ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

বিক্রির চাপে মন্দার মধ্যে সপ্তাহ শুরু করলো শেয়ার বাজার

Rate this item
(0 votes)

ঢাকা, জুলাই ২৯ - বিদ্যুৎ, ব্যাংক ও ওষুধ খাতের শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ায় সপ্তাহের শুরুতেই মন্দার মুখে পড়েছে পুঁজিবাজার। রোববার দিন শেষে ঢাকা শেয়ার বাজারের সবগুলো সুচকই ছিল নিম্নগামী।

পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞরা জানান, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সেচেঞ্জ কমিশনের বৈঠকে আর্থিক সমন্বয় সুবিধা প্রত্যাহারের কারণেই বাজার পড়ে গেছে। এছাড়া ওই বৈঠকে ঋণ সুবিধা কমিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছিলেন বিনিয়োগকারীরা। এ কারণে সকালেই লেনদেনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দুপুরের দিকে বাজার কিছুটা চাঙ্গা হলেও মন্দার মধ্য দিয়েই

দিন শেষ করে শেয়ার বাজার।

এআইএমএস বাংলাদেশ এর প্রধান ইওয়ার সাইদ বলেন, "ঋণ সুবিধার ক্ষেত্রে এসইসি কঠোর অবস্থান নিতে পারে বিনিয়োগকারীদের এমন আশঙ্কা লেনদেনে প্রভাব ফেলেছে। এমনিতে বাজার স্বভাবিক রয়েছে।"

এছাড়া সকালের বৈঠকে এসইসি 'বি', 'জি', ও 'এন' শ্রেণীর শেয়ারের ক্ষেত্রে আর্থিক সমন্বয় সুবিধা তুলে নেওয়ার কারণে লেনদেন কমে যায়। আর্থিক সমন্বয় সুবিধা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা আগে কিছু শেয়ার বিক্রির পর পাওনা টাকার ভিত্তিতে একই দিনে নতুন শেয়ার কিনতে পারতেন। কিন্তু এসইসি এই সুবিধা প্রত্যাহার করায় এখন থেকে বিনিয়োগকারীদের বিক্রি করা শেয়ারের নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। বর্তমানে একটি শেয়ারের লেনদেন চতুর্থ দিনে নিষ্পত্তি হয়।

এ প্রসঙ্গে ডিএসই'র প্রধান নির্বাহী সালাহউদ্দীন আহমেদ খান বলেন, "আর্থিক সমন্বয় সুবিধা তুলে নেওয়ার কারণেও লেনদেন কমতে পারে। তবে আমাদের আরও দুএক দিন পর্যবেক্ষণ করতে হবে।"

রোববার দিনশেষে ডিজিইএন বা সাধারণ শেয়ার সূচক ১১ দশমিক ০১ পয়েন্ট বা দশমিক ৪৫ শতাংশ কমে ২৩৯০ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট হয়।

এছাড়া ডিএসআই বা সার্বিক শেয়ার সূচক ১০ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট বা দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে ১৯৩৩ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট হয়।

এছাড়া ডিএসই-২০ ব্লুচিপ শেয়ার সূচক ১৮ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট বা দশমিক ৮৫ শতাংশ কমে ২২০০ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট হয়।

দিনশেষে ঢাকা স্টক এক্সেচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৯৩ কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার ২৪৬ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল।

ডিএসইতে ৮০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ১০৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২০টির দাম।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সেচেঞ্জেও (সিএসই) সব শেয়ার সূচক ছিল নিুমুখী।

সিএসইতে রোববার ২৫ কোটি ২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। বৃহস্পতিবার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

সিএসইতে ৩৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, ৫২টির দাম কমেছে এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত ছিল।

লভ্যাংশ তুলে নেওয়ায় রোববার লেনদেনের তালিকার শীর্ষে থাকা স্কয়ার ফার্মার শেয়ারের দাম কমেছে। তাদের শেয়ারের দাম এক দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে হয়েছে ৫৪০৭ টাকা ২৫ পয়সা। স্কয়ার টেক্সটাইলের শেয়ার ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ কমে ১১২ টাকা ৯০ পয়সা হয়।

ব্লক মার্কেটে লেনদেনের কারণে সাউথ ইস্ট ব্যাংকের শেয়ারের দাম দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে ৫৬৮ টাকা ৭৫ পয়সা হয়।

ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ারের দাম ২ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ৮৯৬ টাকা ২৫ পয়সা হয়। গত বছরের তুলনায় তাদের ষান্মাসিক মুনাফা দ্বিগুণ হয়েছে।

ন্যাশনাল ব্যাংকের শেয়ার এক দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে ৯৬৮ টাকা ২৫ পয়সা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ষান্মাসিক প্রতিবেদনে লভ্যাংশ বাড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া এপেক্স ফুটওয়্যার, বিওসি বাংলাদেশ, ঢাকা ব্যাংক, বার্জার পেইন্ট বাংলাদেশ, রেকিট বেনকিজার, ইসলামী ফাইন্যান্স, রিলায়েন্স ইন্সুরেন্স, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স, এক্সিম ব্যাংক ও আইডিএলসি তাদের ষান্মাসিক প্রতিবেদনে লভ্যাংশ বাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।

এদের ভেতর ঢাকা ব্যাংক, ইসলামী ফাইন্যান্স ও এক্সিম ব্যাংকের শেয়ারের দাম কমেছে। বাকিদের শেয়ারের দাম বেড়েছে।

ষান্মাসিক প্রতিবেদনে লভ্যাংশ কমার ঘোষণায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও আল-আরাফা ব্যাংকেরও শেয়ারের দাম কমেছে।

Last modified on Saturday, 08 March 2014 10:05