ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

শেষ ১৬ র সমীকরণ আজ থেকে শুরু Featured

Rate this item
(0 votes)

নবদেশ,ঢাকা: সহজ আর অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলগুলোকে নিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের খেলা শেষ হয়েছে গত ২৬ জুন। এবার একটি করে ম্যাচ থেকে একটি করে দল দেশের বিমানের টিকিট কাটবে। ব্রাজিল বিশ্বকাপের আসল লড়াই শুরু হয়ে গেছে ২৮ জুন। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের আসল লড়াইয়ের যাত্রা শুরু হয়ে গেছে এরই মধ্যে। ৩২ দলের লড়াইয়ে এখন টিকে আছে ১৬টি। শেষ ষোলোর নক আউট পর্বে মুখোমুখি হচ্ছে বাকি ১৬টি দেশ। যেখান থেকে শেষ আটে যাবে ৮টি দল।

ফেভারিট দলগুলোর আসল পরীক্ষার জায়গা এখন দ্বিতীয় পর্ব। স্বাগতিক ব্রাজিলকে নক আউট পর্বে যেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে গ্রুপের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মার্সেলোর আত্মঘাতী গোল, মেক্সিকোর বিপক্ষে গোলের দেখা না পাওয়া আর শেষ ম্যাচে ক্যামেরুনকে ৪-১ গোলে পরাজিত করেই নিশ্চিত হয় আসল রাউন্ডের খেলা। প্রথম পর্বে মনে হয়েছিল যেকোনো ভুলে বড় মাসুল গুনতে হতে পারে যেকোনো দলকেই। দ্বিতীয় পর্বে সেলেসাওরা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে চিলিকে। তিনবার নক আউট পর্বেই দেখা হয়েছে তাদের, তিনবারই জিতেছে ব্রাজিল। কিন্তু বর্তমান দলটিকে এত সহজে হারিয়ে দেওয়া যাবে বলে মনে করেন না দলটির তারকারা। এ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ব্রাজিল বি গ্রুপের রানার্সআপ চিলিকে পেয়েছে। আর আর্জেন্টিনা এফ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রতিপক্ষ হিসেবে ই গ্রুপের রানার্সআপ সুইজারল্যান্ডকে পেয়েছে।

শেষ  ১৬ র সমীকরণ

‘সি’ গ্রুপ থেকে কলম্বিয়া শতভাগ জয়ের রেকর্ড নিয়ে নক আউট রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে। জাপানের বিরুদ্ধে ড্র করলেই যেখানে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারত সেখানে ৪-১ গোলের বড় জয়ই পেয়েছে তারা। আর প্রতিপক্ষ হিসেবে গ্রুপ ‘ডি’র রানার্সআপ উরুগুয়েকে হারাতে হবে। গ্রুপ ‘বি’ চ্যাম্পিয়ন নেদারল্যান্ডস গ্রুপ ‘এ’র রানার্সআপ মেক্সিকোর মোকাবিলা করবে। গ্রুপ ‘ডি’র চ্যাম্পিয়ন আসরের সবচেয়ে চমক জাগানিয়া দল কোস্টারিকা সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে গ্রুপ ‘সি’র রানার্সআপ গ্রিসের মুখোমুখি হবে। গ্রুপ ‘ই’র চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে নক আউট পর্বের বৈতরণী পার হতে মাঠে নামতে হবে গ্রুপ ‘এফ’র রানার্সআপ নাইজেরিয়ার। সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন গ্রুপ ‘জি’র সবার ওপরের দল জার্মানি মোকাবিলা করবে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ আলজেরিয়ার। ‘এইচ’ গ্রুপের সেরা দল বেলজিয়াম ‘জি’ গ্রুপের রানার্সআপ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ময়দানি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবে। গ্রুপ পর্বের হার্ডল পেরোনো দলগুলো এখন আসল লড়াইয়ে মাঠে নামছে।

