ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Wednesday, 05 March 2014 14:00

প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসে সেরারা পুরস্কৃত

Rate this item
(0 votes)

চলতি বছর থেকে চালু হওয়া ‘জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসে’ ২০১০ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে যারা পুরস্কার পেয়েছেন তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার আগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের বিষয়ে আশা প্রকাশ করে বলেন, “বিশ্ব চলচ্চিত্রে আমরা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারব- সে বিশ্বাস আমার আছে।”



বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মঙ্গলবার বিকালে এক অনুষ্ঠানে সম্মাননা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন সাবেক পূর্ব পাকিস্তানে এফডিসি প্রতিষ্ঠায় তার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আনা বিল পাসের দিনটি; সেটি ছিল ৩ এপ্রিল।

ওই দিনটির স্মরণে চলতি বছর থেকে সরকার ৩ এপ্রিলকে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস’ হিসাবে পালন করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও পল্ল¬ী সহায়তা মন্ত্রী ছিলেন। তখন তিনি চলচ্চিত্রের উন্নয়নে একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন।”

“প্রাদেশিক আইন পরিষদে ‘পূর্ব পাকিস্তান চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা’ বিল উত্থাপন করেন তিনি। আজকের এই দিনেই [৩ এপ্রিল] বিলটি আইন পরিষদে অনুমোদিত হয়। প্রতিষ্ঠিত হয় এফডিসি।”

চলচ্চিত্রকে অচিরেই ‘শিল্প’ হিসাবে ঘোষণা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “চলচ্চিত্র একটা শিল্প। এটাকে শিল্প হিসাবে দেখা উচিত। সহায়তা দেওয়া উচিত। চলচ্চিত্রকে আমরা শিল্প হিসাবে ঘোষণা দেওয়ার এক রকম সিদ্ধান্ত নিয়েই নিয়েছে।”

২০১০ সালের সেরা অভিনেতা হিসাবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন চিত্রনায়ক শাকিব খান। আর শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পূর্ণিমা।

ওই বছরের জন্য এই দুজনসহ ২৫ জন শিল্পী ও কলাকুশলী নির্বাচিত হন।

চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য অভিনেতা আনোয়ার হোসেনকে দেওয়া হয় আজীবন সম্মাননা। তাকে হুইল চেয়ারে করে মঞ্চে নিয়ে আসা হয় এবং তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার নেন।

পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত এফডিসিই বিগত ছয় যুগ ধরে চলচ্চিত্র শিল্পের প্রাণকেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতির পিতার এ দূরদর্শী উদ্যোগকে স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যে আমরা এ বছর থেকে ৩ এপ্রিল থেকে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস’ হিসেবে পালন করছি।”

শেখ হাসিনা বলেন, অনুষ্ঠানে তারকা মেলায় উপস্থিত হতে পেরে তিনি আনন্দিত। তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১০ বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান।

চলচ্চিত্রকে বিংশ শতাব্দীর অনন্য আবিষ্কার অভিহিত করে তিনি বলেন, “নাম শুনলেই প্রাণে স্পন্দন জাগে। মন উৎফুল্ল হয়ে ওঠে। তাই চলচ্চিত্র বিশ্বব্যাপী শক্তিশালী গণমাধ্যমে পরিণত হয়েছে।”

বিশ্বে চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরু হয় ১৮৯৫ সালে। তবে ১৯৩০ সালের আগ পর্যন্ত চলচ্চিত্র সবাক হয়নি। ১৯৫৬ সালে ‘মুখ ও মুখোশ’ দিয়ে বাংলাদেশে আধুনিক চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরু হয়।

২০১০ সালের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয় ফরিদুর রেজা সাগর প্রযোজিত ‘গহীনে শব্দ’। এই চলচ্চিত্রের জন্য খালিদ মাহমুদ মিঠু শ্রেষ্ঠ পরিচালক নির্বাচিত হন।

শাকিব খান সেরা অভিনেতা হয়েছেন ‘ভালবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য। ‘ওরা আমাকে ভাল হতে দিল না’ চলচ্চিত্রের অভিনয় করে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান পূর্ণিমা।

‘অবুঝ বউ’ চলচ্চিত্রের জন্য সুজেয় শ্যাম শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক এবং মোঘল-এ-আজম চলচ্চিত্রে ‘ও জীবন তুচ্ছ ...’ গানের জন্য ইমদাদুল হক খোকন শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালকের পুরস্কার পান।

‘জীবন মরণের সাথী’ চলচ্চিত্রে এমএ আলমগীর শ্রেষ্ঠ সহঅভিনেতা এবং ‘ভালবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’ চলচ্চিত্রের জন্য রোমানা শ্রেষ্ঠ সহঅভিনেত্রী নির্বাচিত হন।

