ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

শেয়ারের দামের ওঠানামায় মিশ্রভাবে সপ্তাহ পার করেছে পুঁজি বাজার

Rate this item
(0 votes)

ঢাকা, জানুয়ারি ১২ - বাজারে নতুন আসা যমুনা অয়েল কোম্পানির শেয়ারসহ, ব্যাংক, বিদ্যুৎ, ওষুধ, মিউচুয়াল ফান্ড ও বীমা প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামের ওঠানামার মধ্যে দিয়ে একটি মিশ্র সপ্তাহ পার করেছে শেয়ার বাজার।

সপ্তাহের প্রথম দুই দিন বাজারে লেনদেন কম ছিল। বিনিয়োগকারীরা যমুনার শেয়ার কেনার জন্য তহবিল ধরে রাখায় বাজার নিস্তেজ থাকে। তবে মঙ্গলবার কিছুটা লেনদেন বাড়ায় বাজারে মূল্য সূচকের সামান্য উন্নতি হয়। ৯ জানুয়ারি যমুনার শেয়ার বাজারে প্রবেশের পর পরই বাজার বেশ চাঙা হয়ে ওঠে এবং চাঙাভাবেই সপ্তাহ শেষ করে।

লেনদেন আগের সপ্তাহের ৪৯৩ কোটি টাকা থেকে ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়ে গত সপ্তাহে ৫৪৫ কোটি টাকায় পৌঁছায়। তবে গড় দৈনিক লেনদেন ১২৩ কোটি টাকা থেকে ১১ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে ১০৯ কোটি টাকা হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বাজার মূলধনের পরিমাণ ৬ জানুয়ারিতে ছিল ৭৫ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা যা বেড়ে ১০ জানুয়ারিতে ৭৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা হয়েছে। গত সপ্তাহে লেনদেনকারী ২৫১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৫টির দাম বেড়েছে, কমেছে ১০২টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১৪টির শেয়ারের দাম। ৩১টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়নি।

ডিজিইএন বা শেয়ারের সাধারণ মূল্য সূচক সপ্তাহের শুরুতে ছিল ২৯৭৯ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট যা সপ্তাহের শেষে দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়ে ২৯৯৩ দশমিক ১৬ পয়েন্টে পৌঁছায়। ডিএসআই বা সার্বিক শেয়ার সূচক ২৫০৮ দশমিক ১৩ পয়েন্ট থেকে দশমিক ৫৮ শতাংশ বেড়ে ২৫২২ দশমিক ৭৪ পয়েন্টে সপ্তাহ শেষ করে।

লেনদেন তালিকার শীর্ষ পাঁচে ছিল আইএফআইসি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ইউসিবিএল, স্কয়ার ফার্মা ও সামিট পাওয়ার।

গেল সপ্তাহের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল পুঁজিবাজারে রাষ্ট্রয়ত্ত যমুনা অয়েল কোম্পানির শেয়ারের অন্তর্ভুক্তি। বাজারে প্রবেশের প্রথম দিনেই ডিএসইতে প্রতিষ্ঠানটির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের দাম বেড়ে সর্বোচ্চ ৯৫২ টাকায় পৌঁছায়। পরে অবশ্য ৬০০ টাকায় দিন শেষ করে। এছাড়া চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার ওই দিন সর্বোচ্চ ৭৮০ টাকা ১০ পয়সা হয়।

ডিএসইতে যমুনার এক লাখ ৫৮ হাজার ২০০টি শেয়ার বিক্রি হয় এবং সিএসইতে বিক্রি হয় ১৬ হাজার ৪০০টি শেয়ার। সরকার প্রতিষ্ঠানটির ৩০ শতাংশ শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার তহবিল গঠনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। তবে এর মধ্যেই মাত্র ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা উঠেছে।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা লেনদেনে অংশ না নেওয়ায় যমুনার শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ইয়াওয়ের সাইদ বলেন, "খুচরা বিনিয়োগকারীরা খুবই অস্বাভাবিক আচরণ করেছেন, তারা অস্বাভাবিক বেশি দামে যমুনার শেয়ার কিনেছেন। শেয়ারের এই দাম প্রতিষ্ঠানটির মূলনীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।"

এদিকে যমুনার শেয়ার ছাড়ার দ্বিতীয় দিনে ১০ জানুয়ারি মাত্র ৭ হাজার ৬০০ শেয়ার বিক্রি হয়। প্রতিষ্ঠানটি আগের দিনের চেয়ে কম দামে শেয়ার বিক্রি করতে অনাগ্রহী হওয়ায় বিক্রি কমে যায়। ওই দিন ঢাকার শেয়ার বাজারে ৫৫১ টাকায় দিন শুরু করে ৫২৯ টাকায় দিন শেষ করে। আর চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারে দিনশেষে দাম ছিল ৫৩২ টাকা ৬০ পয়সা।

আগামী রোববার যমুনার শেয়ার বিক্রি স্থগিত থাকবে এবং সোমবার থেকে স্বাভাবিকভাবে লেনদেন চলবে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। ডেসকো ও বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির পর তৃতীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুঁজিবাজারে শেয়ার ছেড়েছে যমুনা অয়েল কোম্পানি।

এছাড়া ১৪ জানুয়ারি সরকারি চতুর্থ প্রতিষ্ঠান হিসেবে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের শেয়ারও আসছে পুঁজিবাজারে।