ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

কঙ্গনার সাফল্যে কারিনার ঈর্ষা

Rate this item
(0 votes)

চলতি হাওয়ায় বলিউডের ক্যুইন কে? কোন ক্যুইজ কনটেস্ট নয়। এর জন্য গুগলের হেল্পও লাগবে না। ফাগুন হাওয়ায় বলি ক্যুইনের চেয়ারটি যে কঙ্গনার দখলে তা বলে দিচ্ছে বক্স অফিসের খেরোর খাতা।

কিন্তু কঙ্গনার ক্যুইন হয়ে ওঠার আড়ালে মেঘনাদ নাকি বেগম বেবো। এমনটাই দাবি করছেন স্যাফ-পত্নী স্বয়ং। কারিনা নাকি হেলায় ছেড়ে দিয়েছেন ‘ক্যুইন’-এর অফার। আর তাতেই পোয়া বারো কঙ্গনার।

বেগম সাহেবার দাবি, বড় বড় ফিল্মের অফার তিনি ছেড়েছেন বলেই নাকি উঠতি অভিনেত্রীরা নায়িকা হয়ে উঠেছেন। 'অন্য জায়গায় অন্য কলিগদের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি সম্মানিত ও আনন্দিত', সাফ জবাব কারিনার। এছাড়া এখন আর কী-ই বা বলবেন বেবো?
ক্যুইনের বক্স অফিস সাফল্যে যতই হিংসে হোক মিডিয়ার সামনে তো আর হতাশা প্রকাশ করা যায় না। তাই উল্টো কঙ্গনার সাফল্যের কৃতিত্বে নিজেকেই ক্রেডিট দিতে চান রাজবধূ।

ক্যুইনের অফার ছেড়ে কারিনা ইমরান খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে করলেন ‘গোরি তেরে পেয়ার মে’। কিন্তু বক্স অফিসে পাশার দান গেল উল্টে। বণিজ্যিক সফলতায় ক্যুইনের কাছে বেশ কয়েক গোলে হারল ‘গোরি তেরে পেয়ার মে’। কিন্তু এরপরও নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে আফশোস নেই কন্যের।

কেরিয়ারের পাশাপাশি ইদানিং সংসারেরও হাল ধরেছেন এই নতুন গিন্নি। ডেইলি রুটিনে দু’বেলা দু’টো করে স্ক্রিপ্ট শোনা মাস্ট। তাই বলে কি আর সবেতেই রাজি হওয়া যায়? খুব ভেবেচিন্তে সেই স্ক্রিপ্টেই রাজি হন তিনি যেখানে তার অভিনয় সত্ত্বাকে কাজে লাগাতে পারবেন। অন্য ধারার ছবিতে চ্যালেঞ্জিং রোলও আকর্ষণ করে কারিনাকে। সেখানে কে পরিচালক সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। এমনকী কোন ব্যানারে ছবিটি হবে তাও দেখেন না বেবো। এটা তার দীর্ঘ অভিনয় জীবনের শিক্ষা।

ফিল্মি পরিবারের সন্তান কারিনা বিবাহসূত্রেও পেয়েছেন চলচ্চিত্রের উত্তরাধিকার। তার গুরুজনদের দেখেই রপ্ত করেছেন এই বিদ্যে। গল্প বা চরিত্রই আসল। দক্ষ, নামজাদা পরিচালক বা নামী প্রযোজক হলেও গল্পে মন না ভরলে সেই কাজ করেন না বেবো।

শুধু ক্যুইন-ই নয়। এর আগেও বহু বিগ বাজেটের ছবি করেননি কারিনা। স্রেফ গল্প পছন্দ হয়নি বলেই ফিরিয়ে দিয়েছেন ‘রামলীলা’, ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’, ‘ফ্যাশন’, ‘কাল হো না হো’, এমনকী ‘ব্ল্যাক’-এর মতো বিগ বাজেটের ছবি।  আর তাতে নাকি কোনও আপশোসও নেই কন্যের। তার সাফ জবাব, গল্প পছন্দ না হলে সে ছবি যত বড় ব্যানারেই হোক না কেন তিনি সই করেন না।

কিন্তু এইসব ফিল্মেরই বক্স অফিস সাফল্য দেখে নিজের ওপরই রাগ হয়নি কি কারিনার? কে বলতে পারে ‘ব্ল্যাক’-এর প্রধান চরিত্রে তিনি রাজি হলে তার অভিনয় প্রতিভার নতুন একটা দরজা খুলে যেত! অথবা ‘রামলীলা’ বা ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’-এর সাফল্য তার কেরিয়ারগ্রাফের ডেফিনেশনই পালটে দিত এক লহমায়।

কারিনার এই উদাসীনতা দেখে নিন্দুকেরা বলছেন, ‘আঙুর ফল টক’।  কিন্তু স্ট্রেট ব্যাটে খেলে কারিনার জবাব, তার জন্যই রানি মুখোপাধ্যায়ের অভিনয় নিয়ে বলিউডে মাতামাতি! বলিউড নায়িকাদের লিস্টে দীপিকা পাড়ুকোনের ফার্স্ট বেঞ্চে এসে পড়া নাকি তারই সৌজন্যে। আর হালফিলের বলি ক্যুইন কঙ্গনার সাফল্যেও তারই অবদান। বেগম সাহেবার মেসেজ কি পেলেন বলি-নায়িকারা?