ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

৯১ শতাংশ পরিচালকের হাতে সময় ৩ মাস

Rate this item
(0 votes)

ঢাকা, ফেব্র“য়ারি ১৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ন্যূনতম শেয়ার ধারণ করার বাধ্যবাধকতার বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্দেশনা মেনে গত তিন মাসে শেয়ার কেনা, হস্তান্তর ও উপহারের ঘোষণা দিয়েছেন ৯ শতাংশ উদ্যোক্তা-পরিচালক।

বাকি ৯১ শতাংশ উদ্যোক্তা-পরিচালক নির্দেশনা পালনের জন্য সময় পাচ্ছেন প্রায় তিন মাস বা ৬৬ কার্যদিবস।

এ সময়ের মধ্যে উদ্যোক্তা, পরিচালকরা কেনা শুরু করলে শেয়ারের চাহিদা

বাড়ার পাশাপাশি বাজারে নতুন অর্থের প্রবাহ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসইসির নির্দেশনা পালনের সময়সীমা ২১ মে। এ সময়ের মধ্যেই নির্দেশনা মেনে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ন্যুনতম শেয়ার ধারণের বিষয়ে সরকারের অনঢ় অবস্থানের কথা ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে গত ২২ নভেম্বর বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে সম্মিলিতভাবে ওই কোম্পানির ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে।

এ শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওই কোম্পানির কোনো উদ্যোক্তা, পরিচালক শেয়ার হস্তান্তর ও বিক্রি করতে পারবেন না এবং ওই কোম্পানি রাইট শেয়ার বা রিপিট পাবলিক অফারের (আরপিও) মাধ্যমে মূলধন বাড়াতে পারবে না।

এসইসির নির্দেশনায় আরো বলা হয়, ‘ইন্ডিপেনডেন্ট’ পরিচালক ছাড়া সব পরিচালকের কাছে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ন্যুনতম ২ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে। ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই কোম্পানিতে ওই পরিচালকের পদ শূন্য হবে এবং ৫ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ার ধারণকারী ওই কোম্পানির পরিচালক মনোনীত হবেন।

উদ্যোক্তা, পরিচালকদের শেয়ার ধারণের বিষয়ে গত ১৩ ডিসেম্বর একটি তালিকা প্রকাশ করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

ওই তালিকা অনুযায়ী, ২ শতাংশের কম শেয়ার আছে এমন উদ্যোক্তা পরিচালকের সংখ্যা ১৪৯১ জন। আর উদ্যোক্তা- পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশের কম শেয়ার আছে, এমন কোম্পানির সংখ্যা ৩৭টি।

ডিএসই ওয়েবসাইট এবং প্রকাশনা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ নভেম্বর থেকে সোমবার পর্যন্ত শেয়ার কেনার আদেশ দিয়েছেন ১৩২ জন উদ্যোক্তা, পরিচালক। শেয়ার হস্তান্তর করেছেন ৬ জন এবং উপহার নিয়েছেন ৮ জন।

অর্থাৎ গত তিন মাসে ৯ শতাংশ পরিচালকের শেয়ার কেনা ও হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বাজার সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বলেছেন, উদ্যোক্তারা-পরিচালকরা তো বসে নেই। তারা শেয়ার কেনার ঘোষণা দিলে দাম বেড়ে যাবে এজন্য হয়তো সন্তান বা স্ত্রীর নামে কিনে পরে উপহার বা হস্তান্তরের মাধ্যমে নিজের নামে করে নেবেন।

সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশের কম ধারণ করা কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের মধ্যে শেয়ার কেনার আদেশ দিয়েছেন অল্প কয়েকজন পরিচালক।

ডিএসইর হিসাব অনুযায়ী, শাইনপুকুর সিরামিকসের উদ্যোক্তা, পরিচালকরা সম্মিলিতভাবে সবচেয়ে কম শেয়ার ধারণ করছেন। কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে শেয়ার রয়েছে শুন্য শতাংশ। এসইসির নির্দেশনার পরও কোম্পানিটির কোনো উদ্যোক্তা-পরিচালক শেয়ার কেনার আদেশ দেননি।

এরপরই ইনটেক অনলাইনের উদ্যোক্তা, পরিচালকদের কাছে সম্মিলিতভাবে কোম্পানিটির ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ শেয়ার আছে। এ কোম্পানির কোনো উদ্যোক্তা, পরিচালক এখনও শেয়ার কেনার আদেশ দেননি।

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের উদ্যোক্তা, পরিচালকদের কাছে সম্মিলিতভাবে কোম্পানিটির ২ দশমিক ৭০ শতাংশ শেয়ার আছে। কোম্পানিটির উদ্যোক্তা-পরিচালক সালমান এফ রহমান ৫ লাখ শেয়ার কিনেছেন।

অ্যাপেক্স অ্যাডেলচি ফুটওয়ারের উদ্যোক্তা, পরিচালকরা সম্মিলিতভাবে কোম্পানিটির ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ শেয়ার ধারণ করছেন। কোম্পানিটির কোনো উদ্যোক্তা-পরিচালক এখনও শেয়ার কেনার আদেশ দেননি।

ফুওয়াং ফুডের উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে কোম্পানিটির ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ শেয়ার আছে। এসইসির নির্দেশনার পর কোম্পানিটির ২ জন পরিচালক মাত্র ১ লাখ ১০ হাজার শেয়ার কিনেছেন। কোম্পানিটির ১৩ উদ্যোক্তা-পরিচালকের ২ শতাংশের নিচে শেয়ার রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শেয়ারের দাম এখন যথেষ্ঠ কম। আশা করি, উদ্যোক্তা-পরিচালকরা শেয়ার কিনতে এগিয়ে আসবেন।”

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান বলেন, “উদ্যোক্তা-পরিচালকরা বেশি দামে শেয়ার বিক্রি করেছেন। এখন কম মূল্যে তাদের শেয়ার কিনতে হবে। এতে বাজারে শেয়ারের চাহিদাও বাড়বে। পাশাপাশি নতুন অর্থও বাজারে আসবে। যারা কিনতে চান না, তাদের উচিৎ হবে, ঘোষণা দিয়ে পরিচালক পদ ছেড়ে দেওয়া।”

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক সভাপতি ফখরউদ্দিন আলী আহমেদ বলেন, “উদ্যোক্তা, পরিচালকদের শেয়ার কেনার সময় যত ফুরিয়ে আসছে বাজার ততই স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে।”

Last modified on Saturday, 08 March 2014 10:05