ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Wednesday, 05 March 2014 14:30

নানা স্বাদের চলচ্চিত্র একসঙ্গে

Rate this item
(0 votes)

একে বলা হয় ‘আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব’। এতে একসঙ্গে তুমি দেখতে পারবে নানা দেশের নানা স্বাদের চলচ্চিত্র; তোমাদের অনেকেই হয়তো দেখা শুরুও করে দিয়েছো। চলো, আজকে সেই চলচ্চিত্র উৎসবটিরই গল্প শুনে আসি।

তোমাদের জন্য এই উৎসবটির আয়োজন করে চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশ। আর এই ফিল্ম সোসাইটির বেশিরভাগ সদস্যই তোমাদেরই মতো। যারা ইতোমধ্যেই সেখানে গিয়েছিলে সিনেমা দেখতে, তারা হয়তো খেয়ালও করেছো, উৎসবে যারা কাজ করছে, প্রায় সব্বাই

তোমাদেরই বয়সি।

চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি তোমাদের জন্য এই উৎসবটি প্রথম আয়োজন করেছিল ২০০৮ সালে। এরপর থেকে নিয়মিতই ওরা উৎসবটি আয়োজন করছে; মানে এ বছর বসতে যাচ্ছে উৎসবটির ষষ্ঠ আসর- ‘৬ষ্ঠ আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব বাংলাদেশ’। ছয় দিনব্যাপী এ আয়োজনটি শুরু হয়ে গেছে ১৯ জানুয়ারি, আর শেষ হবে ২৫ তারিখে। আর উৎসবটির স্লোগান তো মনে হয় তোমাদের মনেই আছে- ‘ফ্রেমে ফ্রেমে আগামী স্বপ্ন’।

গত আসরেই তো উৎসবটি ছড়িয়ে গিয়েছিল সারা দেশে। এবারও হচ্ছে তাই; উৎসব একযোগে চলবে সাত বিভাগীয় জেলায়- ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, সিলেট ও বরিশালের, মোট ২২টি ভেন্যুতে। এরমধ্যে ঢাকায় ও চট্টগ্রামে ভেন্যু আছে ৭টি, রাজশাহীতে ৪টি, আর বাকি চারটি জেলায় ১টি করে। বরাবরের মতোই, কেন্দ্রীয় ভেন্যু হিসেবে থাকছে রাজধানী ঢাকার শাহবাগস্থ কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগার, মানে আমাদের পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান মিলনায়তন আরকি!

তোমাদের জন্য ৪২টি দেশের শিশুদের উপযোগী দু’শরও বেশি চলচ্চিত্র দেখানো হবে এবারের আসরে। প্রতিদিন সিনেমা দেখানো হবে চারটি সেশনে- সকাল ১১টা, দুপুর ২টা, বিকেল ৪টা এবং সন্ধ্যে ৭টায়। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, তোমাদের জন্য প্রতিটি সেশনই একদম ফ্রি! সিনেমা দেখতে তোমাদেরকে তো কোনো পয়সা খরচ করতে হবে-ই না, এমনকি তোমাদের সঙ্গে তোমাদের একজন অভিভাবকও সিনেমা দেখতে পারবেন কোনো টাকা-পয়সা ছাড়াই। অন্যদের অবশ্য টিকিট কাটতে হবে, তবে তার মূল্যও খুব বেশি নয়, ৩০ টাকা।

ওহহো! এ উৎসবের সবচাইতে আকর্ষণীয় ইভেন্টটির কথাই তো বলা হয়নি। এ উৎসবে তোমাদেরই মতো শিশুদের নির্মিত চলচ্চিত্র নিয়ে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজনও করা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় এবার ১০০টিরও বেশি সিনেমা জমা পড়েছিলো। যার মধ্য থেকে নির্বাচকম-লী ৬০টি সিনেমা বাছাই করেছে প্রদর্শনের জন্য। এ ৬০টি সিনেমা থেকে বাছাই করে, সেরা ৫টি সিনেমাকে পুরস্কৃত করা হবে। আর পুরস্কার হিসেবে ক্ষুদে নির্মাতারা কী কী পাবে জানো? ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও পরের সিনেমা বানানোর জন্য ২৫ হাজার টাকার আর্থিক প্রণোদনা। আরও মজার বিষয় কি জানো? সেরা ৫ সিনেমা যে জুরি বোর্ড বাছাই করবে, ৫ সদস্য বিশিষ্ট সেই কমিটির সদস্যরাও সব্বাই শিশু। অর্থাৎ প্রত্যেকের বয়স ১৮ বছরের নিচে। তবে উৎসবটি আন্তর্জাতিক হলেও, এই প্রতিযোগিতা বিভাগটি আন্তর্জাতিক নয়; প্রতিযোগিতাতে কেবল বাংলাদেশের শিশুরাই অংশ নিতে পারে।