এদিকে সমালোচক আর ফুটবলবোদ্ধার অনেককে রীতিমতো হাসির পাত্রে পরিণত করে ব্রাজিল বিশ্বকাপে একের পর এক চমক উপহার দিয়েই যাচ্ছে দলগুলো। বিশেষ করে যাদের নিচু সারির দল বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে। নানা নতুন ঘটনা আর নতুন তারকার জন্ম দিয়ে বিশ্বকাপ সৌন্দর্যের পুরোটাই যেন উপহার দিচ্ছে ব্রাজিল। ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন স্পেন কিংবা ইংল্যান্ডের মতো তারকাবহুল দলের বিদায়েও এতটুকু রং হারায়নি ‘গ্রেটেস্ট শোন অন আর্থ’ বলে পরিচিত বিশ্বকাপ। বরং ভক্তদের মনে ওয়েইন রুনি-দিয়েগো কস্তাদের জায়গা দখল করে ফেলেছেন ইনার ভ্যালেন্সিয়া-গুইলেরমো ওচোয়ারা। প্রতিবারই বিশ্বকাপে নতুন কিছু তারকার জন্ম হয়, এবারো বতিক্রম হয়নি।

শেষ  ১৬ র সমীকরণ

পর্বতসমান গৌরবের দলগুলোর চূড়া-পতন আর অপেক্ষাকৃত ছোট দলগুলোর নিনাদে কম্পিত স্টেডিয়ামগুলোর পাশাপাশি ফুটবলবোদ্ধা, দর্শক আর সাবেকদের চাহনি। তিকিতাকা যুগের কি তবে শেষ দেখে ফেলল ফুটবলবিশ্ব, নাকি গতির ফুটবলের কাছে ছন্দ পরাভূত হলো- এমন প্রশ্নে দ্বিচারী যখন ফুটবলের মহারথীরা, ঠিক তখন ছোট দলগুলোর  নৈপুণ্যে ভিন্ন স্বাদের একটি মাস কাটাতে যাচ্ছেন, এটা হলফ করে বলাই যায়।

ব্রাজিল

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন না হয়েও ফেভারিটের তালিকায় সবার ওপরে নাম ছিল ব্রাজিলের। গ্রুপ পর্বে লড়াইয়ে খুব সহজ জয় পায়নি পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয় পায় তারা। স্কোর দেখে মনে হতে পারে সহজ জয়ই পেয়েছে ব্রাজিল। আসলে ডিফেন্ডার মার্শেলোর আত্মঘাতি গোলে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে যায় তারা। পরে নেইমারের দুই গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। দ্বিতীয় ম্যাচে যেখানে সহজ জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করার কথা সেখানে মেক্সিকোর বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র কিছুটা  চিন্তার ভাঁজ ফেলে দেয় সমর্থকদের কপালে। তবে শেষ ম্যাচে ঠিকই আসল রূপে ব্রাজিলকে পেয়ে যায় ফুটবলবিশ্ব। ক্যামেরুনকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়ে ৪-১ গোলের জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। নক আউট পর্বে ব্রাজিল এবার মুখোমুখি চিলির। চিলির গতিকে সবচেয়ে বড় ভয় স্বাগতিকদের। দলটির বার্সেলোনার তারা সানচেস যেকোনো প্রতিপক্ষকে নাড়িয়ে দিতে পারে। সবকিছু ছাপিয়ে ম্যাচটা ব্রাজিল জিতে যাবে মনে হচ্ছে এমনটাই।

মেক্সিকো

প্রথম ম্যাচেই ব্রাজিলকে আটকিয়ে চায়ের টেবিলে ঝড় তুলে ফেলেছিল মেক্সিকো। যখন দেখা গিয়েছিল অলিম্পিকে ব্রাজিলকে হারিয়ে স্বর্ণ জিতেছিল মেক্সিকো সেখানে ফেভারিটের তকমা তাদের গায়েও ছিল। তবুও ব্রাজিলের বিপক্ষে গোলশূন্য তাদের পরবর্তী রাউন্ডের জন্য ভালো করার রসদ যুগিয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে শেষ ষোলোতে এক পা দিয়ে রাখে তারা। শেষ ম্যাচে ক্যামেরুনকে ১-০ গোলে হারিয়ে ব্রাজিলের প্রায় সমকক্ষ দল হিসেবে নক আউট পর্বে জায়গা করে নেয় তারা। যোগ্যতর দল হিসেবেই তারা গ্রুপ পর্বে খেলেছে। গোল গড়ে প্রথম গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল আর রানার্সআপ মেক্সিকো। আর এ পর্বে প্রতিপক্ষ তারা গ্রুপ ‘বি’র চ্যাম্পিয়ন নেদারল্যান্ডসকে পেয়েছে। নিজেদের কন্ডিশনে খেলা বিধায় কিছুটা হলে এগিয়ে থাকবে মেক্সিকো।

