ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Wednesday, 05 March 2014 14:27

সুস্থধারার চলচ্চিত্র নির্মাণ করুন: প্রধানমন্ত্রী

Rate this item
(0 votes)

সুস্থধারার চলচ্চিত্র নির্মাণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলা চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, "এমন ছবি নির্মাণ হবে না- যা পরিকবারের সবাই মিলে দেখতে পারবে না বা দেশের তরুণ সমাজকে বিপথে ঠেলে দিবে। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর- আমি বলে দিচ্ছি। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।"

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৩৪তম জাতীয়

চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে শনিবার সন্ধ্যায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতার শুরুতে ২০০৯ সালের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সবাইকে অভিনন্দন জানান।

এবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের সঙ্গে যোগ করা হয়েছে 'আজীবন সম্মাননা' পুরস্কার। বাংলাদেশে চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য প্রথমবারের মতো পুরস্কারটি পেয়েছেন সুলতানা জামান।

প্রধানমন্ত্রী মঞ্চ থেকে নেমে এসে হুইল চেয়ারে বসে থাকা এই শিল্পীর হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র তুলে দেন।

২০০৯ সালের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে 'মনপুরা'।

সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন দু'জন। 'মনপুরা'র জন্য সুচিন্ত চৌধুরী চঞ্চল এবং 'গঙ্গাযাত্রা'র জন্য ফেরদৌস আহমেদ। সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন সাদিকা পারভীন পপি। তিনি 'গঙ্গাযাত্রা'য় অভিনয়ের জন্য এ পুরস্কার পান। 'গঙ্গাযাত্রা' চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড।

মাছরাঙা প্রডাকশনের পক্ষ থেকে সেরা চলচিত্রের পুরস্কার নেন আল জাভেদ। অঞ্জন চৌধুরী দেশের বাইরে থাকায় আল জাভেদ প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নেন।

সমাজ গঠনে চলচ্চিত্রের অবদানের গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মানুষ জীবন সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারে। সাধারণ মানুষের বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম চলচ্চিত্র।

মুক্তিযুদ্ধে চলচ্চিত্রের অবদান তুলে ধরে বলেন, "জহির রায়হানের স্টপ জেনোসাইড মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বে জনসমর্থন তৈরিতে সক্ষম হয়।"

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতিও আহবান জানান শেখ হাসিনা।

সাম্প্রতিক সময়ের তরুণ নির্মাতাদের চলচ্চিত্রের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকার বাইরে প্রেক্ষাগৃহগুলো ডিজিটাল প্রযুক্তিতে রুপান্তরিত করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

ভৌগলিক সীমা রেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশের ছবি যেন পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে সে ব্যবস্থা নেওয়া তাড়িদ দেন প্রধানমন্ত্রী। সমাজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আরো চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য নির্মাতাদের প্রতিও আহবান জানান তিনি।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণের অনুরোধ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, "মুক্তিযুদ্ধের ওপর ভালো বা আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র হয়নি। যা হয়েছে, তাও দু'একটা।"

সেলিনা হোসেনের কাকতারুয়া এবং রশিদ হায়দারের শোভনের স্বাধীনতা- এই দু'টি শিশুতোষ উপন্যাস নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারের অনুদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "শিশুদের জন্য ব্যাপকমাত্রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রয়োজন। এজন্য যেই উদ্যোগ নেবে, তাকেই সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হবে।"

প্রধানমন্ত্রী জানান, এবছরই ফিল্ম আর্কাইভের কাজ শুরু হবে। চলচ্চিত্র সংসদ আইন জাতীয় সংসদে পাশের অপেক্ষায় আছে।

শিল্পীদের জন্য সরকারের উদ্যোগে ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, "এখানে তথ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী আছেন। শিল্পীরা যেনো দুঃসময়ে না পরে সেজন্য আমরা আর্থিক ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে দিতে চাই। আমরা যদি এককালীন টাকা দিয়ে গঠন করে দিই আর এখন যারা ভালো পারিশ্রমিক পাচ্ছেন- তারা যদি কিছু করে টাকা দেন তাহলে, দুস্থ শিল্পীদের সহায়তা হতে পারে।"

Last modified on Sunday, 09 March 2014 16:10