‘ভালবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’ চলচ্চিত্রে ‘বুকেরই ভিতরে যতনও...’ গানের জন্য এসআই টুটুল শ্রেষ্ঠ গায়ক, একই চলচ্চিত্রের ‘ভালবেসেই সবার সাথে...’ গানের জন্য শাম্মী আক্তার শ্রেষ্ঠ গায়িকা এবং শেখ সাদী খান শ্রেষ্ঠ সুরকার নির্বাচিত হন।

‘নিঃশ্বাস আমার তুমি’ চলচ্চিত্রে ‘রূপালী রাত নেমেছে...” গানের জন্য শ্রেষ্ঠ গীতিকার নির্বাচিত হন কবীর বকুল।

এছাড়া শ্রেষ্ঠ খল চরিত্রে মিজু আহমেদ, কৌতুক চরিত্রে আফজাল শরীফ, শিশু শিল্পী প্রার্থনা ফার্দিন দিঘী, কাহিনীকার জাকির হোসেন রাজু, চিত্রনাট্যকার নারগিস আক্তার, সংলাপ রচয়িতা জাকির হোসেন রাজু, চিত্রগ্রাহক হাসান আহমেদ, শব্দগ্রাহক কাজী সেলিম, সম্পাদক মজিবুর রহমান দুলু, শিল্প নির্দেশক মহিউদ্দিন ফারুক, মেকাপম্যান আব্দুর রহমান এবং শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জায় বিবি রাসেল পুরস্কার পান।

শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের জন্য ‘গহীনে শব্দ’-এর পুরস্কার নেন চলচ্চিত্রটির প্রযোজক ফরিদুর রেজা সাগর।

প্রত্যেকেই প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন। তবে, দেশের বাইরে অবস্থান করায় শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কারটি মুজিবুর রহমান দুলুর পক্ষে ‘অবুঝ বউ’-এর পরিচালক নার্গিস আক্তার প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে গ্রহণ করেন।

পরে, সম্মাননাপ্রাপ্তরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি তোলেন।

এর আগে, শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা এবং কাহিনীকার জাকির হোসের রাজু বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করে শোনান।

ভিডিও পাইরেসি, অশ্লীল ছবি বন্ধ হয়েছে’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে কিছু মুনাফালোভী ব্যক্তি ফর্মুলাভিত্তিক অশ্ল¬ীল নকল চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শন করতে থাকে। সম্ভাবনাময় এ শিল্পটিতে নেমে আসে অমানিশার অন্ধকার। একে একে বন্ধ হয়ে যায় প্রেক্ষাগৃহ।

“দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণে এফডিসিও লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। তার কার্যকারিতা হারায়। যোগ হয় নতুন উপসর্গ ‘ভিডিও পাইরেসি।”

“২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পর আমরা প্রথমেই অশ্ল¬ীল চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শন এবং চলচ্চিত্রের ভিডিও পাইরেসি বন্ধে বিশেষ টাস্কফোর্স ও মনিটরিং সেল গঠন করি,” যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “এর ফলে ভিডিও পাইরেসি বন্ধ হয়েছে। কপিরাইট আইনের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করেছি। অশ্ল¬ীল ছবির নির্মাণ ও প্রদর্শন বন্ধ হয়েছে।

“দেশীয় চলচ্চিত্র তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে শুরু করেছে।”

চলচ্চিত্রের সার্বিক মান উন্নয়নে বর্তমান সরকার এফডিসিতে ডিজিটাল প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটিয়েছে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি জানান, চলচ্চিত্র নির্মাণের সুবিধায় ‘বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটি’ গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সৃষ্টি করেছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে চলচ্চিত্র সংরক্ষণের সুযোগ।

চলচ্চিত্র সংসদ (নিবন্ধন) আইন প্রণয়নের পাশাপাশি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন পাশের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকার ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণের পক্ষে জানিয়ে তিনি বলেন, ভালো মানের চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি হলগুলোর পরিবেশও উন্নত করতে হবে।

“এজন্য হল মালিকদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”

ক্রিকেট, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “চলচ্চিত্রেও পারব।”

অসুস্থ ও বয়োঃবৃদ্ধ শিল্পীদের সহায়তার জন্য একটি কল্যাণ তহবিল গঠনের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী হয়ে তো আমি বড়সরো কারাগারে বন্দি জীবন যাপন করছি। আমি চাইলেও অনেকের খবর পাই না।

“তারপরও আমরা সবার খবর রাখার চেষ্টা করি। আমি চাই, অসুস্থ বা বয়োঃবৃদ্ধ শিল্পীদের জন্য একটা কল্যাণ ফান্ড করা হোক। বিত্তশালীরা এই ফান্ডে সহায়তা করতে পারে।”

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, সাংসদ, শিল্পী ও কলাকুশলীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন শিল্পীরা।

Last modified on Sunday, 09 March 2014 16:13