নেদারল্যান্ডস

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে অভাগা দলটির নাম নেদারল্যান্ডস। সর্বশেষ ২০১০ সালের আসরেও ফাইনালে উঠেছিল টোটাল ফুটবলের জনকরা। কিন্তু স্পেনের কাছে একমাত্র গোলে পরাজিত হয়ে আবারো কষ্টের সাগরে বাস ছিল তাদের। প্রথম ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে আসর শুরু করার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের। দ্বিতীয় ম্যাচে চিলিকে ২-০ গোলে পরাজিত করে পরের রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে ইয়োহান ক্রইফের শিষ্যরা। শেষ ম্যাচে এশিয়ার প্রতিনিধি অস্ট্রেলিয়াকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে অপরাজিত থেকেই শেষ ষোলোতে অবস্থান নিয়েছে তারা। দ্বিতীয় রাউন্ডে নেদারল্যান্ডস প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে মেক্সিকোকে। আমেরিকার পরিচিত পরিবেশে খেলা বিধায় নেদারল্যান্ডসকে জিততে হলে ঘাম জড়াতে হতে পারে।

চিলি

মার্সেলো সালাসের চিলি এখন হোসে প্যাকারম্যানের কোচিংয়ে দুর্দান্ত এক দলে পরিণত হয়েছে। আর্জেন্টিনার এ কোচ অনেকটাই বদলে দিয়েছেন দলকে। স্পেন, নেদারল্যান্ডস আর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে একই গ্রুপে থেকে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করা বেশ কঠিনই ছিল। অস্ট্রেলিয়াকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল আমেরিকা মহাদেশের দেশটি। দ্বিতীয় ম্যাচেই তারা পেয়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে। আগের ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের কাছে বড় হারের লজ্জা পাওয়া দলটিকে ২-০ গোলে হারিয়ে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করে চিলি। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচটি তাই হয়ে পড়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়নের ম্যাচ। সে ম্যাচে ২-০ গোলে পরাজিত হয় চিলি। গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে ব্রাজিলকে। একই মহাদেশের দুটি দলের লড়াই দেখার জন্য মুখিয়ে আছে ফুটবল বিশ্ব। তবে চিলির বিপক্ষে পরিষ্কার ফেভারিট বলা যায় ব্রাজিলকে।

কলম্বিয়া

খেলা মাঠে গড়ানোর আগেই গ্রুপ ‘সি’র পরিষ্কার ফেভারিট ছিল কলম্বিয়া। মাঠে তারা প্রমাণ রেখেছে কেন তাদেরকে নিয়ে বাজিকররা জুয়া ধরেছিল। শেষ ষোলোতে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে উরুগুয়েকে। কামড়কা-ের কারণে ৯ ম্যাচ নিষিদ্ধ লুইজ সুয়ারেজেকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকে।

গ্রিস

চার মহাদেশের চার প্রতিনিধির লড়াই ছিল গ্রুপ ‘সি’তে। সেখানে গ্রিসের নক আউট পর্বে জায়গা করে নেওয়াটা কিছুটা আশ্চর্যই বটে। যেখানে এশিয়ার সেরা জাপানের পাশাপাশি ছিল আফ্রিকার বিস্ময় আইভরিকোস্ট। কিন্তু একটি ম্যাচ জয় আর একটিতে ড্র করে পরের রাউন্ডে জায়গা করে নেয় তারা। শেষ ষোলোতে কঠিন লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে হবে ইউরোপের প্রতিনিধিদের। আসরের সবচেয়ে চমক জাগানিয়া দেশ কোস্টারিকাকে সামনে পেয়েছে তারা। নিজেদের মহাদেশে খেলা বিধায় কোস্টারিকা এ ম্যাচের পরিষ্কার ফেভারিট।

