ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

উৎসবের রঙে

Rate this item
(0 votes)

জেলখানার সেলের দৃশ্য। ভেতর আলো-আঁধারি পরিবেশ। সেলের এক কোণে নীরবে বসে আছেন মুনীর চৌধুরী। হঠাৎ এক যুবকের প্রবেশ। হাতে একটি চিঠি। চিঠিখানা সাংবাদিক রণেশ দাশগুপ্তের। মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ সেই চিঠিতে।সময়টা ১৯৫৩ সাল। জেলখানায় বসেই মুনীর চৌধুরী রচনা করলেন কবর নাটক। আর নাটকটি মঞ্চস্থ হয় সেই জেলখানায়। নাটকে অভিনয় করেন জেলখানার কারাবন্দীরা।‘নাটক... নাটক... নাটক.../ জেলখানাতে সেলের ভেতর/ মুনীর স্যারের নাটক...’। গানটি গাইতে গাইতে মঞ্চে প্রবেশ করেন কারাবন্দীরা। অর্থাৎ নাটক শুরু হয়ে গেল। ভাষা আন্দোলনের ওপর লেখা প্রথম নাটক।তবে কারাবন্দীদের এই সেলটি কোনো জেলখানায় নয়। বাংলাদেশ শিল্পকলা

একাডেমীর মাঠের এক কোণে উন্মুক্ত মঞ্চে তৈরি করা হয়েছে এই সেল। আর সেখানেই অভিনীত হয়েছে এই নাটক। নাটক দেখতে তো তখন শত দর্শকের সমাগম।২২ ফেব্রুয়ারির দৃশ্য এটি। শিল্পকলা একাডেমীর মাঠে চলছে তখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানমালা। ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই দিনব্যাপী শিল্পকলা একাডেমীর এই আয়োজন চলছে। আয়োজনে নাটকটির প্রদর্শনী করেছে আরণ্যক নাট্যদল। নাটকটির নির্দেশক মাসুদুজ্জামান জানান, নাটকটি দলের নব নাট্যায়ন। নাটকের গানটি লিখেছেন মামুনুর রশীদ।
নাটক ছাড়াও পরিবেশিত হয় নৃত্য, সংগীত, কোরিওগ্রাফি ও আবৃত্তি।
রাত তখন প্রায় ১০টা পেরিয়ে। একে একে শেষ হয়ে গেল সব আয়োজন। এবার বাড়ি ফেরার পালা।
কিন্তু জাফর ও সুমনের মন যে চাইছে না ঘরে ফিরতে। চাতক পাখির মতো তাঁরা তাকিয়ে আছেন মঞ্চের দিকে। জানা গেল, তাঁরা দুজনই বন্ধু। কী হয়েছে তাঁদের?
‘আমরা দুজনই একসঙ্গে চাকরি করি। মাঝেমধ্যে সন্ধ্যাবেলায় এখানে অনুষ্ঠান দেখতে আসি। গত চার দিন ধরে আমরা এই মঞ্চের সব অনুষ্ঠান দেখেছি। আজ শেষ হয়ে গেছে তো! তাই মনটা খারাপ...।’ অবলীলায় কথাগুলো বলে ফেললেন সুমন।
খটকা লাগল মনে। চার দিনের অনুষ্ঠান! তাহলে বাকি দুই দিন কী আয়োজন ছিল?
এবার শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সঙ্গে আলাপ। তিনি জানান, গত ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি ছিল শিল্পকলা একাডেমীর ৪০ বছর পূর্তি উৎসবের বর্ণাঢ্য আয়োজন। আর সেই উপলক্ষে পুরো শিল্পকলা সেজে ছিল বর্ণিল উৎসবের রঙে...।