ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

১১ বছর পর ভিন্নবেশে ‘ভাইকিংসের’ প্রত্যাবর্তন

Rate this item
(0 votes)

বাংলাদেশের ব্যান্ড মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি যখন নতুনের আশায় অনেকটা তৃষ্ণার্ত‌ ছিল, ঠিক তখনই বেশ দাম্ভিকতার সাথেই ভাইকিংসের আগমন। হঠাৎ করেই এসে শ্রোতাদের যেন ভালোই সুরের মায়ায় বেঁধেছিল হার্ড‌ রক ধারার এ ব্যান্ডটি। তবে জনপ্রিয়তা যখন তুঙ্গে তখন আবার হঠাৎ করেই আড়াল করে নিল নিজেদের। তবুও আশা ছিলো লাখো ভক্তদের মনে, ফিরে আসবে ভাইকিংস। এই ভালোবাসার টানেই প্রায় ১১বছর পর ভাইকিংস ফিরে এলো ভক্তদের মাঝে। সেই আসাটাও কিছুটা ভিন্ন ভাবে। প্লেব্যাকের মধ্য দিয়ে ,হ্যাঁ, পুরো একটা ছবির গান দিয়ে ফিরল ভাইকিংস। “রান অ্যাওয়ে” নামক একটি বাংলা মুভির সম্পুর্ণ‌ মিউজিকের জন্য কাজ করছে এখন তারা । ভাইকিংস ব্যান্ডটি গঠন করা হয় ১৯৯৭ সালে। প্রথম দর্শ‌কদের চোখে পড়ে বেনসন এন্ড হেজের স্টার সার্চ‌ প্রতিযোগীতায় প্রথম হবার মাধ্যমে। এরপর ২০০০তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘জীবনের কোলাহল’ প্রকাশিত হবার সাথে সাথেই তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় সকল ব্যান্ড সঙ্গীত অনুরাগীদের কাছে । এ অ্যলবামের সবকটি গানই তখন শ্রোতাদের মুখে মুখে। এ সময়টাতে ভালোই স্টেজ শো তেও দেখা যাচ্ছিল ভাইকিংসকে। পরবর্ত‌ীতে ২০০২ সালে প্রকাশ পায় তাদের দিতীয় অ্যালবাম ‘দিন যত দুঃখ ততো’ ।

এ অ্যালবামটিও যথারীতি ভক্তদের কাছে জনপ্রিয়তা পায় ব্যাপকভাবে। ২০০১ সালে কানিজ সুবর্না‌র সাথে ‘ভালোবাসি যারে’ গানটি প্রকাশিত হবার পর থেকেই গানটি যেন ভালোবাসা দিবসের গান হয়ে যায় সকলের কাছে। নতুন গান আর স্টেজ শো মিলিয়ে তখন আকাশে ভাসার মতোই অবস্থা ভাইকিংসের। ঠিক এমন সময়ই জনপ্রিয়তাকে তুঙ্গে রেখে হঠাৎ করেই হারিয়ে যায় ভাইকিংস। ভাইকিংসের ভক্তদের অনেক কষ্টেয়েই সামলে নিতে হয়েছে নিজেদের। এরই মাঝে সবার মুখেই ছড়িয়ে গিয়েছে ভাইকিংস ভেঙ্গে গেছে। অনেক রকম গল্পও তৈরী হয়ে গেছে ভেঙ্গে যাবার কারন দেখিয়ে। কিন্ত ওই সময়টাতে ভাইকিংসের কথা কেউই শুনতে পারেনি। আজ ১১ বছর পর ভাইকিংস ঠিক একই লাইনআপ নিয়ে ফিরে এসেছে। অনেকটা বিস্ময়করই বটে। এ বিষয়ে জানতে চাইলাম ব্যান্ডের ভোকালিস্ট তন্ময়ের কাছে। তিনি বললেন আমরা দীর্ঘ‌দিন ব্যান্ড থেকে দুড়ে থাকলেও বন্ধত ছিল একই রকম। কারন আমরা সবাই স্কুল থেকেই বন্ধু। তাই ব্যান্ড মেটের আগে আমরা সবাই বন্ধু।এ সময়টাতেও সুযোগ পেলেই চুটিয়ে আড্ডা দিয়েছি আমরা।আমাদের এই পাঁচজনের কাউকে ছাড়া আমরা ভাইকিংসকে কখনও ভাবিনি, ভাইকিংস ছাড়া আমরা অন্য কোন ব্যান্ডের কথাও কখনও ভাবিনি। জানতে চাইলাম এতো দীর্ঘ‌ বিরতির কারন কি? কোথায় ছিল ভাইকিংস এ দীর্ঘ‌ সময়? তন্ময় জানালেন ২০০৩এর শেষের দিকে আমাদের সবারই তখন পড়াশোনার পর্ব শেষ, প্রত্যেকেই ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার নিয়ে কাজ শুরু করেছে। ২০০৪-এ বাবু দেশের বাইরে চলে যায়। সবাই মিলে তখন সিদ্ধান্ত নেই কিছুদিনের জন্য ব্যান্ডের কার্যক্রম স্থগিত রাখব। সেই কিছুদিনটাই কিভাবে যেন লম্বা হয়ে ১০ বছর হয়ে গেল..

তাহলে সামনে কি শ্রোতারা ভাইকিংসকে নিয়মিত পেতে যাচ্ছে নাকি হারিয়ে যাবে আবারও? এমন প্রশ্নের উত্তরে বললেন আশা রাখছি সামনে নিয়মিতই দেখতে পাবে শ্রোতারা আমাদের। আসছে শীত থেকেই স্টেজে নিয়মিত হবো। আর রান আউটে আমাদের দু’টি রক, স্লো রক ও সফট ট্র্যাকসহ সাতটি গান থাকছে। এরপর নিজেদের অ্যালবামের কাজে হাত দেব।

ভাইকিংস ব্যান্ডের সদস্যরা হলো ভোকাল তন্ময় (ভোকাল), সেতু (গীটার), সায়মন (ড্রামস(, জনি(বেজ গীটর) , বাবু (কীবোর্ডে)। ব্যান্ড হয়ে চলচিত্রের গানের মাধ্যমে ফিরে ফিরে আসা এতোদিন পর,কিছুটা বিষ্ময়করই বটে বাংলাদেশে ইতিহাসে। তবে ভক্তদের জানিয়ে রাখা ভালো ছবিটি পরিচালনার দায়িতে আছেন সয়ং ভোকালিস্ট তন্ময়। এরই মধ্যে গানগুলোর কাজ প্রায় শেষ। একটি ডুয়েট গানে কনাও থাকছে ভাইকিংসের সাথে। ভাইকিংস ভক্তদের জন্য বেশ সুখবরই বলা চলে। এতোদিনের প্রতিক্ষার পর ভাইকিংস ফিরে এলো আবারও সুরের মূছনায় পাগল করতে ভক্তদের। যারা ভাইকিংসের লাইভ কনসার্ট‌ দেখেছেন তারা বেশ ভালোভাবেই জানেন কতটা প্রানবন্ত হতে পারে সে কনসার্ট‌ । ভক্তরা যেন তাই পাগলের মতো দিন গুনছেন তাদের লাইভে দেখার জন্য্। সে জন্য অবশ্য এ বছরের শীত নাগাদ অপেক্ষা করতে হবে তাদের।

 

 

 

Last modified on Friday, 02 May 2014 17:32