কোস্টারিকা

গ্রুপ ‘ডি’কে ব্রাজিল বিশ্বকাপের ‘গ্রুপ অব ডেথ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। সাবেক তিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি, ইংল্যান্ড ও উরুগুয়ে ছিল কোস্টারিকার প্রতিদ্বন্দ্বী। স্বাভাবিক হিসেবে কোস্টারিকার অবস্থান গ্রুপে সবার নিচে থাকারই কথা ছিল। কিন্তু তারাই বাজিমাত করেছে। আলোচিত দল হিসেবে গ্রুপ ‘ডি’ থেকে তারাই প্রথম শেষ ষোলো নিশ্চিত করে। নকআউট পর্বে কিছুটা সহজ প্রতিপক্ষ পেয়েছে আলোচিত দলটি। গ্রিসের বিপক্ষে মাঠে নামতে হবে সেরা আটে যাওয়ার লড়াইয়ে। এ লড়াইয়ে পরিষ্কারভাবে এগিয়ে কোস্টারিকা।

উরুগুয়ে

মাঠে দলটির সেরা তারকা লুইজ সুয়ারেজের কামড়কা-ের কারণেই বেশি সমালোচিত দল এখন উরুগুয়ে। ইতালি-উরুগুয়ের শেষ ম্যাচটিই এই গ্রুপে ছিল পাদপ্রদীপের আলোয়। বিস্ময়ে তাক লাগিয়ে কোস্টারিকার রূপকথা চলেছে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। এই ম্যাচের জয়ী দলই যাবে কোস্টারিকার সঙ্গে দ্বিতীয় রাউন্ডে। আর যদি ড্র হয় তাহলে ইতালিই থাকবে এগিয়ে। কিন্তু সে ধরনের কোনো সমীকরণই কাছে টানেনি উরুগুয়ে। যেখানে ইতালি ড্র করলেই পরের রাউন্ডে যেতে পারবে সেখানে তারা হেরেই বসে উরুগুয়ের কাছে। নক আউট পর্বে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে কলম্বিয়াকে। লুইস সুয়ারেজ না থাকায় ম্যাচে কিছুটা হলে বিপাকে থাকবে ১৯৩০ আর ১৯৫০’র চ্যাম্পিয়নরা।

ফ্রান্স

ব্রাজিলে আসতে প্লে অব ম্যাচ খেলতে হয়েছিল ’৯৮-র বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে। তিন ম্যাচে দুটিতে জয় আর একটিতে ড্র করে ফ্রান্স গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই পরের রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে। এখন তারা এইচ গ্রুপের রানার্সআপ নাইজেরিয়ার সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে মাঠে নামবে।

সুইজারল্যান্ড

ফ্রান্সের কাছে ২-৫ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করলেও হতাশ না হয়ে পরের দুই ম্যাচ জিতে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে জারদান শাকিরিদের সুইজারল্যান্ড। প্রথম ম্যাচে বড় পরাজয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচেই তারা হন্ডুরাসতে ৩-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখে। শেষ ম্যাচে তো ইকুয়েডরকে ২-১ গোলে হারিয়ে পরের রাউন্ডে জায়গা করে নেয় ইউরোপের প্রতিনিধিত্ব করা দলটি। গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নক আউট পর্বে সুইসদের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনা

প্রতি আসরেই ফেভারিট হিসেবে শুরু করে দিয়েগো ম্যারাডোনার দেশ আর্জেন্টিনা। এবার যেন পণ করেই নেমেছে বিশ্বকাপ জয়ের। আর ২৮ বছরের শিরোপা খরা কাটাতে বেশ বদ্ধপরিকর দলটি। গ্রুপ এফ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েই স্বমহিমায় পরের রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে তারা। প্রতিটি ম্যাচেই দারুণ জয় পেয়েছে আন্দ্রোসান্দ্রো সাবেলার শিষ্যরা। সেরাটা দিতে শুরু থেকেই চেষ্টা চালিয়েছেন মেসি, ডি-মারিয়ারা। সফলও হয়েছেন। প্রথম রাউন্ডের প্রথম ম্যাচে বসনিয়া হার্জেগোভনিয়ার বিপক্ষে খেলেই জিততে হয়েছে তাদের। যদিও ২-১ গোলে জয়ে ভক্ত-সমর্থকদের তেমনভাবে সন্তুষ্ট করতে পারেনি লিওনেল মেসিরা। দ্বিতীয় ম্যাচে এশিয়ার প্রতিনিধি ইরানের শতভাগ রক্ষণাত্মক খেলায় জিততে বেশ ঘাম ঝরাতে হয়েছে তাদের। শেষ ম্যাচে আফ্রিকার সুপার ঈগল খ্যাত নাইজেরিয়াকে ৩-২ গোলে হারিয়ে অপরাজিত থেকেই গ্রুপের খেলা শেষ করে তারা। তবে দলটির সেরা তারকা মেসির দুর্দান্ত পারফরমেন্স শেষ ষোলোতে আশা জাগাচ্ছে। সেখানে প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ডকে সহজে হারাতে পারবে বলে তাদের বিশ্বাস।  