ঢাকার এ উৎসবে সারা দেশ থেকে ১২৫ জন শিশু প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একজন অভিভাবকসহ আমন্ত্রিত শিশু অতিথিদের আসা-যাওয়া ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও করবে উৎসব কর্তৃপক্ষ। তোমরা হয়তো ভাবছ, শুধু সিনেমা দেখার জন্যই প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আসলে তা নয়। প্রতিনিধিদের জন্য সপ্তাহব্যাপী আছে নানা আয়োজন- ওয়ার্কশপ, সেমিনার, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ আলাপচারিতাসহ আরো অনেক আয়োজন। এ ব্যাপারে আয়োজকদের সহায়তা করছে ইউনিসেফ।

শুধু আমাদের দেশের শিশু প্রতিনিধি-ই নয়, এবারের উৎসবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ৬জন বিদেশী অতিথিকেও। তারা হচ্ছেন- ভারতের চলচ্চিত্রকার বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, কানাডার চলচ্চিত্রকার ন্যান্সি ট্রিটস বটকিন ও প্রযোজক মার্ক শেক্টার, সিঙ্গাপুরের চলচ্চিত্র সমালোচক ও সংগঠক ফিলিপ চিয়াহ, যুক্তরাজ্যের ড্যানিয়েল স্মিথ ও ইতালির চলচ্চিত্র নির্মাতা জিউসেপ ক্যারিয়েরি।

তোমাদের তো আগেই বলেছি, শিশু প্রতিনিধি যারা আসবে, তাদের জন্য ওয়ার্কশপ ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম সেমিনারটি হলো ২১ জানুয়ারি সোমবার, পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান মিলনায়তনে। ‘চলচ্চিত্রে গল্প বলা’ শীর্ষক এ কর্মশালাটি পরিচালনা করেন কানাডিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা ন্যান্সি ট্রিটস বটকিন। সঙ্গে ছিলেন মার্ক শেক্টার।

একই দিনে, বিকেল ৪টায়, চট্টগ্রামের থিয়েটার ইন্সটিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে একটি অংশগ্রহণমূলক আলোচনা সভা। এ সভায় মূল আলোচক হিসেবে ছিলেন যুক্তরাজ্যের ড্যানিয়েল স্মিথ। আলোচনার বিষয় ছিলো- শিশুদের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের সম্ভাবনা।

ছোট প্রতিনিধিদের নিয়ে সেমিনারের আয়োজন থাকছে ২৪ জানুয়ারি। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সেমিনারের প্রথম অধিবেশনে ‘চলচ্চিত্র নির্মাণে ক্ষুদে নির্মাতারা: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ বিষয়ে আলোচনা করা হবে। পরবর্তী অধিবেশন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত, আলোচ্য বিষয় ‘অবাধ ইন্টারনেট: শিশুদের ওপর প্রভাব’। সেমিনারের প্রতিটি পর্বে আলোচক ও সমালোচক হিসেবে থাকবে তোমাদের মতো শিশুরাই। দারুণ মজা হবে না!

উৎসবের প্রতিটি ভেন্যুতে যেন বাচ্চারা আসতে পারে, সেজন্য বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, যেসব স্কুলের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা নেই, মানে নিজেদের স্কুল বাস বা অন্য কোনো ভাবে যাতায়াতের সুযোগ নেই বা পরিবহন ভাড়া করার সামর্থ্য নেই, তাদের জন্য উৎসব কর্তৃপক্ষ নিজেরাই পরিবহনের ব্যবস্থা করবে।

উৎসবের শেষ দিন, সমাপনী অনুষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটিও হবে। ওই যে, ক্ষুদে নির্মাতাদের বানানো সিনেমার প্রতিযোগিতার কথা বললাম না, তারই বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে; পুরস্কারও দেয়া হবে। এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে ২৫ জানুয়ারি শুক্রবার, বিকেল ৫টায়, জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে।

প্রতি বছরেই কিন্তু উৎসবটির জন্য লোগো ফিল্ম বানানো হয়; এ বছরও সেটা বানানো হয়েছে। আর সেটিও তোমাদের মতো খুদে বন্ধুরাই বানিয়েছে। উৎসব চলাকালে প্রতিদিনই একটা করে বুলেটিন বের করা হচ্ছে; সারাদিনে উৎসবে কী কী হচ্ছে, আর কত্তো মজা করছে কাজ করা খুদে ভলান্টিয়াররা, সব গল্প থাকছে বুলেটিনগুলোতে।

সব মিলিয়ে তোমাদের দারুণ এক উৎসব চলছে, তাই না? তবে, সবচেয়ে ভালো ব্যাপার কিন্তু ওটাই- উৎসবে গেলেই তুমি নানা দেশের নানা স্বাদের সিনেমা দেখতে পারবে। বড়ো পর্দায় এত্তো সিনেমা দেখার সুযোগ কী আর সারাবছর পাওয়া যায়?

Last modified on Sunday, 09 March 2014 16:10