ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

কৃষি ব্যাংকের ৫২ লাখ টাকা মেরে পরিদর্শক উধাও

Rate this item
(0 votes)

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের শেরপুর শাখা থেকে ৫২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একই ব্যাংকে কর্মরত মিজানুর রহমান নামের এক পরিদর্শকের বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে  কৃষি ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক রবিউল ইসলামকে প্রধান করে ৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ ছাড়া কৃষি ব্যাংকের শেরপুর শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ মতিউর রহমান বাদী হয়ে সোমবার গভীর রাতে শেরপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, শেরপুর শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ মতিউর রহমান জানান, ব্যাংকের ওই পরিদর্শক ও আওয়ামী লীগপন্থি সিবিএর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ঋণ আদায়ের ৫২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে গত ১৬ দিন ধরে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

ঘটনাটি জানার পর গত ৭ এপ্রিল সোমবার ব্যাংকের ময়মনসিংহ অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সামছুল আলম শেরপুরের ওই শাখায় গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পান।

কৃষি ব্যাংকএ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন ছাড়াও ওই পরিদর্শকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেন।

ব্যাংকের অন্যান্য সূত্র জানায়, টাকা আত্মসাতের দায়ে অভিযুক্ত  মিজানুর রহমান প্রায় ৪ বছর ধরে  কৃষি ব্যাংকের শেরপুর শাখায় কর্মরত রয়েছেন। তিনি শেরপুর সদর উপজেলার বেতমারী, ঘুঘুরাকান্দি এবং পৌর এলাকার তাতালপুর, মোবারকপুর, মিরগঞ্জ, নৌহাটা, গৌরীপুর, সজবরখিলা এলাকায় ঋণ বিতরণ ও আদায়ের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন।

২৩ এপ্রিল থেকে পরিদর্শক মিজানুর রহমান ব্যাংকে অনুপস্থিত থাকায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে ও সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যার্থ হন।

এতে ব্যবস্থাপকের সন্দেহ হলে তিনি মিজানুরের দীর্ঘদিনের ঋণ আদায় হিসাব খতিয়ে দেখেন। সেখানে তিনি ব্যাপক গড়মিল লক্ষ্য করেন। পরে বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান।

মঙ্গলবার শহরের নবীনগরে অভিযুক্ত পরিদর্শক মিজানুর রহমানের বাসায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী ফরিদা ইয়াছমিন ও বোন রেনু বেগম  জানান,  মিজানুর রহমান কোথায় গিয়েছেন, তা তারা জানেন না।

তবে ব্যাংকের টাকার গোলমাল হয়েছে বলে তাদেরকে মিজানুর জানিয়েছেন বলে তারা জানান। তাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনেও মিজানুরের কোনো যোগযোগ হচ্ছে না।

শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাজহারুল করিম বলেন, অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত চলছে।

 

 

 

Last modified on Tuesday, 08 April 2014 20:49