নাইজেরিয়া

আফ্রিকার ‘সুপার ঈগল’ খ্যাত নাইজেরিয়া এবার গ্রুপ এফ থেকে সুপার ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে। যদিও পরের রাউন্ডটা তাদের জন্য বেশ কঠিনই ছিল। প্রথম ম্যাচে এশিয়ার প্রতিনিধি ইরানের সাথে গোলশূন্য ড্র করে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে নাইজেরিয়া। দ্বিতীয় ম্যাচে নতুন দল বসনিয়া হার্জেগোভনিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে পরের রাউন্ডের আশা বাঁচিয়ে রাখে তারা। শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-৩ গোলে হেরেও বসনিয়া ইরান ম্যাচের ফলাফলের কারণে নক আউট পর্বে জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়। তারা গ্রুপ ‘ই’র চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে দ্বিতীয় রাউন্ডে।

জার্মানি

তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্র্মানি বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরেই ফেভারিট থাকে। ব্রাজিল বিশ্বকাপেও এর কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। বিশ্বকাপে ১৯৯০ সালে সর্বশেষ সাফল্য পেয়েছিল। এবার গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েই পরের রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রাঞ্চ বেকেনবাওয়ারের দেশটি। গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচ ড্র করলেও নক আউট পর্বে কিছুটা শক্ত প্রতিপক্ষ পেয়েছে জোয়াকিম লো’র শিষ্যরা। আফ্রিকার প্রতিনিধি আলজেরিয়ার মোকাবিলা করতে হবে জার্মানিকে।

যুক্তরাষ্ট্র

জার্মানির সাবেক কোচ জুর্গেন ক্লিন্সম্যান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাতারাতি পরিবর্তন আসে যুক্তরাষ্ট্র দলে। সে কারণে নিজ দেশ জার্মানির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে রীতিমতো হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন সাবেক এ ফরোয়ার্ড। তবে ম্যাচটি তারা জিততে তো পারেইনি উল্টো জার্মানির কাছে হেরে বসে। গোল ব্যবধানে পর্তুগালকে পেছনে ফেলে শেষ ষোলোতে স্থান করে নেয় বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশটি। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপ এইচ থেকে চ্যাম্পিয়ন বেলজিয়াম। যাদেরকে এবারের বিশ্বকাপের ডার্ক হর্স হিসেবে ডাকা হচ্ছে।

বেলজিয়াম

নানা কারণেই আগাম ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল বেলজিয়ামকে নিয়ে। যে দলটি বিশ্বকাপে চমক দেখাতে পারে। প্রাথমিক পর্বে চমক দেখানোর কিছু না থাকলেও এখন অপেক্ষা নক আউট পর্বের। সেখানেই আলো ঝলমল পারফরমেন্স প্রদর্শন করতে পারে ইউরোপের দেশটি। নক আউট পর্বে এবার তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যে দলটি আবার বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের কথা ঘোষণাই দিয়ে রেখেছে। বিশেষ করে দলটির কোচ তো এবার নিজেদের পরিচিত কন্ডিশনে খেলা বলে ভালো করার ব্যাপারে প্রত্যয়ী। সে কারণেই বেলজিয়ামকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়তে হতে পারে।

আলজেরিয়া

৩২ বছর পর বিশ্বকাপ ফুটবলের নক আউট রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে আলজেরিয়া। যদিও অনেক বছর পর বিশ্বকাপে খেলার কারণে তাদের প্রথম পর্বের গ-ি পেরোনোটা ছিল বেশ কঠিন। গ্রুপে তারা শক্তিশালী বেলজিয়াম, রাশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো মাঝারি মানের দলের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তারা কঠিন সে হার্ডল পেরিয়ে এখন শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে। তবে শেষ ষোলোতে রীতিমতো বাঘের খাঁচায়ই পড়তে যাচ্ছে আলজেরিয়া! তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে তাদের মোকাবিলা করতে হবে। সেখানে প্রাণপণ লড়াই তারা চালিয়ে যাবে সন্দেহ নেই।