ৪৯ মিনিটে ব্রাজিলের ফার্নাদিনহোর একটি জোরালো শট বারের পাশ ঘেশে চলে যায়। এরপর ম্যাচের ৫৫ মিনিটে হাল্ক গোল করলেও বাতিল করে দেন রেফারি।

 

গোলমুখে শট নেয়ার আগে হাল্কের হাতে বল লাগে। ফলে গোল বাতিল করার পাশাপাশি হাল্ককে হলুদ কার্ডও দেখান রেফারি।

 

ম্যাচের ৬৫ মিনিটে চিলির অ্যারারাসগুইজকে গোল বঞ্চিত করেন জুলিও সিজার। এরপর ম্যাচের ৭৪ মিনিটে গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন ব্রাজিলের জো। হাল্কের ক্রস থেকে বল পায়ে লাগাতে ব্যর্থ হয় বদলি হয়ে নামা জো। এরপর ৮০ মিনিটে আলভেজের দূরপাল্লার ক্রস থেকে নেইমার দুর্দান্ত হেড নিলেও দারুণ দক্ষতায় তা সেভ করেন চিলির গোলরক্ষক। ৮৪ মিনিটে হাল্ক, জোদের আবারো গোল বঞ্চিত করেন চিলি গোলরক্ষক।

 

নির্ধারিত সময়ে কোন দলই গোল করতে ব্যর্থ হওয়াতে অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় খেলা। অতিরিক্ত সময়ে গোলের জন্য সবরকম চেষ্টাই করতে থাকে ব্রাজিল। একের পর এক আক্রমণ করলে চিলিও পাল্টা আক্রমেণ মাঝে মাঝেই কাঁপিয়ে দেয় ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে। অতিরিক্ত সময়ের ১৩ মিনিটে হাল্কের একটি জোড়ালো শট রুখে দিয়ে ব্রাজিলকে আবারো গোল বঞ্চিত করে বার্সেলোনার সাথে চুক্তি সম্পন্ন করা চিলির গোলরক্ষক। এরপর অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহুর্তে চিলির পিনিলার একটি জোড়ালো শট ব্রাজিলের গোলবারে গেলে ফিরে আসলে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নেওয়া থেকে বাঁচে ব্রাজিল।

 

অতিরিক্ত সময়েও গোল না হওয়াতে টাইব্রেকারে গড়ায় ম্যাচ। আর টাইব্রেগালে ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক জুলিও সেজারের অতিমানবীয় পাফরম্যান্সে চিলিকে ৩-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে ব্রাজিল।